রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফায়ার সার্ভিসে বদলি-পদায়নে নতুন নীতিমালা জারি

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, একই কর্মস্থলে একটানা তিন বছরের বেশি চাকরি করলে সাধারণভাবে বদলিযোগ্য হবেন কর্মচারীরা। তবে প্রশাসনিক প্রয়োজনে বদলির ক্ষেত্রে এ সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।

গত ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্নি-১ শাখা থেকে ‘অগ্নিনির্বাপণ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় ২০২৩ সালের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা (সংশোধিত ২০২৪) বাতিল করা হয়েছে। অধিদপ্তরের স্থায়ী ও অস্থায়ী পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রেষণ বা লিয়েনে নিয়োজিত কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক, আউটসোর্সিং বা দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, পঞ্চম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ দায়িত্ব পালন করবে অধিদপ্তর। বদলির আবেদন বিবেচনার সময় জ্যেষ্ঠতা, শৃঙ্খলা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

নিজ জেলায় পদায়নে থাকছে বিধিনিষেধ

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ১২তম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো কর্মচারীকে নিজ জেলায় বদলি বা পদায়ন করা যাবে না। তবে ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিজ উপজেলা বাদে নিজ জেলার মধ্যে স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি দপ্তর বা স্টেশনে পদায়ন করা যাবে।

নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলায় এবং সেখানেও সুযোগ না থাকলে পার্শ্ববর্তী বিভাগের স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি দপ্তর বা স্টেশনে বদলি করা যাবে।

স্টেশন অফিসার বা সমমানের পদ থেকে তদূর্ধ্ব পদের কর্মচারীদেরও নিজ জেলায় বদলি বা পদায়ন করা যাবে না। তবে মহানগর বা সিটি করপোরেশন এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। এ ধরনের বদলি বা পদায়নের সুযোগ একজন কর্মচারী চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার পাবেন।

দুর্গম এলাকায় চাকরির মেয়াদ দুই বছর

সাধারণ কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করলে বদলিযোগ্য হওয়ার বিধানের পাশাপাশি দুর্গম এলাকার জন্য আলাদা শর্ত রাখা হয়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং হাওর, দ্বীপ ও চর উপজেলায় স্থায়ী বাসিন্দা নন—এমন কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ দুই বছরের বেশি হলে বদলি বা পদায়ন করা যাবে।

তবে প্রশাসনিক কারণে বদলির ক্ষেত্রে এসব সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।

জনস্বার্থে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় যেকোনো দপ্তর বা স্টেশনে কর্মচারীকে বদলি বা পদায়ন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ বদলির শর্ত অনুসরণ বাধ্যতামূলক নয়। তবে প্রশাসনিক কারণে বদলি হওয়া কর্মচারীরা তিন বছরের মধ্যে বদলি বা পারস্পরিক বদলির আবেদন করতে পারবেন না।

স্বামী-স্ত্রী ও অসুস্থ কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

নতুন নীতিমালায় কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় বদলি-পদায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী হলে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে একই কর্মস্থলে অথবা কাছাকাছি জেলা কিংবা উপজেলায় পদায়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

কর্মচারী নিজে অথবা তার বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী কিংবা সন্তানের দুরারোগ্য ব্যাধির ক্ষেত্রে চিকিৎসার সুবিধার্থে উপযুক্ত স্থানে বদলি বা পদায়নের আবেদনও অগ্রাধিকার পাবে।

অবসরোত্তর ছুটি শুরু হতে ১৩ মাসের কম সময় বাকি থাকলে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া আবেদন ছাড়া অন্য কর্মস্থলে বদলি করা যাবে না। জনস্বার্থ বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে বদলি অত্যাবশ্যক হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী দায়িত্ব পালনে অক্ষম বা অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে এ বিধানে ব্যতিক্রম করা যাবে।

পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে অবসরোত্তর ছুটি শুরুর ১৩ মাস আগে নিজ জেলা বা আবেদিত জেলায় বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এতে জনস্বার্থ ব্যাহত হওয়ার বা প্রশাসনিক অসুবিধা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে এ সুবিধা দেওয়া হবে না।

মানবিক বা অন্য কোনো কারণে বদলি কিংবা পদায়নের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য মহাপরিচালকের কাছে চাকরিজীবনে অবসর ব্যতীত সর্বোচ্চ দুইবার আবেদন করা যাবে।

পারস্পরিক বদলি ও পদোন্নতিতে নতুন নিয়ম

একই পদে কর্মরত দুজন কর্মচারীর চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হলে এবং উভয়ের সম্মতি থাকলে পারস্পরিক বদলির সুযোগ থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রেও সাধারণ বদলি ও পদায়নের শর্ত মানতে হবে।

নবনিযুক্ত কর্মচারীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে জনবলস্বল্পতাসম্পন্ন বিভাগে পদায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে কর্মস্থল পরিবর্তন করতে হবে।

এ ছাড়া লিয়েন, প্রেষণ বা শিক্ষাছুটি শেষে অধিদপ্তরে যোগদান করলে আগের কর্মস্থলের পরিবর্তে অন্যত্র পদায়ন করতে হবে। শিক্ষাছুটি শেষে ফেরা কর্মচারীদের অর্জিত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সংযুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর

অধিদপ্তরের সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা দূর করা, বিশেষায়িত ইউনিট পরিচালনা এবং অপারেশনাল ও দাপ্তরিক কার্যক্রম গতিশীল করতে কোনো কর্মচারীকে এক বছরের জন্য সংযুক্ত করা যাবে। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ এ মেয়াদ আরও সর্বোচ্চ এক বছর বাড়াতে পারবে।

তবে প্রশাসনিক শৃঙ্খলাজনিত কারণে বদলি হওয়া কর্মচারীকে তিন বছরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ বা দক্ষতা উন্নয়নের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো সংযুক্তি দেওয়া যাবে না।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বদলি ও পদায়নের প্রস্তাব অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)-এর মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

নীতিমালার বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, চেন্নাইয়ে রোড শো করছেন মোদি

ফায়ার সার্ভিসে বদলি-পদায়নে নতুন নীতিমালা জারি

প্রকাশিত সময় : ০৫:১৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, একই কর্মস্থলে একটানা তিন বছরের বেশি চাকরি করলে সাধারণভাবে বদলিযোগ্য হবেন কর্মচারীরা। তবে প্রশাসনিক প্রয়োজনে বদলির ক্ষেত্রে এ সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।

গত ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অগ্নি-১ শাখা থেকে ‘অগ্নিনির্বাপণ ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা অধিদপ্তরের কর্মচারীদের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করা হয়। এতে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। নীতিমালাটি অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় ২০২৩ সালের বদলি ও পদায়ন নীতিমালা (সংশোধিত ২০২৪) বাতিল করা হয়েছে। অধিদপ্তরের স্থায়ী ও অস্থায়ী পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রেষণ বা লিয়েনে নিয়োজিত কর্মীদের ক্ষেত্রেও নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে। তবে উন্নয়ন প্রকল্পে চুক্তিভিত্তিক, আউটসোর্সিং বা দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কর্মীদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হবে না।

নীতিমালা অনুযায়ী, পঞ্চম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের সিদ্ধান্ত নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ দায়িত্ব পালন করবে অধিদপ্তর। বদলির আবেদন বিবেচনার সময় জ্যেষ্ঠতা, শৃঙ্খলা ও দক্ষতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।

নিজ জেলায় পদায়নে থাকছে বিধিনিষেধ

নীতিমালায় বলা হয়েছে, ১২তম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কোনো কর্মচারীকে নিজ জেলায় বদলি বা পদায়ন করা যাবে না। তবে ১৩তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের নিজ উপজেলা বাদে নিজ জেলার মধ্যে স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি দপ্তর বা স্টেশনে পদায়ন করা যাবে।

নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের অন্য জেলায় এবং সেখানেও সুযোগ না থাকলে পার্শ্ববর্তী বিভাগের স্থায়ী ঠিকানার কাছাকাছি দপ্তর বা স্টেশনে বদলি করা যাবে।

স্টেশন অফিসার বা সমমানের পদ থেকে তদূর্ধ্ব পদের কর্মচারীদেরও নিজ জেলায় বদলি বা পদায়ন করা যাবে না। তবে মহানগর বা সিটি করপোরেশন এলাকায় পদায়নের ক্ষেত্রে এ বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে না। এ ধরনের বদলি বা পদায়নের সুযোগ একজন কর্মচারী চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার পাবেন।

দুর্গম এলাকায় চাকরির মেয়াদ দুই বছর

সাধারণ কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় দায়িত্ব পালন করলে বদলিযোগ্য হওয়ার বিধানের পাশাপাশি দুর্গম এলাকার জন্য আলাদা শর্ত রাখা হয়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি এবং হাওর, দ্বীপ ও চর উপজেলায় স্থায়ী বাসিন্দা নন—এমন কর্মচারীদের চাকরির মেয়াদ দুই বছরের বেশি হলে বদলি বা পদায়ন করা যাবে।

তবে প্রশাসনিক কারণে বদলির ক্ষেত্রে এসব সময়সীমা প্রযোজ্য হবে না।

জনস্বার্থে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় যেকোনো দপ্তর বা স্টেশনে কর্মচারীকে বদলি বা পদায়ন করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ বদলির শর্ত অনুসরণ বাধ্যতামূলক নয়। তবে প্রশাসনিক কারণে বদলি হওয়া কর্মচারীরা তিন বছরের মধ্যে বদলি বা পারস্পরিক বদলির আবেদন করতে পারবেন না।

স্বামী-স্ত্রী ও অসুস্থ কর্মীদের জন্য বিশেষ সুবিধা

নতুন নীতিমালায় কর্মচারীদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় বদলি-পদায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে।

স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী হলে তাদের আবেদনের ভিত্তিতে একই কর্মস্থলে অথবা কাছাকাছি জেলা কিংবা উপজেলায় পদায়নের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

কর্মচারী নিজে অথবা তার বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী কিংবা সন্তানের দুরারোগ্য ব্যাধির ক্ষেত্রে চিকিৎসার সুবিধার্থে উপযুক্ত স্থানে বদলি বা পদায়নের আবেদনও অগ্রাধিকার পাবে।

অবসরোত্তর ছুটি শুরু হতে ১৩ মাসের কম সময় বাকি থাকলে বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া আবেদন ছাড়া অন্য কর্মস্থলে বদলি করা যাবে না। জনস্বার্থ বা প্রশাসনিক প্রয়োজনে বদলি অত্যাবশ্যক হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মচারী দায়িত্ব পালনে অক্ষম বা অনুপযুক্ত বিবেচিত হলে এ বিধানে ব্যতিক্রম করা যাবে।

পেনশন-সংক্রান্ত সুবিধা নিশ্চিত করতে অবসরোত্তর ছুটি শুরুর ১৩ মাস আগে নিজ জেলা বা আবেদিত জেলায় বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এতে জনস্বার্থ ব্যাহত হওয়ার বা প্রশাসনিক অসুবিধা সৃষ্টির আশঙ্কা থাকলে এ সুবিধা দেওয়া হবে না।

মানবিক বা অন্য কোনো কারণে বদলি কিংবা পদায়নের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য মহাপরিচালকের কাছে চাকরিজীবনে অবসর ব্যতীত সর্বোচ্চ দুইবার আবেদন করা যাবে।

পারস্পরিক বদলি ও পদোন্নতিতে নতুন নিয়ম

একই পদে কর্মরত দুজন কর্মচারীর চাকরির রেকর্ড সন্তোষজনক হলে এবং উভয়ের সম্মতি থাকলে পারস্পরিক বদলির সুযোগ থাকবে। তবে এ ক্ষেত্রেও সাধারণ বদলি ও পদায়নের শর্ত মানতে হবে।

নবনিযুক্ত কর্মচারীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে জনবলস্বল্পতাসম্পন্ন বিভাগে পদায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে কর্মস্থল পরিবর্তন করতে হবে।

এ ছাড়া লিয়েন, প্রেষণ বা শিক্ষাছুটি শেষে অধিদপ্তরে যোগদান করলে আগের কর্মস্থলের পরিবর্তে অন্যত্র পদায়ন করতে হবে। শিক্ষাছুটি শেষে ফেরা কর্মচারীদের অর্জিত জ্ঞান ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সংযুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই বছর

অধিদপ্তরের সাংগঠনিক সীমাবদ্ধতা দূর করা, বিশেষায়িত ইউনিট পরিচালনা এবং অপারেশনাল ও দাপ্তরিক কার্যক্রম গতিশীল করতে কোনো কর্মচারীকে এক বছরের জন্য সংযুক্ত করা যাবে। জনস্বার্থে কর্তৃপক্ষ এ মেয়াদ আরও সর্বোচ্চ এক বছর বাড়াতে পারবে।

তবে প্রশাসনিক শৃঙ্খলাজনিত কারণে বদলি হওয়া কর্মচারীকে তিন বছরের মধ্যে অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ বা দক্ষতা উন্নয়নের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো সংযুক্তি দেওয়া যাবে না।

নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, বদলি ও পদায়নের প্রস্তাব অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ)-এর মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

নীতিমালার বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে বা ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অফিস আদেশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।