বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম

জ্বালানি তেল, এলপিজির পর এবার পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তাতে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

বুধবার (৬ মে) বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা পিডিবির প্রস্তাব পেয়েছি। তাতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কারিগরি কমিটি তাদের প্রস্তাব পর্যালোচনা শুরু করবে।’

সবশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন খুচরায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে ৫ শতাংশ বেড়েছিল। তাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য গড়ে ৬ দশমিক ৭০ টাকা থেকে ৩৪ পয়সা বেড়ে ৭ দশমিক ০৪ টাকা হয়েছিল। এখন ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়লে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৮ পয়সা যোগ হবে।

বিএনপি সরকার দায়িত্বে আসার পর গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর দাম বাড়ানোর দিকেই হাঁটে সরকার। বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করে মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ করতে গত ৯ এপ্রিল ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান ট্যারিফে বিদ্যুৎ বিক্রি চলতে থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতির পরিমাণ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেই ঘাটতি কিছুটা কমিয়ে আনতে সরকারের ইচ্ছায় দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা বাড়ালে সরকারের ভর্তুকি ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কমবে। ১ টাকা বাড়ালে কমবে ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আর ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ভর্তুকি কমতে পারে ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম

প্রকাশিত সময় : ০৬:১৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
জ্বালানি তেল, এলপিজির পর এবার পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধান এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতে এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। তাতে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে সর্বোচ্চ ২১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

বুধবার (৬ মে) বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা পিডিবির প্রস্তাব পেয়েছি। তাতে পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ শতাংশ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কারিগরি কমিটি তাদের প্রস্তাব পর্যালোচনা শুরু করবে।’

সবশেষ বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তখন খুচরায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ এবং পাইকারিতে ৫ শতাংশ বেড়েছিল। তাতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য গড়ে ৬ দশমিক ৭০ টাকা থেকে ৩৪ পয়সা বেড়ে ৭ দশমিক ০৪ টাকা হয়েছিল। এখন ১৭ থেকে ২১ শতাংশ দাম বাড়লে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৪৮ পয়সা যোগ হবে।

বিএনপি সরকার দায়িত্বে আসার পর গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়াবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পর দাম বাড়ানোর দিকেই হাঁটে সরকার। বিদ্যুতের দাম পর্যালোচনা করে মূল্যবৃদ্ধির সুপারিশ করতে গত ৯ এপ্রিল ছয় সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

পিডিবির এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান ট্যারিফে বিদ্যুৎ বিক্রি চলতে থাকলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পিডিবির সম্ভাব্য ঘাটতির পরিমাণ ৫৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। সেই ঘাটতি কিছুটা কমিয়ে আনতে সরকারের ইচ্ছায় দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি ট্যারিফ ইউনিটপ্রতি ৫০ পয়সা বাড়ালে সরকারের ভর্তুকি ৫ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা কমবে। ১ টাকা বাড়ালে কমবে ১০ হাজার ৪৮৯ কোটি ১৬ লাখ টাকা। আর ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ালে ভর্তুকি কমতে পারে ১২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।