রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজকীয় সংবর্ধনায় মেসি, পেলেন স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার

স্পেনের ওভিয়েদোতে লিওনেল মেসিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে একনজর দেখতে রাস্তায় ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। সেই উন্মাদনার মধ্যেই স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া সম্মাননা ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তি।

শুক্রবার রাতে ওভিয়েদোর ক্যাম্পোয়ামোর থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনরের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মেসি। বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। গত জুনে মেসিকে এ পুরস্কারের জন্য বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে ঘিরে ওভিয়েদোতে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা ২০২৩ সালে হলিউড অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের সফরকেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাগপাইপ ও ড্রামের বাজনা, আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সমর্থকদের উল্লাস আর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান মেসি।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মেসির প্রশংসা করেন প্রিন্সেস লিওনর। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মেসির অসাধারণ ফুটবল দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং দলীয় চেতনাকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি।

প্রিন্সেস লিওনর বলেন, মেসির খেলা মানুষকে একই অনুভূতিতে একত্র করে। গোলের অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়, তা তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্ব তুলে ধরে। মেসির ফুটবলীয় দক্ষতার পাশাপাশি অহংকারের ঊর্ধ্বে উঠে দলকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি।

পুরস্কার পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মেসি। তিনি লেখেন, ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া তাঁর জন্য দারুণ সম্মানের। অন্য পুরস্কারজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি।

বার্সেলোনায় দীর্ঘ ২১ বছর কাটিয়েছেন মেসি। ২০০০ সালে ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছাড়েন তিনি। ক্লাবটির হয়ে একের পর এক শিরোপা জিতে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন। পরে পিএসজিতে দুই বছর কাটিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

১৯৮১ সালে চালু হওয়া প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার স্প্যানিশভাষী বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা। এ পুরস্কারের সঙ্গে ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য দেওয়া হয়। শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে মানবিক সহাবস্থান, সংহতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

ক্রীড়াক্ষেত্রে এর আগে এ পুরস্কার পেয়েছেন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল, ম্যারাথন দৌড়বিদ এলিউদ কিপচোগে এবং স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।

স্পেন ছাড়ার আগে রাজকীয় সংবর্ধনাতেও অংশ নেন মেসি। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে অন্য পুরস্কারজয়ীদের সঙ্গে কোভাদোঙ্গা কক্ষে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এবার রাজা ও রানির পরিবর্তে প্রিন্সেস লিওনর এককভাবে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মেসির ফুটবলীয় উত্তরাধিকার ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, খেলাধুলা ও ফুটবলে মেসি যে ঐতিহ্য রেখে যাচ্ছেন, তা ব্যতিক্রমী। একজন মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বহু মূল্যবোধের অসাধারণ উদাহরণ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

রাজকীয় সংবর্ধনায় মেসি, পেলেন স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার

প্রকাশিত সময় : ০৪:১৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

স্পেনের ওভিয়েদোতে লিওনেল মেসিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল উৎসবের আবহ। আর্জেন্টাইন মহাতারকাকে একনজর দেখতে রাস্তায় ভিড় করেন হাজারো সমর্থক। সেই উন্মাদনার মধ্যেই স্পেনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ক্রীড়া সম্মাননা ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবল কিংবদন্তি।

শুক্রবার রাতে ওভিয়েদোর ক্যাম্পোয়ামোর থিয়েটারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্পেনের সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্সেস লিওনরের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন মেসি। বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ার এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। গত জুনে মেসিকে এ পুরস্কারের জন্য বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘এএস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেসিকে ঘিরে ওভিয়েদোতে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা ২০২৩ সালে হলিউড অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপের সফরকেও ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাগপাইপ ও ড্রামের বাজনা, আর্জেন্টিনার জার্সি পরা সমর্থকদের উল্লাস আর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান মেসি।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মেসির প্রশংসা করেন প্রিন্সেস লিওনর। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মেসির অসাধারণ ফুটবল দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং দলীয় চেতনাকে প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি।

প্রিন্সেস লিওনর বলেন, মেসির খেলা মানুষকে একই অনুভূতিতে একত্র করে। গোলের অপেক্ষায় থাকা দর্শকদের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয়, তা তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্ব তুলে ধরে। মেসির ফুটবলীয় দক্ষতার পাশাপাশি অহংকারের ঊর্ধ্বে উঠে দলকে প্রাধান্য দেওয়ার মানসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি।

পুরস্কার পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মেসি। তিনি লেখেন, ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস অ্যাওয়ার্ড পাওয়া তাঁর জন্য দারুণ সম্মানের। অন্য পুরস্কারজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন তিনি।

বার্সেলোনায় দীর্ঘ ২১ বছর কাটিয়েছেন মেসি। ২০০০ সালে ক্লাবটির বয়সভিত্তিক দলে যোগ দেওয়ার পর ২০২১ সালে বার্সেলোনা ছাড়েন তিনি। ক্লাবটির হয়ে একের পর এক শিরোপা জিতে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত হন। পরে পিএসজিতে দুই বছর কাটিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন এই আর্জেন্টাইন তারকা।

১৯৮১ সালে চালু হওয়া প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার স্প্যানিশভাষী বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা। এ পুরস্কারের সঙ্গে ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য দেওয়া হয়। শিল্পকলা, বিজ্ঞান ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের মাধ্যমে মানবিক সহাবস্থান, সংহতি ও বৈশ্বিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

ক্রীড়াক্ষেত্রে এর আগে এ পুরস্কার পেয়েছেন টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস ও রাফায়েল নাদাল, ম্যারাথন দৌড়বিদ এলিউদ কিপচোগে এবং স্কিয়ার লিন্ডসে ভন।

স্পেন ছাড়ার আগে রাজকীয় সংবর্ধনাতেও অংশ নেন মেসি। স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে অন্য পুরস্কারজয়ীদের সঙ্গে কোভাদোঙ্গা কক্ষে ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। এবার রাজা ও রানির পরিবর্তে প্রিন্সেস লিওনর এককভাবে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। মেসির ফুটবলীয় উত্তরাধিকার ও ব্যক্তিত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, খেলাধুলা ও ফুটবলে মেসি যে ঐতিহ্য রেখে যাচ্ছেন, তা ব্যতিক্রমী। একজন মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে তিনি বহু মূল্যবোধের অসাধারণ উদাহরণ।