বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় কারণে বাড়ছে হামের সংক্রমণ

দেশে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, একাধিক কাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন—টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, সময়মতো রোগ শনাক্তে ব্যর্থতা, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট, অর্থসংকটে বিভিন্ন কর্মসূচি স্থগিত থাকা, ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক বিতরণ বন্ধ থাকা এবং প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যাওয়া।

তাদের মতে, এসব কারণ একসঙ্গে কাজ করায় সংক্রমণ দ্রুত বেড়েছে এবং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত গণটিকাদান জোরদার করা এবং আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই দেশে ৬৭৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আক্রান্ত ছিল মাত্র ৯ জন, আর ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৬৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে—২৪৫ জন (৩৬.২৪ শতাংশ)। এরপর রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, চট্টগ্রামে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮০ এবং বরিশাল ও খুলনায় ৫১ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। তুলনামূলক কম আক্রান্ত পাওয়া গেছে সিলেট ও রংপুর বিভাগে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালের তথ্যের বাইরে অনেক রোগী বেসরকারি বা স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, ফলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এদিকে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের অধিকাংশই হামের পাশাপাশি অন্যান্য জটিলতায় ভুগছিল। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ছয় কারণে বাড়ছে হামের সংক্রমণ

প্রকাশিত সময় : ০২:৩৪:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
দেশে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, একাধিক কাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতার কারণে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা ছয়টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন—টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতি, সময়মতো রোগ শনাক্তে ব্যর্থতা, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট, অর্থসংকটে বিভিন্ন কর্মসূচি স্থগিত থাকা, ভিটামিন ‘এ’ ও কৃমিনাশক বিতরণ বন্ধ থাকা এবং প্রতি বছর প্রায় ১০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থেকে যাওয়া।

তাদের মতে, এসব কারণ একসঙ্গে কাজ করায় সংক্রমণ দ্রুত বেড়েছে এবং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত গণটিকাদান জোরদার করা এবং আক্রান্ত শিশুদের আলাদা রেখে চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই দেশে ৬৭৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আক্রান্ত ছিল মাত্র ৯ জন, আর ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৬৪ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে—২৪৫ জন (৩৬.২৪ শতাংশ)। এরপর রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, চট্টগ্রামে ৯৩, ময়মনসিংহে ৮০ এবং বরিশাল ও খুলনায় ৫১ জন করে রোগী শনাক্ত হয়েছে। তুলনামূলক কম আক্রান্ত পাওয়া গেছে সিলেট ও রংপুর বিভাগে।

তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালের তথ্যের বাইরে অনেক রোগী বেসরকারি বা স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন, ফলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

এদিকে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের অধিকাংশই হামের পাশাপাশি অন্যান্য জটিলতায় ভুগছিল। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।