সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাজেক সড়কে চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, আটকে পড়েছেন শত শত পর্যটক

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে যাতায়াতের প্রধান সড়কে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকে রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, যার ফলে শত শত পর্যটক আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’-এর আহ্বানে সকাল থেকেই সাজেক সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে, বিশেষ করে গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় পিকেটিং চলছে। টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকরা ফিরতি পথে বাঘাইহাটে এবং সাজেকগামী পর্যটকরা বিভিন্ন পয়েন্টে আটকা পড়েছেন।

​এর আগে শনিবার বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ভাঙিয়ে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকরা।

​পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিশেষ নিরাপত্তা বহরের (স্কর্ট) মাধ্যমে প্রায় ৯০টি ছোট-বড় যানবাহন ও মোটরসাইকেলে প্রায় নয়শ পর্যটক সাজেকে যান। হঠাৎ এই অবরোধের কারণে তারা বর্তমানে সেখানে আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাজেক কটেজ মালিক সমিতি তৎপর রয়েছে এবং দুপুরের পর বিশেষ নিরাপত্তার মাধ্যমে পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

​এদিকে, এই অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয়দের একটি মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, সাজেকে জেএসএসের সশস্ত্র তৎপরতা ও সংঘাতের কারণে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি না জানিয়ে, একই এলাকায় সংঘাতে জড়িত ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র পক্ষগুলোর বিরুদ্ধেও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা উচিত। এলাকার দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

​এ বিষয়ে সাজেক থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোফাজ্জল হোসেন জানান, স্থানীয়দের আন্দোলনের কারণে সাজেক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পর্যটকদের সার্বিক সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সাজেক সড়কে চলছে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, আটকে পড়েছেন শত শত পর্যটক

প্রকাশিত সময় : ০৫:০৮:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে যাতায়াতের প্রধান সড়কে আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু হয়েছে। স্থানীয় দুটি সংগঠনের ডাকে রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল থেকে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, যার ফলে শত শত পর্যটক আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি’ ও ‘সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন’-এর আহ্বানে সকাল থেকেই সাজেক সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে, বিশেষ করে গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় পিকেটিং চলছে। টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকরা ফিরতি পথে বাঘাইহাটে এবং সাজেকগামী পর্যটকরা বিভিন্ন পয়েন্টে আটকা পড়েছেন।

​এর আগে শনিবার বিকেলে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) নাম ভাঙিয়ে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আয়োজকরা।

​পর্যটন খাতের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার বিশেষ নিরাপত্তা বহরের (স্কর্ট) মাধ্যমে প্রায় ৯০টি ছোট-বড় যানবাহন ও মোটরসাইকেলে প্রায় নয়শ পর্যটক সাজেকে যান। হঠাৎ এই অবরোধের কারণে তারা বর্তমানে সেখানে আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সাজেক কটেজ মালিক সমিতি তৎপর রয়েছে এবং দুপুরের পর বিশেষ নিরাপত্তার মাধ্যমে পর্যটকদের যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

​এদিকে, এই অবরোধ কর্মসূচি ঘিরে স্থানীয়দের একটি মহলে প্রশ্ন উঠেছে। তাদের মতে, সাজেকে জেএসএসের সশস্ত্র তৎপরতা ও সংঘাতের কারণে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে কেবল একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সরিয়ে নেওয়ার দাবি না জানিয়ে, একই এলাকায় সংঘাতে জড়িত ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র পক্ষগুলোর বিরুদ্ধেও সমানভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলা উচিত। এলাকার দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে।

​এ বিষয়ে সাজেক থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোফাজ্জল হোসেন জানান, স্থানীয়দের আন্দোলনের কারণে সাজেক সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং পর্যটকদের সার্বিক সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।