রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টঙ্গীর সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। ফলে তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগর আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শিশুটির বাবার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়। ওই দিনই বিচারকের কাছে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তে মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।

এ ঘটনায় গত বুধবার মাদ্রাসায় গিয়ে শিশুটির বাবা অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

অন্যদিকে, মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ তুলেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগে শিশুটির বাবা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; হামলা বা লুটপাটের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেয়ের প্রতি কথিত নিপীড়নের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ জানিয়েছে, শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

টঙ্গীর সেই শিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

প্রকাশিত সময় : ০৫:১৪:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে তার জামিন আবেদন নাকচ করেন। ফলে তাকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

গাজীপুর মহানগর আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠে উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শিশুটির বাবার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়। ওই দিনই বিচারকের কাছে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আদালত পরিদর্শক মো. আহসান উল্লাহ চৌধুরী জানিয়েছে, অভিযোগ তদন্তে মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত এখনো চলমান।

এ ঘটনায় গত বুধবার মাদ্রাসায় গিয়ে শিশুটির বাবা অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়।

অন্যদিকে, মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগ তুলেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগে শিশুটির বাবা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন; হামলা বা লুটপাটের উদ্দেশ্যে নয়। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেয়ের প্রতি কথিত নিপীড়নের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ জানিয়েছে, শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা পৃথক দুটি মামলার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।