শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, “জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে কোনোভাবেই পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। বরং আত্মমর্যাদা, সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই হবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।”

বুধবার (৫ আগস্ট) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই-আগস্ট ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস সময়। সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের স্মৃতি ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এটি ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

তিনি আরো বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এক সময় তার অবস্থান হারাতে বসেছিল। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বৈশ্বিক পরিসরে এগিয়ে যাচ্ছে।”

ড. খলিলুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের তরুণরা অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই দেশ একটি ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের সুযোগ পেয়েছে। ইতিহাসে তাদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করেছে।”

২০২৪ সালের সেই উত্তাল সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “সে সময় দেশে এক নজিরবিহীন ‘ব্ল্যাক আউট’ বা ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটেছিল, যা এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও দেখা যায়নি।”

২০২৪ সালে ওই সময়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে খলিলুর রহমান জানান, সেই সময় তিনি জাতিসংঘের মহাসচিবের কার্যালয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বিচলিত হয়ে তিনি ১ আগস্ট সরাসরি মহাসচিবের দপ্তরে বিষয়টি অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেন। ধারণা করা হয়, এই আন্তর্জাতিক তৎপরতার ফলেই পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে গুলিবর্ষণ বন্ধ হয় এবং দেশের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ তার হারানো গৌরব ও অবস্থান ফিরে পেতে শুরু করেছে। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, এক সময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যেতে বসা বাংলাদেশ পুনরায় শক্তিশালীভাবে বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসছে।”

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম)।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩০:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, “জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশকে কোনোভাবেই পরনির্ভরশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায় না সরকার। বরং আত্মমর্যাদা, সক্ষমতা ও জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্বসম্প্রদায়ের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই হবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য।”

বুধবার (৫ আগস্ট) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “জুলাই-আগস্ট ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে নৃশংস সময়। সেই রক্তাক্ত অধ্যায়ের স্মৃতি ধারণ করেই নতুন বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।”

তিনি বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, এটি ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।”

তিনি আরো বলেন, “আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ এক সময় তার অবস্থান হারাতে বসেছিল। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বৈশ্বিক পরিসরে এগিয়ে যাচ্ছে।”

ড. খলিলুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের তরুণরা অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগ ও দৃঢ় অবস্থানের কারণেই দেশ একটি ভয়াবহ সংকট থেকে উত্তরণের সুযোগ পেয়েছে। ইতিহাসে তাদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতা ছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের অবস্থান আরো সুদৃঢ় করেছে।”

২০২৪ সালের সেই উত্তাল সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “সে সময় দেশে এক নজিরবিহীন ‘ব্ল্যাক আউট’ বা ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘটনা ঘটেছিল, যা এমনকি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ও দেখা যায়নি।”

২০২৪ সালে ওই সময়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে খলিলুর রহমান জানান, সেই সময় তিনি জাতিসংঘের মহাসচিবের কার্যালয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

তিনি জানান, বাংলাদেশের ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় বিচলিত হয়ে তিনি ১ আগস্ট সরাসরি মহাসচিবের দপ্তরে বিষয়টি অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেন। ধারণা করা হয়, এই আন্তর্জাতিক তৎপরতার ফলেই পরবর্তীতে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর পক্ষ থেকে গুলিবর্ষণ বন্ধ হয় এবং দেশের পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ তার হারানো গৌরব ও অবস্থান ফিরে পেতে শুরু করেছে। সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছেন যে, এক সময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যেতে বসা বাংলাদেশ পুনরায় শক্তিশালীভাবে বিশ্বমঞ্চে ফিরে আসছে।”

এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে বক্তব্য রাখেন ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত। এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলাম সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম)।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিকরা উপস্থিত ছিলেন।