রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পশ্চিম তীরে ফের উত্তেজনা, জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর ইসরায়েলিদের হামলা

অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় জলপাই বাগানে হামলা, গাছ পুড়িয়ে দেওয়া এবং লোকজনকে আটকের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

শনিবার আবু দিস গ্রাম, আওয়ারা্তা শহর এবং বেইতার আজ-জাহরা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে বলে ঘটনাস্থলে থাকা আল-জাজিরার সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের সঙ্গে জলপাই সংগ্রহে অংশ নেওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার এক স্বেচ্ছাসেবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল-জাজিরাকে বলেন, সকালে তারা বাগানে পৌঁছানোর পর মুখোশধারী প্রায় ৫০ জন বসতি স্থাপনকারী তাদের দিকে এগিয়ে আসে। এ সময় তারা পাথর নিক্ষেপ করে এবং একটি বাড়িতে হামলা চালায় বলে ওই স্বেচ্ছাসেবী দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা জলপাই সংগ্রহে থাকা ফিলিস্তিনি ও স্বেচ্ছাসেবীদের একত্র করে এবং স্বেচ্ছাসেবীদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। বন্দুকের মুখে তাদের মাটিতে বসিয়ে রাখার পর সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে নাবলুসের দক্ষিণে বেইতার জাবাল কামাস এলাকায় সাংবাদিকদের আটক ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

আল-জাজিরার ধারণ করা ভিডিওতে ওসারিন এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের একটি ফিলিস্তিনি গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। অন্য ভিডিওতে বেইতায় সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনি বাড়িঘরের দিকে হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা যায়।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবলুসের ওসারিন গ্রামে ফিলিস্তিনি ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। এ সময় বাড়িঘরে হামলা, গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ এবং কয়েকজন গ্রামবাসীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বসতি স্থাপনকারীদের হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানিয়েছে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম।

ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরেও উত্তেজনা তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের দাবি, ২০২২ সালের পর থেকে কোনো বছরে একই সময়ে বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহতের সংখ্যা এত বেশি ছিল না।

তবে এসব হতাহতের সংখ্যা ও বিভিন্ন ঘটনার দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে পৃথক পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। আল জাজিরা

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

পশ্চিম তীরে ফের উত্তেজনা, জলপাই সংগ্রহকারীদের ওপর ইসরায়েলিদের হামলা

প্রকাশিত সময় : ০৯:১৬:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
অধিকৃত পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনি কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় জলপাই বাগানে হামলা, গাছ পুড়িয়ে দেওয়া এবং লোকজনকে আটকের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

শনিবার আবু দিস গ্রাম, আওয়ারা্তা শহর এবং বেইতার আজ-জাহরা এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে এসব ঘটনা ঘটে বলে ঘটনাস্থলে থাকা আল-জাজিরার সাংবাদিকেরা জানিয়েছেন।

ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের সঙ্গে জলপাই সংগ্রহে অংশ নেওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার এক স্বেচ্ছাসেবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল-জাজিরাকে বলেন, সকালে তারা বাগানে পৌঁছানোর পর মুখোশধারী প্রায় ৫০ জন বসতি স্থাপনকারী তাদের দিকে এগিয়ে আসে। এ সময় তারা পাথর নিক্ষেপ করে এবং একটি বাড়িতে হামলা চালায় বলে ওই স্বেচ্ছাসেবী দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, কিছুক্ষণ পর ইসরায়েলি সেনারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা জলপাই সংগ্রহে থাকা ফিলিস্তিনি ও স্বেচ্ছাসেবীদের একত্র করে এবং স্বেচ্ছাসেবীদের এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বলে। বন্দুকের মুখে তাদের মাটিতে বসিয়ে রাখার পর সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে নাবলুসের দক্ষিণে বেইতার জাবাল কামাস এলাকায় সাংবাদিকদের আটক ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের বরাত দিয়ে আল-জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

আল-জাজিরার ধারণ করা ভিডিওতে ওসারিন এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের একটি ফিলিস্তিনি গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। অন্য ভিডিওতে বেইতায় সশস্ত্র বসতি স্থাপনকারীদের ফিলিস্তিনি বাড়িঘরের দিকে হামলা চালানোর দৃশ্য দেখা যায়।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবলুসের ওসারিন গ্রামে ফিলিস্তিনি ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। এ সময় বাড়িঘরে হামলা, গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ এবং কয়েকজন গ্রামবাসীকে মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বসতি স্থাপনকারীদের হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানিয়েছে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম।

ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো বলছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও দমন-পীড়নের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরেও উত্তেজনা তীব্র হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় ৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। তাদের দাবি, ২০২২ সালের পর থেকে কোনো বছরে একই সময়ে বসতি স্থাপনকারীদের হাতে নিহতের সংখ্যা এত বেশি ছিল না।

তবে এসব হতাহতের সংখ্যা ও বিভিন্ন ঘটনার দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে পৃথক পক্ষগুলোর বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। আল জাজিরা