বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাজটাকে ভালো লাগার জন্য করিনি, টাকার জন্য করেছি: বাঁধন

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতন হলেও কাজে প্রভাব পড়তে দেননি। অভিনয়ে একাগ্রতা, নিষ্ঠা, আত্মত্যাগ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের সিঁড়িতে। তার ক্যারিয়ারে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।

‘রেহানা মরিয়ম নুর’ দিয়ে দেশের পাশাপাশি বিশ্বের দরবারে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘গুটি’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে আজ। শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত ৭ পর্বের এই সিরিজটি আজ রাত থেকে চরকিতে দেখা যাবে।

‘গুটি’তে মাদক পাচারকারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন। যেখানে তাকে শরীরে মাদক নিয়ে পাচারের কাজটি করতে হয়। ‘গুটি’ মুক্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ার, মাঝে অনেকটা বিরতি। এরপর নতুনভাবে ফিরে আসা, সাফল্যের দেখা পাওয়া। এ সাফল্যের কারণ কী? এমন ছিল বাঁধনের কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা কি, একটা সময় ব্যক্তিগত কারণে কিছুটা ডিজেস্টারের মধ্যে অতিবাহিত করছিলাম। সেটা ২০১৭-তে। আমার ক্রনিক ডিপ্রেশন ছিল। তা আরও সিভিয়ারভাবে অ্যাটাক করে আমাকে। এরপর একজন থেরাপিস্টের কাছে কাউন্সিলিংয়ে গেলে তিনি আমাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন যে, আপনি যে কাজটি করেন তা ভালো লাগে কি না? আমি তখন বললাম, না লাগে না। তিনি বললেন, তাহলে কেন করেন? বললাম, আমার তো টাকা দরকার, তাই করি। আসলে তখন কাজটাকে ভালো লাগার জন্য করিনি, টাকার জন্য করেছি।

এরপর তিনি পরামর্শ দিলেন, যে কাজই করবেন ভালো লাগানোর জন্য করবেন। এরপর আমি নিয়মিত ২৫-৩০ দিন পুবাইল-উত্তরায় নাটক, সিরিজ করতে লাগলাম। খুবই কমফোর্ট জোনে থেকে কাজগুলো করতে লাগলাম। ৮টার মধ্যে যে ছেড়ে দেবে, ঠিকঠাক কাজ দেবে তাদের কাজগুলো করতে লাগলাম।’

বাঁধন বলেন, ওই সময়টায় আমরা অনেক কিছুর সম্মুখীন হই। খুবই অস্তিত্বহীন হয়ে যাই তখন। তবে ওই অবস্থায়ই আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার চেষ্টা করতে লাগলাম। এরপর বাচ্চাকে নিয়ে কোর্টে গার্ডিয়ানশিপের জন্য গেলাম। এরপর থেকে বলা শুরু করলাম। এটা খুবই ইন্টারেস্টিং যে, আমি কিন্তু রেহানা মরিয়ম নুরের কাছে যাইনি, অক্টোপাসের কাছে যাইনি কিংবা মুসকান বা অন্যান্য চরিত্রের কাছে। সেগুলোই কিন্তু আমার কাছে এসেছে।

তিনি বলেন, এটা একটা অস্বাভাবিক ঘটনা যে, সাদের টিম আমাকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। আমি তখন কিন্তু নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, এটা আমার লাস্ট অপশন। এটা আমাকে করতে হবে এবং শতভাগ ডেডিকেশন দিয়ে। এরপর তো একটার পর একটা কাজ করেছি, এখনো করে যাচ্ছি।

সেই বাঁধন কি কিছুটা হলেও পাল্টেছে? অভিনেত্রী বলেন, কিছুই চেঞ্জ হয়নি। আমি যে বাঁধন ছিলাম সে বাঁধনই আছি। আমার কাছে আসলে যে কোনো কাজের গল্প ও চরিত্রটা পছন্দ হতে হবে। আর আমার ডিরেক্টরকে আমাকে বিশ্বাস করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

সাকিব আল হাসানকে টপকে পরীমনির নতুন রেকর্ড

কাজটাকে ভালো লাগার জন্য করিনি, টাকার জন্য করেছি: বাঁধন

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৭:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৩

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতন হলেও কাজে প্রভাব পড়তে দেননি। অভিনয়ে একাগ্রতা, নিষ্ঠা, আত্মত্যাগ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের সিঁড়িতে। তার ক্যারিয়ারে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ অনন্য মাত্রা যোগ করেছে।

‘রেহানা মরিয়ম নুর’ দিয়ে দেশের পাশাপাশি বিশ্বের দরবারে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। তার অভিনীত ওয়েব ফিল্ম ‘গুটি’ মুক্তি পেতে যাচ্ছে আজ। শঙ্খ দাশগুপ্ত পরিচালিত ৭ পর্বের এই সিরিজটি আজ রাত থেকে চরকিতে দেখা যাবে।

‘গুটি’তে মাদক পাচারকারীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন বাঁধন। যেখানে তাকে শরীরে মাদক নিয়ে পাচারের কাজটি করতে হয়। ‘গুটি’ মুক্তি উপলক্ষে সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন এই অভিনেত্রী।

দীর্ঘ ১৭ বছরের ক্যারিয়ার, মাঝে অনেকটা বিরতি। এরপর নতুনভাবে ফিরে আসা, সাফল্যের দেখা পাওয়া। এ সাফল্যের কারণ কী? এমন ছিল বাঁধনের কাছে।

জবাবে তিনি বলেন, ‘সত্যি কথা কি, একটা সময় ব্যক্তিগত কারণে কিছুটা ডিজেস্টারের মধ্যে অতিবাহিত করছিলাম। সেটা ২০১৭-তে। আমার ক্রনিক ডিপ্রেশন ছিল। তা আরও সিভিয়ারভাবে অ্যাটাক করে আমাকে। এরপর একজন থেরাপিস্টের কাছে কাউন্সিলিংয়ে গেলে তিনি আমাকে একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন যে, আপনি যে কাজটি করেন তা ভালো লাগে কি না? আমি তখন বললাম, না লাগে না। তিনি বললেন, তাহলে কেন করেন? বললাম, আমার তো টাকা দরকার, তাই করি। আসলে তখন কাজটাকে ভালো লাগার জন্য করিনি, টাকার জন্য করেছি।

এরপর তিনি পরামর্শ দিলেন, যে কাজই করবেন ভালো লাগানোর জন্য করবেন। এরপর আমি নিয়মিত ২৫-৩০ দিন পুবাইল-উত্তরায় নাটক, সিরিজ করতে লাগলাম। খুবই কমফোর্ট জোনে থেকে কাজগুলো করতে লাগলাম। ৮টার মধ্যে যে ছেড়ে দেবে, ঠিকঠাক কাজ দেবে তাদের কাজগুলো করতে লাগলাম।’

বাঁধন বলেন, ওই সময়টায় আমরা অনেক কিছুর সম্মুখীন হই। খুবই অস্তিত্বহীন হয়ে যাই তখন। তবে ওই অবস্থায়ই আমি নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার চেষ্টা করতে লাগলাম। এরপর বাচ্চাকে নিয়ে কোর্টে গার্ডিয়ানশিপের জন্য গেলাম। এরপর থেকে বলা শুরু করলাম। এটা খুবই ইন্টারেস্টিং যে, আমি কিন্তু রেহানা মরিয়ম নুরের কাছে যাইনি, অক্টোপাসের কাছে যাইনি কিংবা মুসকান বা অন্যান্য চরিত্রের কাছে। সেগুলোই কিন্তু আমার কাছে এসেছে।

তিনি বলেন, এটা একটা অস্বাভাবিক ঘটনা যে, সাদের টিম আমাকে নিয়ে কাজ করার আগ্রহ দেখিয়েছে। আমি তখন কিন্তু নিজেকে বুঝিয়েছিলাম, এটা আমার লাস্ট অপশন। এটা আমাকে করতে হবে এবং শতভাগ ডেডিকেশন দিয়ে। এরপর তো একটার পর একটা কাজ করেছি, এখনো করে যাচ্ছি।

সেই বাঁধন কি কিছুটা হলেও পাল্টেছে? অভিনেত্রী বলেন, কিছুই চেঞ্জ হয়নি। আমি যে বাঁধন ছিলাম সে বাঁধনই আছি। আমার কাছে আসলে যে কোনো কাজের গল্প ও চরিত্রটা পছন্দ হতে হবে। আর আমার ডিরেক্টরকে আমাকে বিশ্বাস করতে হবে।