মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানে একসঙ্গে গেলেও আলাদা বসছেন যুগলরা, কেন বাড়ছে এই ‘সিট ডিভোর্স’ প্রবণতা?

বিমানে পাশাপাশি বসে গল্প করতে করতে ভ্রমণ করাটাই চিরচেনা দৃশ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়মে বেশ পরিবর্তন এসেছে। অনেক যুগলই এখন বিমানে পাশাপাশি না বসে আলাদা সিট বেছে নিচ্ছেন। আধুনিক সম্পর্কের এই নতুন ধারার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিট ডিভোর্স’।

প্রথম শুনলে খটকা লাগলেও, বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন সুস্থ ও আধুনিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে। কিন্তু কেন বাড়ছে এই প্রবণতা? চলুন জেনে নেওয়া যাক মূল কারণগুলো—

ব্যক্তিগত স্পেস বা স্বাধীনতার গুরুত্ব : একসঙ্গে থাকা মানেই যে সবসময় গায়ে গা লাগিয়ে বসে থাকতে হবে, বর্তমান প্রজন্ম তা মনে করে না। ভ্রমণের মধ্যেও তারা নিজেদের মতো কিছুটা সময় কাটাতে পছন্দ করছেন।

ভ্রমণের ক্লান্তি ও অস্বস্তি এড়ানো : বিমানের সিটগুলো সাধারণত বেশ চাপা হয়।

দীর্ঘ যাত্রায় পাশাপাশি বসে থাকার চেয়ে আলাদা বসে নিজের মতো আয়েশ করা অনেকের কাছেই বেশি আরামদায়ক।
সোশ্যাল মিডিয়া ও নিজস্ব অভিজ্ঞতা : অনেকেই এখন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিজস্ব ঢঙে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরতে চান। আলাদা বসার ফলে প্রত্যেকেই নিজের মতো করে জানালা দিয়ে আকাশ দেখার বা ভ্রমণের মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগ পান।

বিমান সংস্থাগুলোর নতুন চ্যালেঞ্জ ও মানসিক প্রশান্তি
যাত্রীদের এই নতুন চাহিদার কারণে এয়ারলাইনগুলোকেও তাদের নিয়মে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

এখন অনেক সংস্থাই ‘কো-অফসেট সিটিং’ বা যুগলদের জন্য আলাদা বসার বিশেষ সুবিধা রাখছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ‘সিট ডিভোর্স’ মোটেও সম্পর্কের দূরত্ব প্রকাশ করে না। বরং একে বলা যায় ‘স্বাধীনতার রক্ষণাবেক্ষণ’। দীর্ঘ ভ্রমণের সময় একটু ব্যক্তিগত সময় বা স্পেস পাওয়া গেলে মানসিক চাপ কমে, যা প্রকারান্তরে সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে আরো গভীর ও বিষাদমুক্ত করে তোলে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ‘সিট ডিভোর্স’ কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন নয়, বরং এটি যুগলদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের এক নতুন ভারসাম্য।

সূত্র : আজকাল

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বিমানে একসঙ্গে গেলেও আলাদা বসছেন যুগলরা, কেন বাড়ছে এই ‘সিট ডিভোর্স’ প্রবণতা?

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৬:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

বিমানে পাশাপাশি বসে গল্প করতে করতে ভ্রমণ করাটাই চিরচেনা দৃশ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই নিয়মে বেশ পরিবর্তন এসেছে। অনেক যুগলই এখন বিমানে পাশাপাশি না বসে আলাদা সিট বেছে নিচ্ছেন। আধুনিক সম্পর্কের এই নতুন ধারার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সিট ডিভোর্স’।

প্রথম শুনলে খটকা লাগলেও, বিশেষজ্ঞরা একে দেখছেন সুস্থ ও আধুনিক সম্পর্কের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে। কিন্তু কেন বাড়ছে এই প্রবণতা? চলুন জেনে নেওয়া যাক মূল কারণগুলো—

ব্যক্তিগত স্পেস বা স্বাধীনতার গুরুত্ব : একসঙ্গে থাকা মানেই যে সবসময় গায়ে গা লাগিয়ে বসে থাকতে হবে, বর্তমান প্রজন্ম তা মনে করে না। ভ্রমণের মধ্যেও তারা নিজেদের মতো কিছুটা সময় কাটাতে পছন্দ করছেন।

ভ্রমণের ক্লান্তি ও অস্বস্তি এড়ানো : বিমানের সিটগুলো সাধারণত বেশ চাপা হয়।

দীর্ঘ যাত্রায় পাশাপাশি বসে থাকার চেয়ে আলাদা বসে নিজের মতো আয়েশ করা অনেকের কাছেই বেশি আরামদায়ক।
সোশ্যাল মিডিয়া ও নিজস্ব অভিজ্ঞতা : অনেকেই এখন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিজস্ব ঢঙে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরতে চান। আলাদা বসার ফলে প্রত্যেকেই নিজের মতো করে জানালা দিয়ে আকাশ দেখার বা ভ্রমণের মুহূর্ত উপভোগ করার সুযোগ পান।

বিমান সংস্থাগুলোর নতুন চ্যালেঞ্জ ও মানসিক প্রশান্তি
যাত্রীদের এই নতুন চাহিদার কারণে এয়ারলাইনগুলোকেও তাদের নিয়মে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে।

এখন অনেক সংস্থাই ‘কো-অফসেট সিটিং’ বা যুগলদের জন্য আলাদা বসার বিশেষ সুবিধা রাখছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই ‘সিট ডিভোর্স’ মোটেও সম্পর্কের দূরত্ব প্রকাশ করে না। বরং একে বলা যায় ‘স্বাধীনতার রক্ষণাবেক্ষণ’। দীর্ঘ ভ্রমণের সময় একটু ব্যক্তিগত সময় বা স্পেস পাওয়া গেলে মানসিক চাপ কমে, যা প্রকারান্তরে সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ককে আরো গভীর ও বিষাদমুক্ত করে তোলে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, ‘সিট ডিভোর্স’ কেবল সাময়িক কোনো ফ্যাশন নয়, বরং এটি যুগলদের পারস্পরিক বোঝাপড়া ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যের এক নতুন ভারসাম্য।

সূত্র : আজকাল