শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘শয়তান মরেছে’, নানা পাটেকরকে নিয়ে তনুশ্রীর কটাক্ষ!

অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুতে বলিউডজুড়ে যখন শোক আর শ্রদ্ধার বার্তা তখন প্রয়াত অভিনেতাকে ‘শয়তানের মৃত্যু’ বলে কটাক্ষ করেছেন বলিউড অভিনেতা তনুশ্রী দত্ত। অভিনেত্রীর এমন মন্তব্যে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার শুটিংয়ে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। নায়িকার সে অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ২০১৮ সালে ভারতে মি-টু আন্দোলন শুরু হয়।

মৃত্যুর পর নানা পাটেকরকে যখন কিংবদন্তি হিসেবে স্মরণ করছেন অনেকে, তখন তার অতীত টেনে সরব হয়েছেন তনুশ্রী। একটি ইভেন্টে যোগ দিতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ইনস্টাগ্রাম ভিডিও বার্তায় নায়িকা বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমগুলো Evil Dead-কে নিয়ে ব্যস্ত। আমি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেবো ভেবে পাচ্ছি না। তবে হ্যাঁ, পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইলো।’

অভিনেত্রীর এমন মন্তব্য ঘিরে অন্তর্জালে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক। তবে এতে করে দমে যাননি তনুশ্রী। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমালোচকদের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তার প্রশ্ন- ‘কেউ মারা গেলেই কি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আর ভুক্তভোগীর যন্ত্রণা মুছে যায়?’

তনুশ্রীর দাবি, ২০০৮ সালে নানা পাটেকরের কাছে হেনস্তার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। ২০১৯ সালে মুম্বাই পুলিশ পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে যখন নানা পাটেকরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। নানা পাটেকর এটি নিজের প্রভাব খাটিয়ে এবং মূল সাক্ষীদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক মামলাটি বন্ধ করিয়েছিলেন। যে কারণে আদালত তাকে নির্দোষ প্রমাণ করেনি।

২০২০ সালের পর নানার মাধ্যমে তনুশ্রীকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। জীবনের কঠিন সময়ের জন্য দায়ী মানুষটার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে তাই নানা পাটেকরকে ‘শয়তান’ ও ‘মহাশয়তান’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।

যদিও তনুশ্রীর এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে এআইসিডব্লিউএ। সংস্থাটির সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্তের ভাষ্য, কারও মৃত্যুর পর তাকে ‘শয়তান’ বলে আক্রমণ করা আপত্তিকর, অসংবেদনশীল ও লজ্জাজনক।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজধানীতে ৪০টির বেশি চেকপোস্ট ও ২১ টহল দল মোতায়েন

‘শয়তান মরেছে’, নানা পাটেকরকে নিয়ে তনুশ্রীর কটাক্ষ!

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৮:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

অভিনেতা নানা পাটেকরের মৃত্যুতে বলিউডজুড়ে যখন শোক আর শ্রদ্ধার বার্তা তখন প্রয়াত অভিনেতাকে ‘শয়তানের মৃত্যু’ বলে কটাক্ষ করেছেন বলিউড অভিনেতা তনুশ্রী দত্ত। অভিনেত্রীর এমন মন্তব্যে নেটদুনিয়ায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার শুটিংয়ে নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। নায়িকার সে অভিযোগকে কেন্দ্র করেই ২০১৮ সালে ভারতে মি-টু আন্দোলন শুরু হয়।

মৃত্যুর পর নানা পাটেকরকে যখন কিংবদন্তি হিসেবে স্মরণ করছেন অনেকে, তখন তার অতীত টেনে সরব হয়েছেন তনুশ্রী। একটি ইভেন্টে যোগ দিতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকেই ইনস্টাগ্রাম ভিডিও বার্তায় নায়িকা বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমগুলো Evil Dead-কে নিয়ে ব্যস্ত। আমি কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেবো ভেবে পাচ্ছি না। তবে হ্যাঁ, পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা রইলো।’

অভিনেত্রীর এমন মন্তব্য ঘিরে অন্তর্জালে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক। তবে এতে করে দমে যাননি তনুশ্রী। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সমালোচকদের কাছে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তার প্রশ্ন- ‘কেউ মারা গেলেই কি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আর ভুক্তভোগীর যন্ত্রণা মুছে যায়?’

তনুশ্রীর দাবি, ২০০৮ সালে নানা পাটেকরের কাছে হেনস্তার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করেছেন। ২০১৯ সালে মুম্বাই পুলিশ পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে যখন নানা পাটেকরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়। নানা পাটেকর এটি নিজের প্রভাব খাটিয়ে এবং মূল সাক্ষীদের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক মামলাটি বন্ধ করিয়েছিলেন। যে কারণে আদালত তাকে নির্দোষ প্রমাণ করেনি।

২০২০ সালের পর নানার মাধ্যমে তনুশ্রীকে হত্যার চেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। জীবনের কঠিন সময়ের জন্য দায়ী মানুষটার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে তাই নানা পাটেকরকে ‘শয়তান’ ও ‘মহাশয়তান’ বলেও আক্রমণ করেন তিনি।

যদিও তনুশ্রীর এমন বক্তব্যের বিরোধিতা করেছে এআইসিডব্লিউএ। সংস্থাটির সভাপতি সুরেশ শ্যামলাল গুপ্তের ভাষ্য, কারও মৃত্যুর পর তাকে ‘শয়তান’ বলে আক্রমণ করা আপত্তিকর, অসংবেদনশীল ও লজ্জাজনক।

তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস