রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পানির চাপে খুলল কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট

কাপ্তাই হ্রদে পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের স্প্রিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়। পরে পানির চাপ বাড়তে থাকায় গেটগুলো ১ ফুট পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়েছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ৬ ইঞ্চি করে গেট খোলার পর স্প্রিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে পড়ছিল। পরে গেট ১ ফুট পর্যন্ত খোলায় পানিপ্রবাহ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়িয়েছে।

গেট খোলার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। এর আগে শনিবার দুপুর ২টায় পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট। বিকেলের পর দ্রুত পানি বাড়তে থাকায় নির্ধারিত রাত ১০টার পরিবর্তে আগেই গেট খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই বর্তমানে চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে যাচ্ছে। স্প্রিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার সঙ্গে মিলিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে নদীতে মোট প্রায় ৪১ হাজার কিউসেক পানি পড়ছিল।

পানির চাপ আরও বাড়লে গেট পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে খোলা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গেট ২ ফুট পর্যন্ত খোলা হলে স্প্রিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ার সক্ষমতা রয়েছে।

পানি নিষ্কাশনের কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হ্রদের পানির উচ্চতা, উজানের পানি প্রবাহ ও বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি বর্ষায় এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট খোলা হলো। এর আগে ১৮ জুলাই ১৬টি গেট খুলে পানি ছাড়া হয়েছিল। পরে হ্রদের পানি কমে গেলে ২৩ জুলাই গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পানির চাপে খুলল কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট

প্রকাশিত সময় : ১০:১৩:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

কাপ্তাই হ্রদে পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের স্প্রিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই প্রতিটি গেট ৬ ইঞ্চি করে খোলা হয়। পরে পানির চাপ বাড়তে থাকায় গেটগুলো ১ ফুট পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়েছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, ৬ ইঞ্চি করে গেট খোলার পর স্প্রিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে পড়ছিল। পরে গেট ১ ফুট পর্যন্ত খোলায় পানিপ্রবাহ বেড়ে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়িয়েছে।

গেট খোলার সময় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএল। হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। এর আগে শনিবার দুপুর ২টায় পানির উচ্চতা ছিল ১০৫ দশমিক ৬৪ ফুট। বিকেলের পর দ্রুত পানি বাড়তে থাকায় নির্ধারিত রাত ১০টার পরিবর্তে আগেই গেট খোলার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই বর্তমানে চালু রয়েছে। এসব ইউনিটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে যাচ্ছে। স্প্রিলওয়ে দিয়ে পানি ছাড়ার সঙ্গে মিলিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে নদীতে মোট প্রায় ৪১ হাজার কিউসেক পানি পড়ছিল।

পানির চাপ আরও বাড়লে গেট পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে খোলা হতে পারে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি বিবেচনায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গেট ২ ফুট পর্যন্ত খোলা হলে স্প্রিলওয়ে দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়ার সক্ষমতা রয়েছে।

পানি নিষ্কাশনের কারণে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে হ্রদের পানির উচ্চতা, উজানের পানি প্রবাহ ও বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে কর্তৃপক্ষ।

চলতি বর্ষায় এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কাপ্তাই বাঁধের জলকপাট খোলা হলো। এর আগে ১৮ জুলাই ১৬টি গেট খুলে পানি ছাড়া হয়েছিল। পরে হ্রদের পানি কমে গেলে ২৩ জুলাই গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়।