শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজে নৌজোট গড়ার মার্কিন উদ্যোগে ইউরোপের অনাগ্রহ

অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌবাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এখন এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে এমন একটি মিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে দেশ দুটি আগে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাড়তে থাকলেও নৌজোট গঠনের উদ্যোগ তেমন এগোচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, উদ্যোগটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর গভীর সতর্কতারই প্রতিফলন। তাদের আশঙ্কা, এমন একটি অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়া, যা তারা নিজেরা শুরু করেনি বা সমর্থনও করেনি, শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে সামরিক উদ্যোগটির বিষয়ে সুস্পষ্ট সমর্থন না থাকায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অনাগ্রহ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) ও সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এ হেলিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, অন্যদের হয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের খুব একটা আগ্রহ নেই। বিশেষ করে এমন পদক্ষেপের জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দাবি না থাকলে তাদের আগ্রহ আরও কমে যায়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

হরমুজে নৌজোট গড়ার মার্কিন উদ্যোগে ইউরোপের অনাগ্রহ

প্রকাশিত সময় : ১০:০০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
অস্থির ও সংঘাতপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে কয়েক মাস ধরে আন্তর্জাতিক নৌজোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌবাহিনীর নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ ইউরোপীয় মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স এখন এ উদ্যোগে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে আগের মতো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হলে এমন একটি মিশনে নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়ে দেশ দুটি আগে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা অব্যাহত থাকায় এবং এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাড়তে থাকলেও নৌজোট গঠনের উদ্যোগ তেমন এগোচ্ছে না।

বিশ্লেষকদের মতে, উদ্যোগটি কার্যত স্থবির হয়ে পড়া ইউরোপীয় দেশগুলোর গভীর সতর্কতারই প্রতিফলন। তাদের আশঙ্কা, এমন একটি অনিশ্চিত সংঘাতে জড়িয়ে পড়া, যা তারা নিজেরা শুরু করেনি বা সমর্থনও করেনি, শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিশেষ করে উপসাগরীয় দেশগুলোর কাছ থেকে সামরিক উদ্যোগটির বিষয়ে সুস্পষ্ট সমর্থন না থাকায় ইউরোপীয় দেশগুলোর অনাগ্রহ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউট (আরইউএসআই) ও সেন্টার ফর আমেরিকান প্রগ্রেসের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচ এ হেলিয়ার আল-জাজিরাকে বলেন, অন্যদের হয়ে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্য বা ফ্রান্সের খুব একটা আগ্রহ নেই। বিশেষ করে এমন পদক্ষেপের জন্য আঞ্চলিক দেশগুলোর পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট দাবি না থাকলে তাদের আগ্রহ আরও কমে যায়।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা