শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্রুততম গোলে তুরস্ককে কাঁদাল প্যারাগুয়ে

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র ৬৫ সেকেন্ড। তুরস্কের রক্ষণভাগ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বল জালে জড়িয়ে বুনো উল্লাসে মাতলেন প্যারাগুয়ের মাতিয়া গালারজা। চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়া সেই এক গোলের লিডই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল। এরপর ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করল লাতিন আমেরিকার দলটি। অন্যদিকে ৩২টি শট নিয়েও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের দেয়াল ভাঙতে না পেরে ম্যাচ শেষে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন তুরস্কের ফুটবলাররা।

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে প্রায় ৬৯ হাজার দর্শকের সামনে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের টিকিয়ে রাখল প্যারাগুয়ে। বিপরীতে টানা দুই হারে আসর থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স’ তুরস্কের।

ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে স্তব্ধ হয়ে পড়ে তুরস্ক। তবে ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খায় প্যারাগুয়ে। দলের এক ফুটবলার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বাকি সময়টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। এই সুযোগে প্যারাগুয়ের ওপর আক্রমণের স্টিমরোলার চালায় তুরস্ক। প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ করলেও প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে পারেনি ভিনসেঞ্জো মন্তেল্লার শিষ্যরা।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা রূপ নেয় এক চরম নাটকীয়তায়। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফিরতে মরিয়া তুরস্ক অল-আউট ফুটবলের কৌশল নেয়। ১২টি কর্নার, বক্সের ভেতর ৫১ বার বলের স্পর্শ এবং ৩২টি শটের বিপরীতে ডিফেন্ডারদের মানবদেয়াল ও গোলরক্ষক জিল-এর অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ম্যাচে টিকে থাকে প্যারাগুয়ে। চেলসি বা উইগানের সেই ঐতিহাসিক ‘বাস পার্কিং’ (সব খেলোয়াড় নিয়ে রক্ষণভাগ সামলানো) কৌশলে মাত্র ২১ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তুরস্কের প্রতিটি আক্রমণ নস্যাৎ করে দেয় লাতিনরা।

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে তুরস্কের গোললাইনের একদম কাছ থেকে দিনুজ গুলের শট রুখে দেন ডিফেন্ডার গোমেজ। ৮৯ মিনিটে আবারও সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে তুরস্ক। গোলরক্ষক জিল বল গ্রিপে নিতে ব্যর্থ হলে ফিরতি শটে গোল করতে ব্যর্থ হন গুল। ৯৭ মিনিটে তুর্কি ডিফেন্ডার ডেমিরাল ফাঁকায় হেড করলেও বল পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। একদম শেষ মুহূর্তে তুরস্কের অধিনায়ক হাকান কালহানোগলুর জোরালো শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হতেই রেফারি শেষ বাঁশি বাজান।

ম্যাচ শেষের সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন আরদা গুলেরসহ তুরস্কের ফুটবলাররা। আর ১০ জন নিয়ে বীরত্বগাথা রচনা করা প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা উল্লাসে। চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া গোলদাতা গালারজা তখন স্ট্রেচারে শুয়েই সতীর্থদের অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন। রক্ষণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনী দেখিয়ে বিশ্বকাপ রূপকথা লিখল প্যারাগুয়ে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

দ্রুততম গোলে তুরস্ককে কাঁদাল প্যারাগুয়ে

প্রকাশিত সময় : ১২:৫৯:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র ৬৫ সেকেন্ড। তুরস্কের রক্ষণভাগ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বল জালে জড়িয়ে বুনো উল্লাসে মাতলেন প্যারাগুয়ের মাতিয়া গালারজা। চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়া সেই এক গোলের লিডই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দিল। এরপর ম্যাচের বাকি সময় ১০ জন নিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করল লাতিন আমেরিকার দলটি। অন্যদিকে ৩২টি শট নিয়েও প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের দেয়াল ভাঙতে না পেরে ম্যাচ শেষে মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন তুরস্কের ফুটবলাররা।

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে প্রায় ৬৯ হাজার দর্শকের সামনে ‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের টিকিয়ে রাখল প্যারাগুয়ে। বিপরীতে টানা দুই হারে আসর থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেল টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স’ তুরস্কের।

ম্যাচের প্রথম মিনিটেই গোল হজম করে স্তব্ধ হয়ে পড়ে তুরস্ক। তবে ধাক্কা সামলে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খায় প্যারাগুয়ে। দলের এক ফুটবলার লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বাকি সময়টা ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় তাদের। এই সুযোগে প্যারাগুয়ের ওপর আক্রমণের স্টিমরোলার চালায় তুরস্ক। প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ করলেও প্রথমার্ধে সমতায় ফিরতে পারেনি ভিনসেঞ্জো মন্তেল্লার শিষ্যরা।

দ্বিতীয়ার্ধে খেলা রূপ নেয় এক চরম নাটকীয়তায়। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত সমতায় ফিরতে মরিয়া তুরস্ক অল-আউট ফুটবলের কৌশল নেয়। ১২টি কর্নার, বক্সের ভেতর ৫১ বার বলের স্পর্শ এবং ৩২টি শটের বিপরীতে ডিফেন্ডারদের মানবদেয়াল ও গোলরক্ষক জিল-এর অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে ম্যাচে টিকে থাকে প্যারাগুয়ে। চেলসি বা উইগানের সেই ঐতিহাসিক ‘বাস পার্কিং’ (সব খেলোয়াড় নিয়ে রক্ষণভাগ সামলানো) কৌশলে মাত্র ২১ শতাংশ বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও তুরস্কের প্রতিটি আক্রমণ নস্যাৎ করে দেয় লাতিনরা।

ম্যাচের ৮৫ মিনিটে তুরস্কের গোললাইনের একদম কাছ থেকে দিনুজ গুলের শট রুখে দেন ডিফেন্ডার গোমেজ। ৮৯ মিনিটে আবারও সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে তুরস্ক। গোলরক্ষক জিল বল গ্রিপে নিতে ব্যর্থ হলে ফিরতি শটে গোল করতে ব্যর্থ হন গুল। ৯৭ মিনিটে তুর্কি ডিফেন্ডার ডেমিরাল ফাঁকায় হেড করলেও বল পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। একদম শেষ মুহূর্তে তুরস্কের অধিনায়ক হাকান কালহানোগলুর জোরালো শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হতেই রেফারি শেষ বাঁশি বাজান।

ম্যাচ শেষের সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে হাঁটু গেড়ে বসে কান্নায় ভেঙে পড়েন আরদা গুলেরসহ তুরস্কের ফুটবলাররা। আর ১০ জন নিয়ে বীরত্বগাথা রচনা করা প্যারাগুয়ের ফুটবলাররা মেতে ওঠেন বাঁধভাঙা উল্লাসে। চোট নিয়ে মাঠ ছাড়া গোলদাতা গালারজা তখন স্ট্রেচারে শুয়েই সতীর্থদের অভিনন্দন জানাচ্ছিলেন। রক্ষণাত্মক ফুটবলের প্রদর্শনী দেখিয়ে বিশ্বকাপ রূপকথা লিখল প্যারাগুয়ে।