বিশ্লেষণে বলা হয়, ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনা নিজেদের স্বাভাবিক ফুটবল থেকে সরে গিয়ে অতিরিক্ত শারীরিক ও আক্রমণাত্মক কৌশলের ওপর নির্ভর করে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দলের আক্রমণ সাজানোর বদলে তিনি দীর্ঘ সময় কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিলেন এবং নিজের স্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের জয় ছিল ফুটবলের জয়। কারণ পুরো ম্যাচে স্প্যানিশরা বলের নিয়ন্ত্রণ, পাসিং ও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনায় এগিয়ে থাকলেও আর্জেন্টিনা বারবার ফাউল, শারীরিক লড়াই এবং উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ে।
বিবিসি আরও উল্লেখ করেছে, ম্যাচের শুরুতে স্পেনের দানি ওলমোর ওপর আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি কঠিন ফাউলের পরও কঠোর শাস্তি না হওয়ায় গ্যালারিতে থাকা স্প্যানিশ সমর্থকেরা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নাম ধরে ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান দেন। এর পেছনে টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনা রেফারিংয়ে সুবিধা পেয়েছে—এমন অভিযোগও নতুন করে আলোচনায় আসে।
মেসিও এক পর্যায়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। স্পেনের মার্ক কুকুরেয়ার আচরণের বিরুদ্ধে রেফারির কাছে অভিযোগ জানাতে দেখা যায় তাকে। তবে প্রতিবেদনের মূল সমালোচনা ছিল দলের সামগ্রিক মানসিকতা নিয়ে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত সময়ে যাওয়ার ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজের অপ্রয়োজনীয় ফাউল এবং দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হওয়ায় আর্জেন্টিনা আরও চাপে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়েই হারের মুখ দেখে।
পরিসংখ্যানও আর্জেন্টিনার হতাশাজনক পারফরম্যান্সের প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো শটই নিতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে স্পেন গোলমুখে ১২টি শট নেয়। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের শেষ তৃতীয়াংশে আর্জেন্টিনার সফল পাস ছিল মাত্র আটটি, অথচ ফাউল করেছিল নয়টি।
ম্যাচ শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাও তৈরি হয়। লিয়ান্দ্রো পারেদেস এরিক গার্সিয়া ও গাভির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন, যা নিয়ে নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়। বিবিসির মতে, এমন একটি অসাধারণ বিশ্বকাপের সমাপ্তি এভাবে হওয়া উচিত ছিল না
সূত্র: বিবিসি।

স্পোর্টস ডেস্ক/ ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 













