বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই ক্যামেরার দখলে বহু সড়ক, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ক্রসিংয়ে বসানো হচ্ছে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা। ইতোমধ্যে আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই ক্যামেরা স্থাপন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পর্যায়ক্রমে অন্তত ৩০টি স্থানে এই প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। গেল এক সপ্তাহেই এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ৩ শতাধিক মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই সঙ্গে যানবাহনের সঠিক স্থানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংযুক্ত করার নির্দেশনাও দিয়েছে ডিএমপি।

রাজধানীর কাওরান বাজার মোড়ে ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে এআই ক্যামেরা। ট্রাফিক আইন অমান্য কিংবা যানবাহনের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা তাৎক্ষণিক শনাক্ত করতে পারছে এই প্রযুক্তি।

ডিএমপির তথ্য মতে, গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে স্থাপিত এআই ক্যামেরা লাল বাতি অমান্য, জেব্রা ক্রসিং দখল, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোসহ অন্তত ছয় ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে সক্ষম।

এ ছাড়া বিআরটিএর ডাটাবেইস ব্যবহার করে গাড়ির মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্রও শনাক্ত করা যাবে। আইন ভঙ্গের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হবে এবং গাড়ির মালিকের কাছে এসএমএস ও নোটিশ পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাড়া না দিলে সমন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে।

ডিএমপির মুখপাত্র এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, এই কার্যক্রমের আওতা আস্তে আস্তে বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থায় একটা শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছি।

বর্তমানে রাজধানীর গুলশান, বিজয় স্মরণীসহ আটটি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট ও এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। ধাপে ধাপে প্রায় ৩০টি স্থানে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির শাহবাগ জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তারিকুল আলম বলেন, এটা হলে আমাদের ওপর চাপ অনেক অংশে কমে যাবে। মানুষের হয়তো অভ্যস্ত হতে সময় লাগবে, পরে একটা সময় দেখা যাবে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, এটা শুরু হলো। আমাদের লোকজন, ইঞ্জিনিয়ারসহ সবাই কাজ করছেন। ভবিষ্যতে দেখা যাবে এক হাজার করে মামলা হবে হয়তো।

যদিও শাস্তি নয়, বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জনসচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও নিয়মতান্ত্রিক হবে বলেও আশা করছে পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এআই ক্যামেরার দখলে বহু সড়ক, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা

প্রকাশিত সময় : ১০:৪০:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও ক্রসিংয়ে বসানো হচ্ছে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ক্যামেরা। ইতোমধ্যে আটটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এই ক্যামেরা স্থাপন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। পর্যায়ক্রমে অন্তত ৩০টি স্থানে এই প্রযুক্তি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। গেল এক সপ্তাহেই এসব ক্যামেরার মাধ্যমে ৩ শতাধিক মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একই সঙ্গে যানবাহনের সঠিক স্থানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংযুক্ত করার নির্দেশনাও দিয়েছে ডিএমপি।

রাজধানীর কাওরান বাজার মোড়ে ইতোমধ্যে বসানো হয়েছে এআই ক্যামেরা। ট্রাফিক আইন অমান্য কিংবা যানবাহনের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা তাৎক্ষণিক শনাক্ত করতে পারছে এই প্রযুক্তি।

ডিএমপির তথ্য মতে, গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে স্থাপিত এআই ক্যামেরা লাল বাতি অমান্য, জেব্রা ক্রসিং দখল, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানোসহ অন্তত ছয় ধরনের ট্রাফিক আইন ভঙ্গ শনাক্ত করতে সক্ষম।

এ ছাড়া বিআরটিএর ডাটাবেইস ব্যবহার করে গাড়ির মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্রও শনাক্ত করা যাবে। আইন ভঙ্গের ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা হবে এবং গাড়ির মালিকের কাছে এসএমএস ও নোটিশ পাঠানো হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাড়া না দিলে সমন কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি হতে পারে।

ডিএমপির মুখপাত্র এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, এই কার্যক্রমের আওতা আস্তে আস্তে বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থায় একটা শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছি।

বর্তমানে রাজধানীর গুলশান, বিজয় স্মরণীসহ আটটি পয়েন্টে ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট ও এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। ধাপে ধাপে প্রায় ৩০টি স্থানে এই ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ডিএমপির শাহবাগ জোনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর তারিকুল আলম বলেন, এটা হলে আমাদের ওপর চাপ অনেক অংশে কমে যাবে। মানুষের হয়তো অভ্যস্ত হতে সময় লাগবে, পরে একটা সময় দেখা যাবে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে।

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, এটা শুরু হলো। আমাদের লোকজন, ইঞ্জিনিয়ারসহ সবাই কাজ করছেন। ভবিষ্যতে দেখা যাবে এক হাজার করে মামলা হবে হয়তো।

যদিও শাস্তি নয়, বরং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জনসচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। আধুনিক প্রযুক্তি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আরও নিয়মতান্ত্রিক হবে বলেও আশা করছে পুলিশ।