বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না: বাঁধন

অনলাইনে হয়রানি, ব্যক্তিগত নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের সৈনিক, জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে এসব অভিযোগ করেছেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’খ্যাত এই অভিনেত্রী।

আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “যখন কোনো দল বলে, তারা সরকারে থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকবে, অথচ একই সময়ে তাদেরই সমর্থকেরা অনলাইনে নারীদের ওপর এভাবে হামলে পড়ে, হয়রানি করে, এমনকি এখন এই ফেসবুক আইডি থেকে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে—তখন এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে!”

ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর অনুমতি বিহীন ছড়িয়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ তথ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “আর একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিতে চাই—কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ভয় দেখানো, আতঙ্ক তৈরি করা কিংবা আমাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা তোমাদের জন্যও যে পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটা মনে রাখা ভালো।”

আজমেরী হক বাঁধন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন—তাকে ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। তার ভাষায়—“আমাকে এত সহজে ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্কিত করে ফেলা সম্ভব নয়। আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে হলে তোমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে।”

হুমকিদাতা ও হয়রানিকারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “তোমরা যা ইচ্ছা করো। শুধু একটা কথা মনে রেখো—আমি প্রায় হাসিনা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেরাপি নিয়েছি, এখনো নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়েছি—নিজেকে মানুষ হিসেবে ধরে রাখার জন্য, ক্ষমতা বা প্রতিহিংসা আমাকে যেন দানবে পরিণত না করে। তাই আমাকে ভয় দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। আর হ্যাঁ, আমি ডাইনি। মনে রেখো।”

আজমেরী হক বাঁধনের এ পোস্টে নেটিজেনদের অনেকে মন্তব্য করেছেন। শুভ্র খান লেখেন, “এরা অনেক আওয়াজ দিবে। কিন্তু কিছু করার ক্ষমতা নাই।” তসলিমা লেখেন, “ওদের জীবনে আর কোনো কাজ নেই, আশাও নেই। পতিত রানীর পতিত প্রজা।” কেউ কেউ বাঁধনের সাহসিকতার প্রশংসা করেও মন্তব্য করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আমাকে ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না: বাঁধন

প্রকাশিত সময় : ০৫:৫৭:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

অনলাইনে হয়রানি, ব্যক্তিগত নম্বর ছড়িয়ে দেওয়া ও ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের সৈনিক, জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এক ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজের স্ক্রিনশট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে এসব অভিযোগ করেছেন ‘রেহানা মরিয়ম নূর’খ্যাত এই অভিনেত্রী।

আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “যখন কোনো দল বলে, তারা সরকারে থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকবে, অথচ একই সময়ে তাদেরই সমর্থকেরা অনলাইনে নারীদের ওপর এভাবে হামলে পড়ে, হয়রানি করে, এমনকি এখন এই ফেসবুক আইডি থেকে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে—তখন এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে!”

ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর অনুমতি বিহীন ছড়িয়ে দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ তথ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “আর একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিতে চাই—কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ভয় দেখানো, আতঙ্ক তৈরি করা কিংবা আমাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার এই চেষ্টা তোমাদের জন্যও যে পরিণতি ডেকে আনতে পারে, সেটা মনে রাখা ভালো।”

আজমেরী হক বাঁধন পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন—তাকে ভয় দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। তার ভাষায়—“আমাকে এত সহজে ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্কিত করে ফেলা সম্ভব নয়। আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে হলে তোমাদের আরো অনেক দূর যেতে হবে।”

হুমকিদাতা ও হয়রানিকারীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে আজমেরী হক বাঁধন বলেন, “তোমরা যা ইচ্ছা করো। শুধু একটা কথা মনে রেখো—আমি প্রায় হাসিনা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেরাপি নিয়েছি, এখনো নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়েছি—নিজেকে মানুষ হিসেবে ধরে রাখার জন্য, ক্ষমতা বা প্রতিহিংসা আমাকে যেন দানবে পরিণত না করে। তাই আমাকে ভয় দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। আর হ্যাঁ, আমি ডাইনি। মনে রেখো।”

আজমেরী হক বাঁধনের এ পোস্টে নেটিজেনদের অনেকে মন্তব্য করেছেন। শুভ্র খান লেখেন, “এরা অনেক আওয়াজ দিবে। কিন্তু কিছু করার ক্ষমতা নাই।” তসলিমা লেখেন, “ওদের জীবনে আর কোনো কাজ নেই, আশাও নেই। পতিত রানীর পতিত প্রজা।” কেউ কেউ বাঁধনের সাহসিকতার প্রশংসা করেও মন্তব্য করেছেন।