বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুর ছুড়ে দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি: তদন্ত কমিটি

বাগেরহাটে কুমিরের মুখে ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুর ছুড়ে দেওয়ার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল।

ঘটনাটি ঘটে ৮ এপ্রিল বিকেলে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে। এ সময় একটি কুমির কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে টেনে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই দাবি করেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

মাজারের খাদেম, নিরাপত্তাপ্রহরী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একটি অসুস্থ ও আক্রমণাত্মক কুকুর হঠাৎ করে ঘাট এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়, যার মধ্যে একটি শিশুও ছিল। কুকুরটি কয়েকটি মুরগিও মেরে ফেলে। পরে লোকজন তাড়া দিলে কুকুরটি দৌড়ে মূল ঘাটে যায় এবং সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদারকে আঁচড় দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ছিল, নিরাপত্তাকর্মী পা ঝাড়া দেওয়ার সময় কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। তখন দিঘিতে থাকা কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে টেনে নেয়। ভাইরাল ভিডিওতে এই শেষ মুহূর্তটিই দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন, যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যা তার আক্রমণাত্মক আচরণের কারণ হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আনুশকার রেকর্ড ভাঙলেন সামান্থা

বাগেরহাটে কুমিরের মুখে কুকুর ছুড়ে দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি: তদন্ত কমিটি

প্রকাশিত সময় : ০৮:৪৬:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বাগেরহাটে কুমিরের মুখে ইচ্ছাকৃতভাবে কুকুর ছুড়ে দেওয়ার অভিযোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জমা দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল।

ঘটনাটি ঘটে ৮ এপ্রিল বিকেলে হজরত খানজাহান (রহ.)-এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে। এ সময় একটি কুমির কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে টেনে নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই দাবি করেন, কুকুরটিকে ইচ্ছাকৃতভাবে কুমিরের সামনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

মাজারের খাদেম, নিরাপত্তাপ্রহরী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একটি অসুস্থ ও আক্রমণাত্মক কুকুর হঠাৎ করে ঘাট এলাকায় কয়েকজনকে কামড় দেয়, যার মধ্যে একটি শিশুও ছিল। কুকুরটি কয়েকটি মুরগিও মেরে ফেলে। পরে লোকজন তাড়া দিলে কুকুরটি দৌড়ে মূল ঘাটে যায় এবং সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী মো. ফোরকান হাওলাদারকে আঁচড় দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ছিল, নিরাপত্তাকর্মী পা ঝাড়া দেওয়ার সময় কুকুরটি পানিতে পড়ে যায়। তখন দিঘিতে থাকা কুমিরটি কুকুরটিকে ধরে পানির নিচে টেনে নেয়। ভাইরাল ভিডিওতে এই শেষ মুহূর্তটিই দেখা গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন, যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কুকুরটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যা তার আক্রমণাত্মক আচরণের কারণ হতে পারে।