মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসি-রোনালদোদের প্রিয় খেলা এখন অলিম্পিকের পথে

আপনার লিওনেল মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পছন্দ, তাহলে আপনার পছন্দের খেলার উত্তরটা বেশ সহজ, ফুটবল। তবে যদি জিজ্ঞেস করেন মেসি-রোনালদোদের পছন্দের খেলা কোনটা, সেই উত্তরটা অনুমান করাটা কিছুটা কঠিন, কারণ তাদের পছন্দের খেলার নামটা হয়তো শোশেননি অনেকেই, ‘প্যাডেল’। এই খেলাটা টেনিস সেনসেশন কার্লোস আলকারাজেরও পছন্দের।

তবে হুট করেছে এই খেলার শিরোনামে বনে যাওয়ার কারণটাও একেবারে ছোট নয়। টেনিস আর স্কোয়াশের মারপ্যাঁচে তৈরি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই র‍্যাকেট খেলাটি এবার পা রাখল মহাদেশীয় ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ এশিয়ান গেমসে, যা একে নিয়ে গেছে অলিম্পিকের একেবারে কাছাকাছি।

লাতিন আমেরিকার মাটি থেকে জন্ম নেওয়া এই খেলাটি গত এক দশকে ইউরোপসহ সারা বিশ্বে এক প্রকার ঝড় তুলেছে। ১৭০টি দেশ ও অঞ্চলে প্রায় ৮৫ হাজার কোর্টে কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে বিকশিত হওয়া প্যাডেল জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের পদক ইভেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক সুর বেজে উঠেছে।

জাপানের হিগাসি স্পোর্টস সেন্টারে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের ভিড় আর উন্মাদনা প্রমাণ করে যে নতুন এই ডিসিপ্লিনটি দর্শকমন জয় করতে শুরু করেছে। নিজের দ্বৈত জুটি ডানা আবাদের সঙ্গে উদ্বোধনী ম্যাচ জিতে সংবাদসংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিপাইনের খেলোয়াড় জোশিয়া মালাজার্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘প্যাডেল ইউরোপে খুবই জনপ্রিয়, আর এখানে মাত্র শুরু হচ্ছে, তাই আমরা আনন্দিত যে তারা প্যাডেল যুক্ত করেছে।’

প্যাডেলের কাঠামোগত ভিন্নতা একে সাধারণ টেনিস থেকে আলাদা করেছে। কাঁচের দেওয়ালে ঘেরা ছোট কোর্টে শক্ত র‍্যাকেট দিয়ে খেলা এই ডিসিপ্লিনকে কেবল শক্তির লড়াই নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার খেলা হিসেবে দেখেন খেলোয়াড়রা। ফিলিপাইনের সেই মালাজার্তে খেলাটির কৌশলগত গভীরতা বোঝাতে গিয়ে আরও বলেন, ‘এটি অনেকটা দাবা খেলার মতো। পয়েন্ট পেতে হলে কোণ বা অ্যাঙ্গেল তৈরি করতে হয়, হুটহাট করে পয়েন্ট পাওয়া যায় না।’

বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে অবশ্য প্যাডেলের উন্মাদনা এখন আকাশচুম্বী। সম্প্রতি প্যারিসের বিখ্যাত রোলাঁ গারো টেনিস স্টেডিয়ামে আয়োজিত পেশাদার টুর্নামেন্টে ৮০ হাজারের বেশি দর্শক সমাগম হয়েছিল।

২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে পিটার লিমের যুব স্কলারশিপ অনুষ্ঠানে প্যাডেল খেলেন রোনালদো, ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে পিটার লিমের যুব স্কলারশিপ অনুষ্ঠানে প্যাডেল খেলেন রোনালদো, ছবি: সংগৃহীত

মেসি ও রোনালদোর মতো তারকারা নিয়মিত এই খেলা খেলতে ও দেখতে অংশ নেওয়ায় এর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেড়ে গেছে। কুয়েতের খেলোয়াড় মারিয়াম আল-সারাজ গ্যালারির এই উপচে পড়া ভিড় নিয়ে বলেন, ‘যখন আমি সরাসরি টুর্নামেন্টগুলো দেখি, প্রথম রাউন্ড থেকেই প্রতি বছর দর্শকসংখ্যা বাড়ছে। এখন গ্যালারি প্রায় পুরোপুরি পূর্ণ থাকে, তাই আমার মনে হয় মানুষ এটি দেখতে পছন্দ করে।’

গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করা স্থানীয় দর্শকদের মধ্যেও দেখা গেছে দারুণ কৌতূহল। জাপানের ষাটোর্ধ্ব দর্শক ইউকো হিরাইওয়া হিগাসি স্পোর্টস সেন্টারে বসে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, ‘আমি নিজে প্যাডেল খেলি, তবে সরাসরি দেখা এই প্রথম। খেলাটি সত্যিই বেশ রোমাঞ্চকর।’

ইউরোপিয়ান গেমসের সফল মঞ্চ পেরিয়ে প্যাডেলের চূড়ান্ত লক্ষ্য এখন অলিম্পিকের সোনালী তোরণ। আন্তর্জাতিক প্যাডেল ফেডারেশনের (আইপিএফ) কর্মকর্তা ডোনাটেলা দেল গাউদিও অলিম্পিকের স্বপ্নপূরণের এই পথচলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা এটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, পরিশ্রমী হতে হবে এবং অলিম্পিকের সময়সীমাকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে।’

এশিয়ান গেমসের মতো আসরে প্যাডেলের এই ঐতিহাসিক অভিষেককে বিশ্বজুড়ে খেলার প্রসারের অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে প্যাডেলের এই আত্মপ্রকাশ আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এটি বিশ্বজুড়ে প্যাডেলের প্রসারের বড় প্রমাণ এবং অলিম্পিকের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মেসি-রোনালদোদের প্রিয় খেলা এখন অলিম্পিকের পথে

প্রকাশিত সময় : ০৫:১০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আপনার লিওনেল মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পছন্দ, তাহলে আপনার পছন্দের খেলার উত্তরটা বেশ সহজ, ফুটবল। তবে যদি জিজ্ঞেস করেন মেসি-রোনালদোদের পছন্দের খেলা কোনটা, সেই উত্তরটা অনুমান করাটা কিছুটা কঠিন, কারণ তাদের পছন্দের খেলার নামটা হয়তো শোশেননি অনেকেই, ‘প্যাডেল’। এই খেলাটা টেনিস সেনসেশন কার্লোস আলকারাজেরও পছন্দের।

তবে হুট করেছে এই খেলার শিরোনামে বনে যাওয়ার কারণটাও একেবারে ছোট নয়। টেনিস আর স্কোয়াশের মারপ্যাঁচে তৈরি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই র‍্যাকেট খেলাটি এবার পা রাখল মহাদেশীয় ক্রীড়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ এশিয়ান গেমসে, যা একে নিয়ে গেছে অলিম্পিকের একেবারে কাছাকাছি।

লাতিন আমেরিকার মাটি থেকে জন্ম নেওয়া এই খেলাটি গত এক দশকে ইউরোপসহ সারা বিশ্বে এক প্রকার ঝড় তুলেছে। ১৭০টি দেশ ও অঞ্চলে প্রায় ৮৫ হাজার কোর্টে কোটি কোটি মানুষের অংশগ্রহণে বিকশিত হওয়া প্যাডেল জাপানের নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের পদক ইভেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করায় বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নতুন এক সুর বেজে উঠেছে।

জাপানের হিগাসি স্পোর্টস সেন্টারে খেলা দেখতে আসা দর্শকদের ভিড় আর উন্মাদনা প্রমাণ করে যে নতুন এই ডিসিপ্লিনটি দর্শকমন জয় করতে শুরু করেছে। নিজের দ্বৈত জুটি ডানা আবাদের সঙ্গে উদ্বোধনী ম্যাচ জিতে সংবাদসংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিলিপাইনের খেলোয়াড় জোশিয়া মালাজার্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘প্যাডেল ইউরোপে খুবই জনপ্রিয়, আর এখানে মাত্র শুরু হচ্ছে, তাই আমরা আনন্দিত যে তারা প্যাডেল যুক্ত করেছে।’

প্যাডেলের কাঠামোগত ভিন্নতা একে সাধারণ টেনিস থেকে আলাদা করেছে। কাঁচের দেওয়ালে ঘেরা ছোট কোর্টে শক্ত র‍্যাকেট দিয়ে খেলা এই ডিসিপ্লিনকে কেবল শক্তির লড়াই নয়, বরং বুদ্ধিমত্তার খেলা হিসেবে দেখেন খেলোয়াড়রা। ফিলিপাইনের সেই মালাজার্তে খেলাটির কৌশলগত গভীরতা বোঝাতে গিয়ে আরও বলেন, ‘এটি অনেকটা দাবা খেলার মতো। পয়েন্ট পেতে হলে কোণ বা অ্যাঙ্গেল তৈরি করতে হয়, হুটহাট করে পয়েন্ট পাওয়া যায় না।’

বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে অবশ্য প্যাডেলের উন্মাদনা এখন আকাশচুম্বী। সম্প্রতি প্যারিসের বিখ্যাত রোলাঁ গারো টেনিস স্টেডিয়ামে আয়োজিত পেশাদার টুর্নামেন্টে ৮০ হাজারের বেশি দর্শক সমাগম হয়েছিল।

২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে পিটার লিমের যুব স্কলারশিপ অনুষ্ঠানে প্যাডেল খেলেন রোনালদো, ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ সালে সিঙ্গাপুরে পিটার লিমের যুব স্কলারশিপ অনুষ্ঠানে প্যাডেল খেলেন রোনালদো, ছবি: সংগৃহীত

মেসি ও রোনালদোর মতো তারকারা নিয়মিত এই খেলা খেলতে ও দেখতে অংশ নেওয়ায় এর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বেড়ে গেছে। কুয়েতের খেলোয়াড় মারিয়াম আল-সারাজ গ্যালারির এই উপচে পড়া ভিড় নিয়ে বলেন, ‘যখন আমি সরাসরি টুর্নামেন্টগুলো দেখি, প্রথম রাউন্ড থেকেই প্রতি বছর দর্শকসংখ্যা বাড়ছে। এখন গ্যালারি প্রায় পুরোপুরি পূর্ণ থাকে, তাই আমার মনে হয় মানুষ এটি দেখতে পছন্দ করে।’

গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করা স্থানীয় দর্শকদের মধ্যেও দেখা গেছে দারুণ কৌতূহল। জাপানের ষাটোর্ধ্ব দর্শক ইউকো হিরাইওয়া হিগাসি স্পোর্টস সেন্টারে বসে খেলা দেখার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জানান, ‘আমি নিজে প্যাডেল খেলি, তবে সরাসরি দেখা এই প্রথম। খেলাটি সত্যিই বেশ রোমাঞ্চকর।’

ইউরোপিয়ান গেমসের সফল মঞ্চ পেরিয়ে প্যাডেলের চূড়ান্ত লক্ষ্য এখন অলিম্পিকের সোনালী তোরণ। আন্তর্জাতিক প্যাডেল ফেডারেশনের (আইপিএফ) কর্মকর্তা ডোনাটেলা দেল গাউদিও অলিম্পিকের স্বপ্নপূরণের এই পথচলা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা এটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি। আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে, পরিশ্রমী হতে হবে এবং অলিম্পিকের সময়সীমাকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে।’

এশিয়ান গেমসের মতো আসরে প্যাডেলের এই ঐতিহাসিক অভিষেককে বিশ্বজুড়ে খেলার প্রসারের অনন্য মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, ‘এশিয়ান গেমসে প্যাডেলের এই আত্মপ্রকাশ আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। এটি বিশ্বজুড়ে প্যাডেলের প্রসারের বড় প্রমাণ এবং অলিম্পিকের দিকে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।’