ভারতের লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, গত ১০ বছরে অন্তত ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে এবং এর জন্য কোনো জবাবদিহি হয়নি। দিল্লিতে কংগ্রেস সদর দপ্তরে বুধবাার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি করেছেন।
ছাত্র বিক্ষোভ নিয়ে সরকারের তীব্র সমালোচনা করে রাহুল গান্ধী বলেছেন, ছাত্ররা একটি ন্যায্য কারণে প্রতিবাদ করছে এবং সরকার তাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। বর্তমান সরকারের অধীনে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ‘কারচুপি’ করা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ এবং ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে রাহুল গান্ধী তার পদত্যাগের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
রাহুল বলেন, “ছাত্ররা ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করছে। এটি একটি ন্যায্য দাবি। প্রধান একজন দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্য ব্যক্তি। তাকে অবশ্যই সরাতে হবে।”
ছাত্রদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে গান্ধী বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান হলেন ‘এই পুরো বিশৃঙ্খলার প্রতীক এবং তাকে অবশ্যই সরাতে হবে।’
রাহুল বলেন, “১০ বছরে ১৫২টি প্রশ্নপত্র ফাঁসের অর্থ হলো প্রতি মাসে গড়ে ১টি করে প্রশ্নপত্র ফাঁস। এই ফাঁসের ঘটনা আমাদের কোটি কোটি ছাত্রছাত্রীকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। অথচ গত ১০ বছরে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলোতে কোনো শাস্তি হয়নি। ছাত্রছাত্রীরা প্রশ্ন করছে, গত ১০ বছরে কেন কোনো শাস্তি হয়নি।”
তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থা, যা একসময় দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ ছিল, বর্তমান সরকারের অধীনে ধ্বংস হয়ে গেছে
গত সোমবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে ককরোচ জনতা পার্টি ভারতের সংসদ অভিমুখে মিছিল করে। এসময় পুলিশের হামলা ও নির্যাতনে আহত হয় বহু শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবন অভিমুখে মিছিল করে কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল। পুলিশ তাদের রাস্তাতেই আটকে দেয়। একপর্যায়ে রাহুলসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে অবশ্য তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 
























