বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত তীব্রতর, বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত একাধিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে।

এতে করে গত প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে তেলের দাম। এর আগে ১৯ মার্চ সাময়িকভাবে ১১৯ ডলার স্পর্শ করেছিল ব্রেন্ট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে তাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে’ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের শাস্তি দেওয়া হবে।

সপ্তাহান্তে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী প্রথমবারের মতো এই যুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সময়ে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করেছে।

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। সোমবার সকাল পর্যন্ত জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৪ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে।

এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে পরিস্থিতি সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইতোমধ্যে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়সীমা ৬ এপ্রিলের মধ্যে ইরান যদি প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে না দেয়, তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। তিনি ইতোমধ্যে সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়েছেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ অবসানে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান নিজেদের শর্তে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের অধিকার স্বীকৃতি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাত তীব্রতর, বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা

প্রকাশিত সময় : ০৩:২৩:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত একাধিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে বৈশ্বিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ ডলার ছাড়িয়েছে।

এতে করে গত প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে তেলের দাম। এর আগে ১৯ মার্চ সাময়িকভাবে ১১৯ ডলার স্পর্শ করেছিল ব্রেন্ট।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি বাজারে।

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সেনারা প্রবেশ করলে তাদের ‘আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হবে’ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের শাস্তি দেওয়া হবে।

সপ্তাহান্তে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী প্রথমবারের মতো এই যুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সময়ে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করেছে।

সংঘাতের প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও। সোমবার সকাল পর্যন্ত জাপানের নিক্কেই ২২৫ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৪ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে।

এদিকে, ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে পরিস্থিতি সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় জ্বালানি সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইতোমধ্যে তেলের দাম প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক দেশ জ্বালানি সাশ্রয়ে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় শুরু না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্ধারিত সময়সীমা ৬ এপ্রিলের মধ্যে ইরান যদি প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে না দেয়, তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে। তিনি ইতোমধ্যে সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়েছেন।

একই সঙ্গে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ অবসানে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন এবং পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় পরোক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।

তবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান নিজেদের শর্তে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের অধিকার স্বীকৃতি।