মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় পদ হারালেন কেটি জাচারিয়া। শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা তার বিদায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার পেশাগত যোগ্যতা ও গণমাধ্যমের সামনে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে জাচারিয়ার বিদায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে সরকারের সাফল্য তুলে ধরা এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্বে থাকা একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে হারাল তার প্রশাসন।
শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার মুখে পড়ায় জাচারিয়াকে নিজের অবস্থান নিয়ে নতুন করে ভাবতে বলেছিলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, তিনি জাচারিয়াকে জানিয়েছিলেন, এই দায়িত্বে তিনি আদৌ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন কি না, তা ভেবে দেখা উচিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাচারিয়াকে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
গত ১২ অক্টোবর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেন জাচারিয়া। পরদিন মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন তিনি। তার দাবি অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর তাকে ফোন করে এই পদে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এর আগে ক্যারোলিন লেভিটের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার প্রস্তাবও পান তিনি।
আইনজীবী পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
দায়িত্ব গ্রহণের পর জাচারিয়ার পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি অতীতে আইন পেশায় যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেছিলেন। ট্রাম্পও তাকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।
বুধবার এক ইমেইল বিবৃতিতে জাচারিয়া বলেন, আন্তর্জাতিক লেনদেনসংক্রান্ত আইন নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে তাঁর যথাযথ যোগ্যতা রয়েছে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, পেপারডাইন ইউনিভার্সিটি ল স্কুলের এই স্নাতক যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য কিংবা ওয়াশিংটন ডিসিতে আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন বা কোনো বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ছিলেন—এমন প্রমাণ তারা খুঁজে পায়নি।
বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাচারিয়া স্বীকার করেন, তিনি বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রে আইন বিষয়ে ডিগ্রি থাকলেই আইন পেশায় কাজ করা যায় না; সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের বার অ্যাসোসিয়েশনে অনুমোদন বা নিবন্ধন প্রয়োজন।
এদিকে, শুক্রবারের বরখাস্তের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে পাঠানো ইমেইলের জবাব তাৎক্ষণিকভাবে দেননি জাচারিয়া কিংবা হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা। অথচ ওই দিনই সাংবাদিকদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।
নতুন মুখপাত্র খুঁজছিলেন ট্রাম্প
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাতে জানা গেছে, নিজের প্রশাসন সম্পর্কে সংবাদমাধ্যমের সংবাদ পরিবেশনে অসন্তুষ্ট ছিলেন ট্রাম্প। প্রশাসনের অর্জন আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে পারবেন—এমন একজন মুখপাত্র খুঁজছিলেন তিনি। সেই বিবেচনা থেকেই জাচারিয়াকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
শুক্রবার ফক্স নিউজকে টেলিফোনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, নতুন প্রেস সেক্রেটারি নিয়োগের ক্ষেত্রে তিনি তাড়াহুড়া করতে চান না।
জাচারিয়ার দ্রুত বিদায়ের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে প্রেস সেক্রেটারি পদে দায়িত্ব পালনের সময়কাল নিয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে পারে। এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অ্যান্থনি স্কারামুচি মাত্র ১০ দিন হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এত দিন পর্যন্ত স্বল্প সময় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার নামই আলোচনায় ছিল।
জাচারিয়ার বিদায়ের আগেই বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন স্কারামুচি। সেখানে তিনি রেকর্ড ভাঙার বিষয়টি উল্লেখ করলেও বলেন, অন্যের দুর্ভোগে আনন্দ খুঁজে পাওয়ার মানুষ তিনি নন।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























