মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মারা গেছেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। মুম্বাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার (১২ এপ্রিল) তার মৃত্যু হয়েছে। এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছে এনডিটিভিসহ ভারতের বেশ কিছু গণমাধ্যম।

জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

এর আগে, হৃদরোগে আক্রান্ত হলে আশা ভোঁসলেকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় আশা ভোঁসলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ফুসফুসের সমস্যাতেও ভুগছিলেন। অবশেষে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে ভারত উপমহাদেশের শোবিজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, শুরুতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও, গায়িকার নাতনি জানিয়েছেন, বুকে সংক্রমণের কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কিংবদন্তি গায়িকার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। গায়িকার ঘনিষ্ঠ সূত্রও নিশ্চিত করেছে, তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।

গতকাল শনিবার রাতে আশা ভোঁসলের নাতনি জনাই ভোঁসলে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আমার ঠাকুমা আশা ভোঁসলে অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা সবার কাছে আমাদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করছি। চিকিৎসা চলছে এবং আমরা আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে। শিগগিরই আমরা ভালো খবর দেব।’

উল্লেখ্য, ১৯৩৩ সালে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের এক মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আশা। তার বাবার নাম পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর। ভারতের আরেক কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর তার আপন বড় বোন।

১৯৪৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেন আশা ভোঁসলে। দীর্ঘ আট দশকের ক্যারিয়ারে সংগীতপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’ থেকে শুরু করে মেলোডিয়াস গান ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’- এর মতো জনপ্রিয় সব গান।

ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষাতেও হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন আশা ভোঁসলে। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ থেকে গজল- বিভিন্ন ধারার সংগীতে তার অসাধারণ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আশা ভোঁসলে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ সিনেমার সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন।

আশা ভোঁসলে একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যা তাকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

মারা গেছেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে

প্রকাশিত সময় : ০৬:৩২:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। মুম্বাইয়ে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ রোববার (১২ এপ্রিল) তার মৃত্যু হয়েছে। এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছে এনডিটিভিসহ ভারতের বেশ কিছু গণমাধ্যম।

জানা গেছে, আগামীকাল সোমবার বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

এর আগে, হৃদরোগে আক্রান্ত হলে আশা ভোঁসলেকে মুম্বাইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বলা হয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় আশা ভোঁসলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি ফুসফুসের সমস্যাতেও ভুগছিলেন। অবশেষে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ দুপুরে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে ভারত উপমহাদেশের শোবিজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, শুরুতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লেও, গায়িকার নাতনি জানিয়েছেন, বুকে সংক্রমণের কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কিংবদন্তি গায়িকার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। গায়িকার ঘনিষ্ঠ সূত্রও নিশ্চিত করেছে, তিনি আগের চেয়ে ভালো আছেন এবং সুস্থ হয়ে উঠছেন।

গতকাল শনিবার রাতে আশা ভোঁসলের নাতনি জনাই ভোঁসলে ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘আমার ঠাকুমা আশা ভোঁসলে অতিরিক্ত ক্লান্তি ও বুকে সংক্রমণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা সবার কাছে আমাদের গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানানোর অনুরোধ করছি। চিকিৎসা চলছে এবং আমরা আশা করছি সব ঠিক হয়ে যাবে। শিগগিরই আমরা ভালো খবর দেব।’

উল্লেখ্য, ১৯৩৩ সালে ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্রের এক মারাঠি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন আশা। তার বাবার নাম পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর। ভারতের আরেক কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকর তার আপন বড় বোন।

১৯৪৩ সালে ক্যারিয়ার শুরু করেন আশা ভোঁসলে। দীর্ঘ আট দশকের ক্যারিয়ারে সংগীতপ্রেমীদের উপহার দিয়েছেন ‘দম মারো দম’, ‘চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’ থেকে শুরু করে মেলোডিয়াস গান ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’- এর মতো জনপ্রিয় সব গান।

ভারতীয় ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন বিদেশি ভাষাতেও হাজার হাজার গান রেকর্ড করেছেন আশা ভোঁসলে। শাস্ত্রীয়, লোকসংগীত, পপ থেকে গজল- বিভিন্ন ধারার সংগীতে তার অসাধারণ মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা তাকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

দীর্ঘ কর্মজীবনে ভারতীয় সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আশা ভোঁসলে অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ সিনেমার সম্মান ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’-এ ভূষিত হয়েছেন এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ও অর্জন করেছেন।

আশা ভোঁসলে একাধিক জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও ফিল্মফেয়ার পুরস্কার জিতেছেন, যা তাকে ভারতীয় প্লেব্যাক সংগীতের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ও সর্বাধিক সম্মানিত কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।