বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিদায়, নাকি আবার ভোট

ইসরায়েলে ভোট হয়েছে, কিন্তু সরকার গঠনের মতো সামর্থ্য কোনো জোট অর্জন করছে না বলেই আভাস মিলছে। বুথফেরত জরিপের ফল দেখাচ্ছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউই। ফলে সামনে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছেই।

গতকাল মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের পর ইসরায়েলের টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট পার্লামেন্টে ৫১টি আসন পেতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও ৫১টি আসন পেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সরকার গঠন করতে হলে ১২০ আসনের নেসেটে ৬১টি আসনে জয়ী হতে হবে। তাতে কোনো জোটই সফল হবে বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

ফলে ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষি চলতে পারে, এমনটা ভাবা অমূলক নয়।

অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো, যারা এই দুই জোটের কোনোটিরই অংশ নয়, তারা ১৮টি আসন পেতে পারে। অন্য দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট গঠনে রাজি হলে সরকার গঠনে এই দলগুলোই নির্ণায়ক ভূমিকায় চলে আসতে পারে।

দলগুলোর কী প্রতিক্রিয়া?

আইজেনকট বলেছেন, বুথফেরত জরিপ নেতানিয়াহুর প্রতি গণআস্থার ঘাটতি তুলে ধরেছে।

বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জোট ভয়াবহ পরাজয়ের মুখে পড়েছে।

‘জনগণ তাদের ঘরে ফিরে যেতে বলেছে,’ বলছেন তিনি।

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য গিদিওন সার বলেছেন, বিরোধীদের এই উদ্‌যাপন আগেভাগেই হয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলে লিকুদ পার্টিই সবচেয়ে বড় দল। অতীত থেকে কিছু শেখা সব সময়ই ভালো।’

লিকুদ পার্টির প্রধান নেতানিয়াহু গত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। এই সময়ে সংকট দেখা দিলেও বারবার উতরে যান তিনি।

তবে এবার বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের দুর্বলতা মেলে ধরেছে বলে মনে করেন ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক এহাব জাবারিন। তবে নেতানিয়াহুর এখানেই শেষ, এমন সিদ্ধান্ত টানার ক্ষেত্রে সংশয়ী তিনি।

জাবারিন বললেন, ‘বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তার জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে বিরোধীদের জন্যও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারলে আলোচনা চলাকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নেতানিয়াহু দায়িত্বে থাকতে পারেন।’

প্রেসিডেন্ট এখন কী করবেন?

ভোটের ফল দেখে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এবার তিনি কী করবেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

আগামী ৪ নভেম্বর ভোট গণনার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

তারা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান, তা জানার পর সরকার গঠনের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে বলে যাকে মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মনোনীত করবেন প্রেসিডেন্ট।

তবে নেসেটে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে মনোনয়ন দেওয়া হবে, এমন নয়।

নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের দল সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় তাদের দুজনকেই সরকার গঠনের প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার গঠনের জন্য কত দিন সময়?

এর সরাসরি উত্তর হলো- সর্বোচ্চ ৪২ দিন। প্রথমে মনোনীত নেতা ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন।

এই সময়ে দলগুলো নীতিগত বিষয়ে ছাড় আদায় এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিত্ব ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিবিড় আলোচনা ও দর-কষাকষি করতে পারে। মনোনীত নেতা সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করবেন।

মনোনীত নেতা অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিয়ে জোট গঠন করতে না পারলেও ছোট দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থাও নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

নতুন সরকারকে শপথ নিতে হলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিততে হবে। কিছু দল ভোটদানে বিরত থাকলে ৬১টির কম ভোট পেয়েও সরকার আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে।

কী হবে যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়?

প্রথম মনোনীত নেতা সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট হারজগ নেসেটের অন্য কোনো নেতাকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।

দ্বিতীয় মনোনীত নেতাও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় একজন প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারবেন। ওই প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য শেষবারের মতো ১৪ দিন সময় পাবেন।

এরপরও অচলাবস্থা কাটানো না গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে। ইসরায়েলিদের আবার নির্বাচনে ভোট দিতে হবে।

নতুন নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। এর মধ্যবর্তী সময়ে নেতানিয়াহুর সরকার অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

এমন পরিস্থিতি কি আগে হয়েছে?

এক্ষেত্রে উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ।

নেসেটে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত ইসরায়েলে তিন দফা নির্বাচন হয়েছিল।

এর পর নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তাদের পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। তবে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক বছরের মাথায় সেই সরকার ভেঙে পড়ে।

আরব দলগুলো কি জোটে ভিড়বে?

বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকট—দুজনই এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, এসব দলের সঙ্গে তাদের মূল্যবোধের মিল নেই।

ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসাফ রোনেল বলেন, বুথফেরত জরিপ নেতানিয়াহুর ‘দুঃস্বপ্নের সরকারের’ অবসানের ইঙ্গিত দিলেও অন্য নেতারা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে তাদের বর্ণবাদী মনোভাব কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি না, তা একটি বড় প্রশ্ন।

তার ভাষ্যে, ‘এখন প্রশ্ন হলো, তারা তাদের বর্ণবাদী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে পারবেন কি না? তা না হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।’

সূত্র: আলজাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিদায়, নাকি আবার ভোট

প্রকাশিত সময় : ০৫:১৬:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ইসরায়েলে ভোট হয়েছে, কিন্তু সরকার গঠনের মতো সামর্থ্য কোনো জোট অর্জন করছে না বলেই আভাস মিলছে। বুথফেরত জরিপের ফল দেখাচ্ছে, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না কেউই। ফলে সামনে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছেই।

গতকাল মঙ্গলবার ভোটগ্রহণের পর ইসরায়েলের টেলিভিশন নেটওয়ার্কগুলোর প্রকাশিত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নেতৃত্বাধীন জোট পার্লামেন্টে ৫১টি আসন পেতে পারে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর সাবেক প্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও ৫১টি আসন পেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সরকার গঠন করতে হলে ১২০ আসনের নেসেটে ৬১টি আসনে জয়ী হতে হবে। তাতে কোনো জোটই সফল হবে বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।

ফলে ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক দর-কষাকষি চলতে পারে, এমনটা ভাবা অমূলক নয়।

অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো, যারা এই দুই জোটের কোনোটিরই অংশ নয়, তারা ১৮টি আসন পেতে পারে। অন্য দলগুলো তাদের সঙ্গে জোট গঠনে রাজি হলে সরকার গঠনে এই দলগুলোই নির্ণায়ক ভূমিকায় চলে আসতে পারে।

দলগুলোর কী প্রতিক্রিয়া?

আইজেনকট বলেছেন, বুথফেরত জরিপ নেতানিয়াহুর প্রতি গণআস্থার ঘাটতি তুলে ধরেছে।

বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর জোট ভয়াবহ পরাজয়ের মুখে পড়েছে।

‘জনগণ তাদের ঘরে ফিরে যেতে বলেছে,’ বলছেন তিনি।

তবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সদস্য গিদিওন সার বলেছেন, বিরোধীদের এই উদ্‌যাপন আগেভাগেই হয়ে যাচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলে লিকুদ পার্টিই সবচেয়ে বড় দল। অতীত থেকে কিছু শেখা সব সময়ই ভালো।’

লিকুদ পার্টির প্রধান নেতানিয়াহু গত ৩০ বছরের মধ্যে প্রায় ১৯ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। এই সময়ে সংকট দেখা দিলেও বারবার উতরে যান তিনি।

তবে এবার বুথফেরত জরিপে নেতানিয়াহুর জোটের দুর্বলতা মেলে ধরেছে বলে মনে করেন ইসরায়েলে বসবাসরত ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষক এহাব জাবারিন। তবে নেতানিয়াহুর এখানেই শেষ, এমন সিদ্ধান্ত টানার ক্ষেত্রে সংশয়ী তিনি।

জাবারিন বললেন, ‘বুথফেরত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, তার জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। তবে বিরোধীদের জন্যও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কোনো পক্ষই সরকার গঠন করতে না পারলে আলোচনা চলাকালে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে নেতানিয়াহু দায়িত্বে থাকতে পারেন।’

প্রেসিডেন্ট এখন কী করবেন?

ভোটের ফল দেখে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া দলকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এবার তিনি কী করবেন, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

আগামী ৪ নভেম্বর ভোট গণনার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলবেন।

তারা কাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চান, তা জানার পর সরকার গঠনের সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে বলে যাকে মনে করবেন, তাকেই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মনোনীত করবেন প্রেসিডেন্ট।

তবে নেসেটে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই যে মনোনয়ন দেওয়া হবে, এমন নয়।

নেতানিয়াহু ও আইজেনকটের দল সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকায় তাদের দুজনকেই সরকার গঠনের প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সরকার গঠনের জন্য কত দিন সময়?

এর সরাসরি উত্তর হলো- সর্বোচ্চ ৪২ দিন। প্রথমে মনোনীত নেতা ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও ১৪ দিন সময় বাড়াতে পারবেন।

এই সময়ে দলগুলো নীতিগত বিষয়ে ছাড় আদায় এবং সম্ভাব্য মন্ত্রিত্ব ভাগাভাগিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিবিড় আলোচনা ও দর-কষাকষি করতে পারে। মনোনীত নেতা সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করবেন।

মনোনীত নেতা অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন নিয়ে জোট গঠন করতে না পারলেও ছোট দলগুলোর সমর্থনে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতা ভাগাভাগির ব্যবস্থাও নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

নতুন সরকারকে শপথ নিতে হলে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিততে হবে। কিছু দল ভোটদানে বিরত থাকলে ৬১টির কম ভোট পেয়েও সরকার আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারে।

কী হবে যদি আলোচনা ব্যর্থ হয়?

প্রথম মনোনীত নেতা সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট হারজগ নেসেটের অন্য কোনো নেতাকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে পারেন।

দ্বিতীয় মনোনীত নেতাও সরকার গঠনের জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন। তিনিও ব্যর্থ হলে নেসেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তৃতীয় একজন প্রার্থীকে মনোনীত করতে পারবেন। ওই প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য শেষবারের মতো ১৪ দিন সময় পাবেন।

এরপরও অচলাবস্থা কাটানো না গেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নেসেট ভেঙে দেওয়া হবে। ইসরায়েলিদের আবার নির্বাচনে ভোট দিতে হবে।

নতুন নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে আয়োজন করতে হবে। এর মধ্যবর্তী সময়ে নেতানিয়াহুর সরকার অন্তর্বর্তী সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

এমন পরিস্থিতি কি আগে হয়েছে?

এক্ষেত্রে উত্তর হচ্ছে, হ্যাঁ।

নেসেটে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ২০১৯ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত ইসরায়েলে তিন দফা নির্বাচন হয়েছিল।

এর পর নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গান্তজের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, তাদের পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। তবে বাজেট পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় এক বছরের মাথায় সেই সরকার ভেঙে পড়ে।

আরব দলগুলো কি জোটে ভিড়বে?

বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সরকার গঠনে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নেতানিয়াহু ও আইজেনকট—দুজনই এসব দলের সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, এসব দলের সঙ্গে তাদের মূল্যবোধের মিল নেই।

ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসাফ রোনেল বলেন, বুথফেরত জরিপ নেতানিয়াহুর ‘দুঃস্বপ্নের সরকারের’ অবসানের ইঙ্গিত দিলেও অন্য নেতারা আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে তাদের বর্ণবাদী মনোভাব কাটিয়ে উঠতে পারবেন কি না, তা একটি বড় প্রশ্ন।

তার ভাষ্যে, ‘এখন প্রশ্ন হলো, তারা তাদের বর্ণবাদী নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসতে পারবেন কি না? তা না হলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আবারও নির্বাচনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।’

সূত্র: আলজাজিরা