প্রকাশিত সময় :
০৯:০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
২
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত দেশটির জাতীয় তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র একটি স্থাপনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে সৌদি জোটের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে শনিবার (৩ অক্টোবর) এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন বার্তায় এ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের হামলাটি ‘সফলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে’ এবং এতে আরামকোর ওই স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।
তিনি আরও জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সানা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে অন্তত ৬০টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি জোট। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ইয়েমেনে বিমান হামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪২০টিতে। এ সব কিছুর জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করে হুতি মুখপাত্র হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘অবরোধের জবাব আমরা অবরোধ দিয়ে দেব এবং হামলার জবাব হবে পাল্টা হামলা।’
তবে হুতিদের এই দাবিকে পুরোপুরি ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সৌদি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, নিজেদের সামরিক ক্ষয়ক্ষতি ঢাকতে এবং সাধারণ মানুষের অসন্তোষ থেকে নজর ঘোরাতেই হুতিরা এ ধরনের মিথ্যা দাবি করছে। তাদের পেছনে কাজ করা বিদেশি স্বার্থান্বেষী মহলের বিশৃঙ্খল তৎপরতা আড়াল করাই এর মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এরপর ২০১৫ সালের মার্চ থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।
চলতি বছরের জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দেয় হুতিরা। তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে সৌদি জোটের আকাশ ও নৌ অবরোধ তুলে না নেওয়ার প্রতিবাদেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয় বলে তাদের দাবি। এর পর থেকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।