সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছড়িয়ে পড়ছে ডেল্টার চেয়েও শক্তিশালী ভেরিয়েন্ট, কাজ করবে না টিকাও!

করোনার আরও একটি নতুন রূপের ভেরিয়েন্টের খোঁজ মিলেছে। যা এই ভেরিয়েন্ট হার মানাতে পারে টিকাকেও। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই এই ভেরিয়েন্টের খোঁজ মিলেছে। এক গবেষণা অনুযায়ী, এটি অনেক বেশি সংক্রামকও। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল রিসার্চ ইনোভেশন অ্যান্ড সিকোয়েন্সিং প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞানীরা এই নয়া ভেরিয়েন্টের বিষয়ে তথ্য জানিয়েছেন। চলতি বছর মে মাসে খোঁজ মেলে এই নয়া সি.১.২ ভেরিয়েন্টের।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১ অগস্ট পর্যন্ত চিন, কঙ্গো, মরিশাস, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল এবং সুইজারল্যান্ডে সি.১.২ ভেরিয়েন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে।

গত ২৪ আগস্ট প্রিপ্রিন্ট রিপোজিটরি মেডরিক্সিভে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়েছে নয়া এই ভেরিয়েন্ট সি.১-এর তুলনায় বেশি শক্তিশালী। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার প্রথম ঢেউয়ের অন্যতম কারণ ছিল এই সি.১ ভেরিয়েন্ট। খবর: হিন্দুস্তান টাইমসের

গবেষকরা বলেছেন, নতুন ভেরিয়েন্টটির অনেক বেশি মিউটেশন রয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রাপ্ত ভেরিয়েন্টস অব কনসার্ন এবং ভেরিয়েন্টস অব ইন্টারেস্ট-এর তুলনায় এটির মিউটেশন অনেকটাই বেশি। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, সি.১.২ সংক্রান্ত এখনও পর্যন্ত যা পরিসংখ্যান মিলেছে, তার থেকেও বেশি ছড়িয়ে থাকতে পারে এই ভেরিয়েন্ট। কারণ প্রতিনিয়তই এর বৃদ্ধি ঘটছে।

গবেষণায় দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি মাসে সি.১.২ জিনোমের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে সিকোয়েন্স করা জিনোমের ০.২ শতাংশ ছিল এটি। জুন মাসে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ১.৬ শতাংশে। তারপর জুলাইয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২ শতাংশ হয়েছে।

গবেষণার লেখকরা বলছেন, এই বৃদ্ধির হার প্রাথমিক সনাক্তকরণের সময়ে বিটা এবং ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বৃদ্ধির অনুরূপ। এটি বেশি সংক্রামক হতে পারে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু স্পাইক প্রোটিনে অনেকগুলি মিউটেশন রয়েছে, এর ফলে এটি প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে রক্ষা পেতে পারে। এভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী টিকা অভিযানের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে,’ কলকাতার সিএসআইআর-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল বায়োলজির ভাইরোলজিস্ট উপাসনা রায়, পিটিআইকে এমনটাই জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পেলেন রাসিকের ১২৩৭জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী, বিতরণ করলেন রাসিক প্রশাসক

ছড়িয়ে পড়ছে ডেল্টার চেয়েও শক্তিশালী ভেরিয়েন্ট, কাজ করবে না টিকাও!

প্রকাশিত সময় : ০২:৪১:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২১

করোনার আরও একটি নতুন রূপের ভেরিয়েন্টের খোঁজ মিলেছে। যা এই ভেরিয়েন্ট হার মানাতে পারে টিকাকেও। দক্ষিণ আফ্রিকা এবং বেশ কিছু দেশে ইতিমধ্যেই এই ভেরিয়েন্টের খোঁজ মিলেছে। এক গবেষণা অনুযায়ী, এটি অনেক বেশি সংক্রামকও। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর কমিউনিকেবল ডিজিজেস এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল রিসার্চ ইনোভেশন অ্যান্ড সিকোয়েন্সিং প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞানীরা এই নয়া ভেরিয়েন্টের বিষয়ে তথ্য জানিয়েছেন। চলতি বছর মে মাসে খোঁজ মেলে এই নয়া সি.১.২ ভেরিয়েন্টের।

রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১ অগস্ট পর্যন্ত চিন, কঙ্গো, মরিশাস, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, পর্তুগাল এবং সুইজারল্যান্ডে সি.১.২ ভেরিয়েন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে।

গত ২৪ আগস্ট প্রিপ্রিন্ট রিপোজিটরি মেডরিক্সিভে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়। তাতে বলা হয়েছে নয়া এই ভেরিয়েন্ট সি.১-এর তুলনায় বেশি শক্তিশালী। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার প্রথম ঢেউয়ের অন্যতম কারণ ছিল এই সি.১ ভেরিয়েন্ট। খবর: হিন্দুস্তান টাইমসের

গবেষকরা বলেছেন, নতুন ভেরিয়েন্টটির অনেক বেশি মিউটেশন রয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রাপ্ত ভেরিয়েন্টস অব কনসার্ন এবং ভেরিয়েন্টস অব ইন্টারেস্ট-এর তুলনায় এটির মিউটেশন অনেকটাই বেশি। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, সি.১.২ সংক্রান্ত এখনও পর্যন্ত যা পরিসংখ্যান মিলেছে, তার থেকেও বেশি ছড়িয়ে থাকতে পারে এই ভেরিয়েন্ট। কারণ প্রতিনিয়তই এর বৃদ্ধি ঘটছে।

গবেষণায় দেখা গেছে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতি মাসে সি.১.২ জিনোমের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মে মাসে সিকোয়েন্স করা জিনোমের ০.২ শতাংশ ছিল এটি। জুন মাসে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ১.৬ শতাংশে। তারপর জুলাইয়ে বৃদ্ধি পেয়ে ২ শতাংশ হয়েছে।

গবেষণার লেখকরা বলছেন, এই বৃদ্ধির হার প্রাথমিক সনাক্তকরণের সময়ে বিটা এবং ডেল্টা ভেরিয়েন্টের বৃদ্ধির অনুরূপ। এটি বেশি সংক্রামক হতে পারে এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেহেতু স্পাইক প্রোটিনে অনেকগুলি মিউটেশন রয়েছে, এর ফলে এটি প্রতিরোধ ক্ষমতা থেকে রক্ষা পেতে পারে। এভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্বব্যাপী টিকা অভিযানের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে,’ কলকাতার সিএসআইআর-ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ কেমিক্যাল বায়োলজির ভাইরোলজিস্ট উপাসনা রায়, পিটিআইকে এমনটাই জানিয়েছেন।