বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাসের অপেক্ষায় ২৪ ঘণ্টা, পাম্পেই রাত কাটাচ্ছেন চালকরা

সিরাজগঞ্জ শহরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা, হাইয়েস ও বাসের চালকরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে অনেক চালক গাড়ি রেখেই বাড়ি কিংবা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার গ্যাসের আশায় অটোরিকশা ও বাসের ভেতরে শুয়ে পাম্পেই রাত কাটাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশন ‘এ্যালবাট্রস এনার্জি লিমিটেড’-এ গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চালকদের কেউ ১৮ ঘণ্টা, কেউ ২৪ ঘণ্টা আবার কেউ ২৮ ঘণ্টা ধরে গ্যাসের অপেক্ষায় আছেন।

এনায়েতপুর-বেলকুচি রুটের সিএনজি অটোরিকশার চালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, “বুধবার সকাল ১২টায় পাম্পে এসে সিরিয়াল দিয়েছি। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাস পাইনি। ২৬ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। আমরা দিন আনি দিন খাই। গাড়ি না চালাতে পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

ধানগড়া-কাঠেরপুল রুটের চালক আয়েজ উদ্দিন বলেন, “২৭ ঘণ্টা ধরে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছি। বাসা অনেক দূরে হওয়ায় রাতে অটোরিকশার মধ্যেই ঘুমিয়েছি। কখন গ্যাস পাব, তারও নিশ্চয়তা নেই।”

সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দ রুটের চালক শফিক বলেন, “২৮ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। গ্যাস না পাওয়ায় গতকাল চালকরা সড়ক অবরোধও করেছিলেন। পরে আশ্বাস পেয়ে আবার পাম্পে এসে সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছি। রাতটাও সিএনজির ভেতরেই কাটিয়েছি।”

মাইক্রোবাস চালক মিন্টু শেখ বলেন, “গ্যাস নিতে এসে পাইনি। তাই, গাড়ি পরিষ্কার করে সময় কাটাচ্ছি।”

বাসচালক মো. পারভেজ জানান, গতকাল সিরিয়াল দিয়ে রাত বাসের মধ্যেই কাটিয়েছেন। এখন পর্যন্ত গ্যাসের দেখা মেলেনি।

এ্যালবাট্রস এনার্জি লিমিটেডের ক্যাশ কাউন্টারে দায়িত্বরত মো. পলাশ বলেন, “বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সারা দেশেই গ্যাসের সংকট চলছে। সরবরাহ পেলেই যানবাহনে গ্যাস দেওয়া হবে।”

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “দ্রুতই গ্যাস সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে সংকট থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, গ্যাস না পেয়ে বুধবার সিএনজি অটোরিকশার চালকরা সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে মালিক সমিতির নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়ে পুনরায় পাম্পে সিরিয়ালে দাঁড়ান তারা।

সিরাজগঞ্জ জেলা সিএনজি অটো টেম্পু মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, “সারা দেশে গ্যাস সংকটের প্রভাব সিরাজগঞ্জেও পড়েছে। এ কারণে চালকরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পাম্প মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

গ্যাসের অপেক্ষায় ২৪ ঘণ্টা, পাম্পেই রাত কাটাচ্ছেন চালকরা

প্রকাশিত সময় : ০৫:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জ শহরের একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা, হাইয়েস ও বাসের চালকরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে অনেক চালক গাড়ি রেখেই বাড়ি কিংবা অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার গ্যাসের আশায় অটোরিকশা ও বাসের ভেতরে শুয়ে পাম্পেই রাত কাটাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সিএনজি ফিলিং স্টেশন ‘এ্যালবাট্রস এনার্জি লিমিটেড’-এ গিয়ে দেখা গেছে, গ্যাসের জন্য বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চালকদের কেউ ১৮ ঘণ্টা, কেউ ২৪ ঘণ্টা আবার কেউ ২৮ ঘণ্টা ধরে গ্যাসের অপেক্ষায় আছেন।

এনায়েতপুর-বেলকুচি রুটের সিএনজি অটোরিকশার চালক মো. আনোয়ার হোসেন বলেছেন, “বুধবার সকাল ১২টায় পাম্পে এসে সিরিয়াল দিয়েছি। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত গ্যাস পাইনি। ২৬ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। আমরা দিন আনি দিন খাই। গাড়ি না চালাতে পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।”

ধানগড়া-কাঠেরপুল রুটের চালক আয়েজ উদ্দিন বলেন, “২৭ ঘণ্টা ধরে গ্যাসের জন্য অপেক্ষা করছি। বাসা অনেক দূরে হওয়ায় রাতে অটোরিকশার মধ্যেই ঘুমিয়েছি। কখন গ্যাস পাব, তারও নিশ্চয়তা নেই।”

সিরাজগঞ্জ-কামারখন্দ রুটের চালক শফিক বলেন, “২৮ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছি। গ্যাস না পাওয়ায় গতকাল চালকরা সড়ক অবরোধও করেছিলেন। পরে আশ্বাস পেয়ে আবার পাম্পে এসে সিরিয়ালে দাঁড়িয়েছি। রাতটাও সিএনজির ভেতরেই কাটিয়েছি।”

মাইক্রোবাস চালক মিন্টু শেখ বলেন, “গ্যাস নিতে এসে পাইনি। তাই, গাড়ি পরিষ্কার করে সময় কাটাচ্ছি।”

বাসচালক মো. পারভেজ জানান, গতকাল সিরিয়াল দিয়ে রাত বাসের মধ্যেই কাটিয়েছেন। এখন পর্যন্ত গ্যাসের দেখা মেলেনি।

এ্যালবাট্রস এনার্জি লিমিটেডের ক্যাশ কাউন্টারে দায়িত্বরত মো. পলাশ বলেন, “বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সারা দেশেই গ্যাসের সংকট চলছে। সরবরাহ পেলেই যানবাহনে গ্যাস দেওয়া হবে।”

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “দ্রুতই গ্যাস সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে সংকট থাকায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে গ্যাস সরবরাহের বর্তমান পরিস্থিতি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে, গ্যাস না পেয়ে বুধবার সিএনজি অটোরিকশার চালকরা সিরাজগঞ্জ-নলকা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে মালিক সমিতির নেতাদের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিয়ে পুনরায় পাম্পে সিরিয়ালে দাঁড়ান তারা।

সিরাজগঞ্জ জেলা সিএনজি অটো টেম্পু মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সুমন বলেন, “সারা দেশে গ্যাস সংকটের প্রভাব সিরাজগঞ্জেও পড়েছে। এ কারণে চালকরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পাম্প মালিকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”