প্রকাশিত সময় :
০৫:৩৩:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
৭
পাবনার ঈশ্বরদীতে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে এক যুবদল নেতাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার (১৯ মে) দিবাগত রাতে পার্শ্ববর্তী নাটোরের লালপুর উপজেলার পালিদহ গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামির নাম মাহমুদ হাসান সোনামনি। তিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তার হওয়া তাঁর বাকি তিন সহযোগীর মধ্যে কাজল ও সুইট নামের দুজনের নাম নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পালিদহ এলাকায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে সোনামনির কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও ১০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে লালপুর থানায় অস্ত্র আইনে আলাদা মামলার প্রক্রিয়া চলছে।
ঈশ্বরদী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ মে ঈশ্বরদীর গোকুলনগর এলাকার ব্যবসায়ী মো. মাহমুদুজ্জামান বাদী হয়ে সোনামনি, জাকির ও কাজলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে মাহমুদুজ্জামান উল্লেখ করেন, গত ১৭ মাসে অভিযুক্তরা অস্ত্র ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে কয়েক দফায় মোট ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। আসামিরা তাঁর মালিকানাধীন ‘আরাবি পিউরিফাইড ড্রিংকিং ওয়াটার’ ও ‘মেসার্স আহনাফ এন্টারপ্রাইজ’ নামক দুটি প্রতিষ্ঠানে দফায় দফায় চড়াও হয়ে এই অর্থ হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া ‘পদ্মা ড্রিংকিং ওয়াটার’ ও ‘যমুনা ড্রিংকিং ওয়াটার’ নামের আরও দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কাছ থেকেও তাঁরা একইভাবে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করেছেন এবং ভয়ভীতি দেখানো অব্যাহত রেখেছেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মাহমুদুজ্জামান বলেন, আসামিদের লাগাতার হুমকিতে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গিয়েছিল। ব্যবসার পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা বাধ্য হয়ে ঈশ্বরদী থানা ছাড়াও র্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।