বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাকিস্তানে টিকটকার হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

পাকিস্তানে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সানা ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। এ রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়, গত বছরের জুন মাসে অভিযুক্ত ওমর হায়াত ১৭ বছর বয়সী টিকটক তারকা সানা ইউসুফের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পরবর্তী সময়ে একই বছরের জুলাইয়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

তদন্তে আরো জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে উমর হায়াত ইসলামাবাদে গিয়ে সানার জন্মদিনে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

তবে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানানো হলে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে।

নিহত সানা ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। টিকটকে তার ১০ লাখের বেশি অনুসারী ছিল।

ফ্যাশন, গান এবং দৈনন্দিন জীবনের ভিডিও দিয়ে তিনি তরুণদের মধ্যে পরিচিতি পান।

তার মৃত্যু নারী নির্যাতনের একটি ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নমতও দেখা গেছে, যেখানে কিছু ব্যবহারকারী তার কনটেন্ট নিয়েও সমালোচনা করেছেন।

তদন্তের সময় পুলিশ ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে।

এই রায়কে সমাজে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন নিহতের পরিবার।

সানা ইউসুফের বাবা এই রায়কে সমাজের জন্য একটি শিক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করায় বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন প্রধানমন্ত্রীর

পাকিস্তানে টিকটকার হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
পাকিস্তানে সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সানা ইউসুফ হত্যাকাণ্ডের মামলায় আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। এ রায়কে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২০ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়, গত বছরের জুন মাসে অভিযুক্ত ওমর হায়াত ১৭ বছর বয়সী টিকটক তারকা সানা ইউসুফের বাড়িতে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করেন। পরবর্তী সময়ে একই বছরের জুলাইয়ে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।

তদন্তে আরো জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের কিছুদিন আগে উমর হায়াত ইসলামাবাদে গিয়ে সানার জন্মদিনে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

তবে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানানো হলে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানায় পুলিশ।

আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি নিহতের পরিবারকে ২৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে।

নিহত সানা ইউসুফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন। টিকটকে তার ১০ লাখের বেশি অনুসারী ছিল।

ফ্যাশন, গান এবং দৈনন্দিন জীবনের ভিডিও দিয়ে তিনি তরুণদের মধ্যে পরিচিতি পান।

তার মৃত্যু নারী নির্যাতনের একটি ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তবে ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ভিন্নমতও দেখা গেছে, যেখানে কিছু ব্যবহারকারী তার কনটেন্ট নিয়েও সমালোচনা করেছেন।

তদন্তের সময় পুলিশ ইসলামাবাদ ও পাঞ্জাব প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে।

এই রায়কে সমাজে এমন অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন নিহতের পরিবার।

সানা ইউসুফের বাবা এই রায়কে সমাজের জন্য একটি শিক্ষা বলে মন্তব্য করেছেন।