বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে কোন দেশ, জানালো গত তিন বিশ্বকাপে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করা প্রতিষ্ঠান

২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবল জগতের বাইরের একটি পূর্বাভাস আবারও আলোচনায় ঝড় তুলেছে। বিনিয়োগ ব্যাংক পেনমুর লিবেরাম, যারা শেষ তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, আবারও তাদের অনুমান জানিয়েছে। তাদের সিমুলেশনে অনুযায়ী উত্তর আমেরিকায় মাসখানেক পর শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে নেদারল্যান্ডস। তাদের অনুমান সত্যি হলে সেটি হবে ডাচদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।

এই মডেলটি কৌশলগত বিশ্লেষণ বা মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। প্রতিষ্ঠানের কৌশলবিদ ইয়োয়াখিম ক্লেমেন্ত মাথাপিছু জিডিপি, জনসংখ্যা, জলবায়ু, স্বাগতিক সুবিধা এবং ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের মতো তথ্য একত্র করে এই হিসাব দাঁড় করিয়েছেন। তার মতে, এসব ভেরিয়েবল পারফরম্যান্সের ৫৫ শতাংশ ব্যাখ্যা করতে পারে, বাকি অংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। ক্লেমেন্ত নিজে এই গবেষণার পরিধি সীমিত বলে উল্লেখ করলেও তার আগের রেকর্ড কিন্তু বেশ শক্তিশালী। এর আগে তিনি জার্মানি, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে চিরাচরিত ফেবারিটদের জায়গা দেওয়া হয়নি। স্পেন, ব্রাজিল, কিংবা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কাউকেই শিরোপার দৌড়ে রাখা হয়নি। বরং প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফাইনালে মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এমন লড়াই আগে কখনো দেখা যায়নি।

আর্জেন্টিনার জন্য যাত্রাটা হবে হতাশার। গ্রুপপর্বে  অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডানকে নিয়ে গঠিত গ্রুপ থেকে তাদের পরের ধাপে ওঠার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৯১ শতাংশ, যা পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে তাদের পথ থেমে যাবে, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে পর্তুগাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলটি এখনো অনেকটাই মেসির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে কখনোই বিশ্বকাপ না জেতা পর্তুগালও অনেকটাই ভরসা করে আরেক প্রবীণ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ওপর। তবে আর্জেন্টিনার তুলনায় পর্তুগালের স্কোয়াডে বৈচিত্র্য ও গভীরতা বেশি। রোনালদো যদি পাশে সরে দাঁড়ান, অতিরিক্ত সময়ে পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।’

বিশ্লেষণে শক্তিধর দলগুলোর জন্য আরও কিছু অপ্রত্যাশিত ফলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিলকে রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানের কাছে হেরে বিদায় নিতে দেখানো হয়েছে, যাকে প্রতিবেদন নিজেই ঐতিহাসিক ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে স্পেন ও ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে গিয়ে দুই সম্ভাব্য ফাইনালিস্টের কাছে বিদায় নেবে।

ইউরোপের দুই দলের জন্য শিরোপার পথও সহজ হবে না। নেদারল্যান্ডস এগোবে মরক্কো, কানাডা এবং স্পেনকে হারিয়ে। আর পর্তুগালকে পেরোতে হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষ।

চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নেদারল্যান্ডসকে বেছে নেওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক যুক্তিও আছে। ডাচরা এর আগে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি। অন্যদিকে পর্তুগালের বড় সাফল্য বলতে আছে শুধু ২০১৬ ইউরোর শিরোপা। ক্লেমেন্তের ভাষায়, ‘ইতিহাসের বিচারে নেদারল্যান্ডস সম্ভবত বিশ্বের সেরা দল, যারা এখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।’

তবে বাজির বাজারের হিসেবে এই সম্ভাবনা খুবই কম। পলিমার্কেটের মতো প্ল্যাটফর্মে ডাচদের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ ধরা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাস্তব উত্তর দেবে বিশ্বকাপের মাঠই।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

এবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবে কোন দেশ, জানালো গত তিন বিশ্বকাপে নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করা প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত সময় : ০৬:৩৯:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ফুটবল জগতের বাইরের একটি পূর্বাভাস আবারও আলোচনায় ঝড় তুলেছে। বিনিয়োগ ব্যাংক পেনমুর লিবেরাম, যারা শেষ তিনটি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সঠিকভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল, আবারও তাদের অনুমান জানিয়েছে। তাদের সিমুলেশনে অনুযায়ী উত্তর আমেরিকায় মাসখানেক পর শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবে নেদারল্যান্ডস। তাদের অনুমান সত্যি হলে সেটি হবে ডাচদের ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা।

এই মডেলটি কৌশলগত বিশ্লেষণ বা মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি। প্রতিষ্ঠানের কৌশলবিদ ইয়োয়াখিম ক্লেমেন্ত মাথাপিছু জিডিপি, জনসংখ্যা, জলবায়ু, স্বাগতিক সুবিধা এবং ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের মতো তথ্য একত্র করে এই হিসাব দাঁড় করিয়েছেন। তার মতে, এসব ভেরিয়েবল পারফরম্যান্সের ৫৫ শতাংশ ব্যাখ্যা করতে পারে, বাকি অংশ নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। ক্লেমেন্ত নিজে এই গবেষণার পরিধি সীমিত বলে উল্লেখ করলেও তার আগের রেকর্ড কিন্তু বেশ শক্তিশালী। এর আগে তিনি জার্মানি, ফ্রান্স এবং আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।

২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে চিরাচরিত ফেবারিটদের জায়গা দেওয়া হয়নি। স্পেন, ব্রাজিল, কিংবা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কাউকেই শিরোপার দৌড়ে রাখা হয়নি। বরং প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, ফাইনালে মুখোমুখি হবে নেদারল্যান্ডস ও পর্তুগাল। বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে এমন লড়াই আগে কখনো দেখা যায়নি।

আর্জেন্টিনার জন্য যাত্রাটা হবে হতাশার। গ্রুপপর্বে  অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডানকে নিয়ে গঠিত গ্রুপ থেকে তাদের পরের ধাপে ওঠার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৯১ শতাংশ, যা পুরো টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে গিয়ে তাদের পথ থেমে যাবে, যেখানে প্রতিপক্ষ হবে পর্তুগাল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দলটি এখনো অনেকটাই মেসির ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে কখনোই বিশ্বকাপ না জেতা পর্তুগালও অনেকটাই ভরসা করে আরেক প্রবীণ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ওপর। তবে আর্জেন্টিনার তুলনায় পর্তুগালের স্কোয়াডে বৈচিত্র্য ও গভীরতা বেশি। রোনালদো যদি পাশে সরে দাঁড়ান, অতিরিক্ত সময়ে পর্তুগালের জয়ের সম্ভাবনাই বেশি।’

বিশ্লেষণে শক্তিধর দলগুলোর জন্য আরও কিছু অপ্রত্যাশিত ফলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ব্রাজিলকে রাউন্ড অব ৩২-এ জাপানের কাছে হেরে বিদায় নিতে দেখানো হয়েছে, যাকে প্রতিবেদন নিজেই ঐতিহাসিক ধাক্কা হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে স্পেন ও ইংল্যান্ড সেমিফাইনালে গিয়ে দুই সম্ভাব্য ফাইনালিস্টের কাছে বিদায় নেবে।

ইউরোপের দুই দলের জন্য শিরোপার পথও সহজ হবে না। নেদারল্যান্ডস এগোবে মরক্কো, কানাডা এবং স্পেনকে হারিয়ে। আর পর্তুগালকে পেরোতে হবে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মতো প্রতিপক্ষ।

চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নেদারল্যান্ডসকে বেছে নেওয়ার পেছনে ঐতিহাসিক যুক্তিও আছে। ডাচরা এর আগে তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি। অন্যদিকে পর্তুগালের বড় সাফল্য বলতে আছে শুধু ২০১৬ ইউরোর শিরোপা। ক্লেমেন্তের ভাষায়, ‘ইতিহাসের বিচারে নেদারল্যান্ডস সম্ভবত বিশ্বের সেরা দল, যারা এখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি।’

তবে বাজির বাজারের হিসেবে এই সম্ভাবনা খুবই কম। পলিমার্কেটের মতো প্ল্যাটফর্মে ডাচদের জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৩ শতাংশ ধরা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বাস্তব উত্তর দেবে বিশ্বকাপের মাঠই।