বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

চুয়াডাঙ্গায় এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের পর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন, কুন্দিপুর গ্রামের কাদের ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল আলী (৪৫) একই এলাকার হোসেন আলীর ছেলে জনি হোসেন (২১) ও আবদুল কাদেরের ছেলে পলাশ আলী (২০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ওই কিশোরী ছাগল আনার জন্য মাঠে যায়। এসময় পলাতক আসামি মিরাজ তাকে জোর করে ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে। অপর আসামি পলাশ ধর্ষণের ওই দৃশ্য তার মোবাইলে রেকর্ড করে। অভিযুক্ত জনি তাদেরকে ভুট্টা ক্ষেতের বাইরে পাহারা দেয়। পরে সংঘবদ্ধ অভিযুক্তরা মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, ‘এই কথা কাউকে বললে এই ভিডিও নেটে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করে দেওয়া হবে।’ কয়েকদিন পরে আসামিদের মোবাইল থেকে ধর্ষণের ওই ভিডিও বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটির পরিবার বিষয়টি জানতে পারলে, আসামি পলাশ ভিডিওটি সরিয়ে ফেলতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। অপর আসামি আব্দুল আলী বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসাসহ ভিডিও সরাতে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসলে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মিরাজকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত সময় : ০৬:৩৭:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
চুয়াডাঙ্গায় এক কিশোরীকে (১৫) ধর্ষণের পর আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানার পুলিশ। এ ঘটনায় ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার কুন্দিপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন, কুন্দিপুর গ্রামের কাদের ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল আলী (৪৫) একই এলাকার হোসেন আলীর ছেলে জনি হোসেন (২১) ও আবদুল কাদেরের ছেলে পলাশ আলী (২০)।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল বিকেলে ওই কিশোরী ছাগল আনার জন্য মাঠে যায়। এসময় পলাতক আসামি মিরাজ তাকে জোর করে ভুট্টা ক্ষেতের মধ্যে নিয়ে ধর্ষণ করে। অপর আসামি পলাশ ধর্ষণের ওই দৃশ্য তার মোবাইলে রেকর্ড করে। অভিযুক্ত জনি তাদেরকে ভুট্টা ক্ষেতের বাইরে পাহারা দেয়। পরে সংঘবদ্ধ অভিযুক্তরা মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, ‘এই কথা কাউকে বললে এই ভিডিও নেটে ছড়িয়ে দিয়ে ভাইরাল করে দেওয়া হবে।’ কয়েকদিন পরে আসামিদের মোবাইল থেকে ধর্ষণের ওই ভিডিও বিভিন্ন মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ধর্ষণের শিকার ওই মেয়েটির পরিবার বিষয়টি জানতে পারলে, আসামি পলাশ ভিডিওটি সরিয়ে ফেলতে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। অপর আসামি আব্দুল আলী বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংসাসহ ভিডিও সরাতে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ধর্ষণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসলে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। একইসাথে আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মিরাজকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।