বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইমরান খানের দলীয় ঘাঁটিতে জরুরি অবস্থা জারি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত, স্কুল বন্ধ, ইন্টারনেট সেবা আংশিক বন্ধ এবং সড়কে পণ্যবাহী কনটেইনার রেখে যান চলাচল আটকে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের চলমান বিরোধের মধ্যে এ পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে এতে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, প্রদেশটির বাসিন্দাদের সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে সংবিধানসম্মত ক্ষমতাবলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

রোববার সাংবাদিকদের ফেডারেল তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকার ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছিল’। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। পরে প্রমাণ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও দুই দিন পরও এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেননি তিনি।

এর মধ্যে পেশোয়ারসহ প্রদেশের অধিকাংশ এলাকায় স্কুল খুলেছে এবং ইন্টারনেট সেবাও পুনরায় চালু হয়েছে। তবে বিক্ষোভ ঠেকাতে ধরপাকড় চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ কাউকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও পিটিআইয়ের প্রাদেশিক নেতাদের অধিকাংশই আত্মগোপনে রয়েছেন।

মঙ্গলবার প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নিজ এলাকা খাইবার জেলার বারায় পিটিআইয়ের কয়েক ডজন সমর্থক রাস্তায় নামেন। সেখানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, জরুরি অবস্থা জারির সময়টি মোটেও আকস্মিক নয়। এর আগের এক সপ্তাহ ধরে ইমরান খানের হাজারো সমর্থক খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। প্রদেশটিতে পিটিআই টানা ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এসব মিছিল থেকে ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যাথাম হাউসের সহযোগী গবেষক ফারজানা শেখ বলেন, সরকারের ব্যাখ্যাটি সদয়ভাবে বিবেচনা করলেও তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরিফা নূরও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জরুরি অবস্থা জারির কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক দেখছেন না। তার মতে, দীর্ঘ পদযাত্রাটিই এ সিদ্ধান্তের একমাত্র কারণ কি না, তা নিশ্চিত নয়। এটি হয়তো সরকারের ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে দিয়েছে, অথবা বিরোধী দলের হাতে প্রাদেশিক সরকার থাকার বিষয়টি মেনে নিতে না চাওয়ার প্রতিফলন।

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। তবে তার বর্তমান অবস্থান এখনো রহস্যাবৃত। পিটিআইয়ের দাবি, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য, তাকে নিরাপত্তামূলক হেফাজতে রাখা হয়েছে।

পদযাত্রা শুরুর আগেই পিটিআই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে ইমরান খানের তিন বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সমর্থকদের সংগঠিত করার অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছিল। এরপর থেকে তারা কারাগারেই রয়েছেন।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ইমরান

গত এক বছরে ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সাক্ষাৎ খুবই সীমিত ছিল। গত আগস্টে তার দুই বোন তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। তাদের একজন কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অন্যজন সুপ্রিম কোর্টে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন। পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি ক্ষমতা হারিয়েছিলেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। দুর্নীতির একাধিক মামলায় তার সাজা হয়েছে। তবে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি।

দলটি আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষ কেন এমন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় পিটিআইয়ের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছিল। তার মতে, এ পরিস্থিতিতে সরকার দলটিকে কঠোর বার্তা দিতে এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা কমাতে চাইছে।

এর আগে সরকার অভিযোগ করেছিল, কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক আলোচনা চালানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কারাবিধির পরিপন্থী।

জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী তারার বলেছেন, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই এবং পিটিআই চাইলে তাদের পদযাত্রা চালিয়ে যেতে পারত। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে বিরোধী দলের নেতারা ও বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ইমরান খান ও তাঁর দলকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার আরেকটি প্রচেষ্টা এটি।

আরিফা নূরের ভাষায়, মতপার্থক্য ও ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষেত্রে সরকারের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। কোনো সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথেও সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা, বিক্ষোভ দমন এবং পিটিআই নেতাদের আত্মগোপনের ঘটনা পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সমর্থকদের আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যে সমঝোতার পথ কতটা খোলা রয়েছে, তা নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইমরান খানের দলীয় ঘাঁটিতে জরুরি অবস্থা জারি

প্রকাশিত সময় : ০৬:০৯:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত, স্কুল বন্ধ, ইন্টারনেট সেবা আংশিক বন্ধ এবং সড়কে পণ্যবাহী কনটেইনার রেখে যান চলাচল আটকে দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

ইমরান খানের সমর্থকদের সঙ্গে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের চলমান বিরোধের মধ্যে এ পদক্ষেপ নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে এতে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি, প্রদেশটির বাসিন্দাদের সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে সংবিধানসম্মত ক্ষমতাবলে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

রোববার সাংবাদিকদের ফেডারেল তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, পিটিআইয়ের নেতৃত্বাধীন খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকার ‘সন্ত্রাসীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করছিল’। তবে এ অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি বা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেননি। পরে প্রমাণ প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও দুই দিন পরও এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেননি তিনি।

এর মধ্যে পেশোয়ারসহ প্রদেশের অধিকাংশ এলাকায় স্কুল খুলেছে এবং ইন্টারনেট সেবাও পুনরায় চালু হয়েছে। তবে বিক্ষোভ ঠেকাতে ধরপাকড় চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ কাউকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত না করলেও পিটিআইয়ের প্রাদেশিক নেতাদের অধিকাংশই আত্মগোপনে রয়েছেন।

মঙ্গলবার প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদির নিজ এলাকা খাইবার জেলার বারায় পিটিআইয়ের কয়েক ডজন সমর্থক রাস্তায় নামেন। সেখানে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপের খবর পাওয়া গেছে।

ইমরানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ

পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, জরুরি অবস্থা জারির সময়টি মোটেও আকস্মিক নয়। এর আগের এক সপ্তাহ ধরে ইমরান খানের হাজারো সমর্থক খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। প্রদেশটিতে পিটিআই টানা ১৩ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। এসব মিছিল থেকে ইমরান খানের মুক্তির দাবি জানানো হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক চ্যাথাম হাউসের সহযোগী গবেষক ফারজানা শেখ বলেন, সরকারের ব্যাখ্যাটি সদয়ভাবে বিবেচনা করলেও তা বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না।

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আরিফা নূরও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জরুরি অবস্থা জারির কোনো স্পষ্ট সম্পর্ক দেখছেন না। তার মতে, দীর্ঘ পদযাত্রাটিই এ সিদ্ধান্তের একমাত্র কারণ কি না, তা নিশ্চিত নয়। এটি হয়তো সরকারের ধৈর্যের শেষ সীমায় পৌঁছে দিয়েছে, অথবা বিরোধী দলের হাতে প্রাদেশিক সরকার থাকার বিষয়টি মেনে নিতে না চাওয়ার প্রতিফলন।

বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি। তবে তার বর্তমান অবস্থান এখনো রহস্যাবৃত। পিটিআইয়ের দাবি, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য, তাকে নিরাপত্তামূলক হেফাজতে রাখা হয়েছে।

পদযাত্রা শুরুর আগেই পিটিআই নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে ইমরান খানের তিন বোনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সমর্থকদের সংগঠিত করার অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছিল। এরপর থেকে তারা কারাগারেই রয়েছেন।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি ইমরান

গত এক বছরে ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সাক্ষাৎ খুবই সীমিত ছিল। গত আগস্টে তার দুই বোন তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। তাদের একজন কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। অন্যজন সুপ্রিম কোর্টে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে সেখানে তার সঙ্গে দেখা করেন। পরে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাবন্দি রয়েছেন ইমরান খান। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনি ক্ষমতা হারিয়েছিলেন বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়। দুর্নীতির একাধিক মামলায় তার সাজা হয়েছে। তবে এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন তিনি।

দলটি আগে থেকেই দুর্বল হয়ে পড়লেও কর্তৃপক্ষ কেন এমন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় পিটিআইয়ের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ছিল। তার মতে, এ পরিস্থিতিতে সরকার দলটিকে কঠোর বার্তা দিতে এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির সক্ষমতা কমাতে চাইছে।

এর আগে সরকার অভিযোগ করেছিল, কারাগারে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগকে রাজনৈতিক আলোচনা চালানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা কারাবিধির পরিপন্থী।

জরুরি অবস্থা জারির বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী তারার বলেছেন, এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই এবং পিটিআই চাইলে তাদের পদযাত্রা চালিয়ে যেতে পারত। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে বিরোধী দলের নেতারা ও বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, ইমরান খান ও তাঁর দলকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার আরেকটি প্রচেষ্টা এটি।

আরিফা নূরের ভাষায়, মতপার্থক্য ও ভিন্নমত সহ্য করার ক্ষেত্রে সরকারের পরিসর ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। কোনো সংঘাত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথেও সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা, বিক্ষোভ দমন এবং পিটিআই নেতাদের আত্মগোপনের ঘটনা পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে সমর্থকদের আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর অবস্থানের মধ্যে সমঝোতার পথ কতটা খোলা রয়েছে, তা নিয়েই এখন অনিশ্চয়তা বাড়ছে।