শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর ইউনিটটিতে ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান।

তিনি জানান, বায়েরা চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান এ অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে এ সময়সীমা পরীক্ষার ফলাফল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমোদন পাওয়ার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া নয়। পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটি থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটির বর্তমান ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিদ্যুৎ উৎপাদনের অনুমোদন পেল রূপপুরের প্রথম ইউনিট

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিতে আরও এক ধাপ অগ্রগতি হয়েছে। প্রয়োজনীয় ফিজিক্যাল স্টার্টআপ পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর ইউনিটটিতে ‘স্টেজ-সি’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়েরা)।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান।

তিনি জানান, বায়েরা চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান এ অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাওয়ার স্টার্টআপ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন-জেনারেটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হলে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। তবে এ সময়সীমা পরীক্ষার ফলাফল ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পাওয়ার স্টার্টআপের অনুমোদন পাওয়ার অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়া নয়। পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর পরও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও কমিশনিং কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুটি ইউনিট রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে কেন্দ্রটি থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। প্রকল্পটির বর্তমান ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।