দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন লিওনেল মেসি। আকাশি-নীল জার্সিতে বিশ্ব ফুটবলের এই মহাতারকার শেষ ম্যাচ ঘিরে এখন থেকেই আবেগে ভাসছে আর্জেন্টিনা। ৬ অক্টোবর বুয়েনস আইরেসের রিভার প্লেটের ঐতিহাসিক এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে শেষবারের মতো জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামবেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি।
৮৫ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার মনুমেন্টালে মেসির বিদায়ী ম্যাচ দেখতে প্রস্তুত আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। সাথে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এক অবিশ্বাস্য অধ্যায়ের শেষ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।
বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনিও মেসির বিদায় নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। মনুমেন্টালের টিকিটের চাহিদা বোঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি পাঁচটি মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামও থাকত, সবগুলো পূর্ণ হয়ে যেত। আমি সব জায়গা থেকে বার্তা পেয়েছি। হাহা। আমার মনে হয়, সবকিছু বলা হয়ে গেছে। এখন শুধু উপভোগ করার পালা।’
মেসির সান্নিধ্য পাওয়া যে কারোর জীবনেই অন্য মাত্রা যোগ করে। হোক সেটা নিজ দলের ফুটবলার কিংবা প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলার। কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনিও যেন এমনই একজন। অন্তত তার কথাতে তাই উঠে আসলো। মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে স্কালোনি বলেন, ‘আমি মনে করি সবাই আবেগপ্রবণ থাকবে। মেসিও থাকবে। সে যেদিন মনুমেন্টালের মাঠে পা রাখবে, সেদিনটি সবার জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার এই দিনের অংশ হতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।’
জাতীয় দলে মেসির শেষ সময়টুকুও উপভোগ করতে চান স্কালোনি। তিনি জানান, বেনিন ম্যাচের আগে দলের সঙ্গে মেসির আরও দুটি অনুশীলন সেশন রয়েছে। যতটুকু সময় বাকি, সেটুকু উপভোগ করাই এখন তাঁদের লক্ষ্য।
২০০৫ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেকের পর আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ২০৭ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। করেছেন রেকর্ড ১২৫ গোল। তাঁর নেতৃত্বেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আর্জেন্টিনা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ফিনালিসিমা এবং সবচেয়ে বড় সাফল্য কাতার বিশ্বকাপ।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির ২০৮তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। মেসির রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার নিয়েও কথা বলেছেন স্কালোনি। আর্জেন্টাইন কোচের মতে, মেসির সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো সবসময় দলের পাশে থাকার অদম্য ইচ্ছা।
স্কালোনি বলেন, ‘তার লিগ্যাসি হলো সবসময় সেখানে থাকার অদম্য ইচ্ছা। সে সবসময় সবার আগে আসত এবং সবার শেষে বের হতো। নিজের যত্ন নেওয়ার ধরন, প্রতিটি ম্যাচের জন্য প্রস্তুত হওয়ার পদ্ধতি, এসব অনেকের চোখে পড়ে না। কিন্তু তার সতীর্থরা এগুলো দেখেছে। এর চেয়ে ভালো উদাহরণ আর হতে পারে না।
স্কালোনির চোখে মেসির এই উত্তরাধিকারই সবচেয়ে মূল্যবান। তাঁর ভাষায়, ‘সে এমন কিছু রেখে যাচ্ছে, যার কোনো বিকল্প নেই।’
ম্যারাডোনার পর আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সিকে নিজের করে নিয়ে মেসি গড়েছেন আলাদা এক ইতিহাস। এবার সেই ইতিহাসের শেষ অধ্যায় লেখা হবে নিজের শহর ও দেশের মাটিতে, হাজারো সমর্থকের সামনে।

স্পোর্টস ডেস্ক/ ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 
























