বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামোয় মহাসচিবের পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলের বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপের মধ্যে সমন্বয়, রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিচালনা এবং সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার বড় দায়িত্ব মহাসচিবের ওপর। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের কাউন্সিলসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন কার্যক্রম থাকায় পদটি নিয়ে দলের ভেতরে আগ্রহও বাড়ছে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে রোববার থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী করেছে।
রাষ্ট্রপতির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ছয় সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করেছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবার আবারও ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একাধিক প্রার্থী থাকায় জাতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে। দলীয় আলোচনায় মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী ও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে ১১১টি মামলা হয়েছে এবং ১১ বার কারাগারে যেতে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন বছর তিনি কারাবন্দি ছিলেন।
গত ১ আগস্ট গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের দায়িত্ব বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যস্ত করেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৩ আগস্ট। এরই মধ্যে গত রোববার বিএনপির পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী নির্বাচন কমিশন থেকে মনোনয়নপত্র দুটি সংগ্রহ করেন। তবে তখন প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছে। যদিও তারা বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সরকারের বাইরে থাকা কোনো নেতাকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়ে কাজ করছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছেন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। দল দায়িত্ব দিলে তখন বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন বলেও জানান তিনি।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 























