বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জয়ের পথে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে উঠেছিল সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটি। অবশেষে ১৩৪ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি অফ স্পিনার। সালমানের পর উইকেটে এসে মাত্র ৬ বল টিকতে পেরেছেন হাসান আলী। তাইজুলের ফিরতি ওভারে সিøপে ক্যাচ দিয়েছেন এই ব্যাটার। শেষ বিকালে ৮ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে স্বস্তি নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছে টাইগাররা। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে আর মাত্র তিনটি উইকেট দরকার বাংলাদেশের।

চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান। এখনও ১২১ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান। তাদের হাতে আছে ৩ উইকেট। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ। পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে করে ২৩২ রান।আগের দিন শেষ বিকালে পাকিস্তান চতুর্থ ইনিংসের ব্যাটিংয়ে নামলেও ২ ওভারে স্কোরকার্ড ছিল ০/০। চতুর্থ দিন পাকিস্তানের দুই ওপেনার মিলে খেললেন আরও ৮ ওভার। সবমিলিয়ে ইনিংসের ১১তম ওভারে পাকিস্তান শিবিরে প্রথম ধাক্কাটা দেন নাহিদ রানা। রানার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ব?্যাট চালিয়ে আব্দুল্লাহ ফজল গতির কাছে পরাস্ত হয়েছেন। ঠিকঠাক ব্যাটে না লাগায় গালি ফিল্ডিংয়ে দাঁড়ানো মেহেদি মিরাজের হাতে ধরা পড়েন তিনি। মিরপুরে অভিষেক টেস্টে নেমে দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করা এই বাঁহাতি ওপেনার এবার ফেরেন স্রেফ ৬ রানে।

১৪ রানের ব্যবধানে আজান আওয়াইসকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মিরাজ। পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টা করছিলেন তিনি; কিন্তু বল ভেতরে ঢুকে পড়ায় লাইন মিস করেন। মিরাজের তাৎক্ষণিক জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল উঁচু করে ধরেন আম্পায়ার। রিভিউতে দেখা যায় লেগস্টাম্পে কোনোভাবে আঘাত করত বলটি। আম্পায়ার্স কলে ফিরতে হয় ২১ রান করা আজানকে।

৪১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দারুণ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের জুটি বড় হতে থাকলে তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান তাইজুল। ৪৭ রান করা এই ব্যাটার সাজঘরে ফিরেছেন ফিফটি না পাওয়ার হতাশা নিয়ে।সিরিজ জুড়ে ব্যর্থ সউদ শাকিল এবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। ২১ বল খেলে ৬ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এই মিডল অর্ডার ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন নাহিদ রানা।এরপর শান মাসুদও আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে মাহমুদল হাসান জয়ের ক্যাচ বানিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। মাসুদ ৭১ রান করে ফেরায় ১৬২ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় পাকিস্তান। তখন মনে হচ্ছিল আজই শেষ হতে পারে এই ম্যাচ। তবে সেটা হতে দেননি রিজওয়ান-সালমান জুটি।

এদিন বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত ছিলেন তাইজুল ইসলাম। চতুর্থ দিনে এসে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সুবিধা পান স্পিনাররা। সেটাই কাজে লাগিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রান দিয়ে তার শিকার ৪ উইকেট। এ ছাড়া নাহিদ রানা ২টি ও মেহেদি মিরাজ একটি উইকেট পেয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জয়ের পথে বাংলাদেশ

প্রকাশিত সময় : ১০:২০:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

বাংলাদেশের জন্য গলার কাঁটা হয়ে উঠেছিল সালমান আলি আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটি। অবশেষে ১৩৪ রানের জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। ৭১ রান করা সালমানকে বোল্ড করেন এই বাঁহাতি অফ স্পিনার। সালমানের পর উইকেটে এসে মাত্র ৬ বল টিকতে পেরেছেন হাসান আলী। তাইজুলের ফিরতি ওভারে সিøপে ক্যাচ দিয়েছেন এই ব্যাটার। শেষ বিকালে ৮ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে স্বস্তি নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছে টাইগাররা। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে আর মাত্র তিনটি উইকেট দরকার বাংলাদেশের।

চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৬ ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান। এখনও ১২১ রানে পিছিয়ে পাকিস্তান। তাদের হাতে আছে ৩ উইকেট। এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ। পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে করে ২৩২ রান।আগের দিন শেষ বিকালে পাকিস্তান চতুর্থ ইনিংসের ব্যাটিংয়ে নামলেও ২ ওভারে স্কোরকার্ড ছিল ০/০। চতুর্থ দিন পাকিস্তানের দুই ওপেনার মিলে খেললেন আরও ৮ ওভার। সবমিলিয়ে ইনিংসের ১১তম ওভারে পাকিস্তান শিবিরে প্রথম ধাক্কাটা দেন নাহিদ রানা। রানার করা অফ স্টাম্পের বাইরের শর্ট বলে ব?্যাট চালিয়ে আব্দুল্লাহ ফজল গতির কাছে পরাস্ত হয়েছেন। ঠিকঠাক ব্যাটে না লাগায় গালি ফিল্ডিংয়ে দাঁড়ানো মেহেদি মিরাজের হাতে ধরা পড়েন তিনি। মিরপুরে অভিষেক টেস্টে নেমে দুই ইনিংসেই হাফসেঞ্চুরি করা এই বাঁহাতি ওপেনার এবার ফেরেন স্রেফ ৬ রানে।

১৪ রানের ব্যবধানে আজান আওয়াইসকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান মিরাজ। পা বাড়িয়ে ডিফেন্স করার চেষ্টা করছিলেন তিনি; কিন্তু বল ভেতরে ঢুকে পড়ায় লাইন মিস করেন। মিরাজের তাৎক্ষণিক জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়ে আঙুল উঁচু করে ধরেন আম্পায়ার। রিভিউতে দেখা যায় লেগস্টাম্পে কোনোভাবে আঘাত করত বলটি। আম্পায়ার্স কলে ফিরতে হয় ২১ রান করা আজানকে।

৪১ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর দারুণ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন বাবর আজম ও শান মাসুদ। দুই অভিজ্ঞ ব্যাটারের জুটি বড় হতে থাকলে তাতে বাধা হয়ে দাঁড়ান তাইজুল। ৪৭ রান করা এই ব্যাটার সাজঘরে ফিরেছেন ফিফটি না পাওয়ার হতাশা নিয়ে।সিরিজ জুড়ে ব্যর্থ সউদ শাকিল এবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। ২১ বল খেলে ৬ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি। এই মিডল অর্ডার ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন নাহিদ রানা।এরপর শান মাসুদও আর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সেঞ্চুরির পথে এগোতে থাকা এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে মাহমুদল হাসান জয়ের ক্যাচ বানিয়েছেন তাইজুল ইসলাম। মাসুদ ৭১ রান করে ফেরায় ১৬২ রানে পঞ্চম উইকেট হারায় পাকিস্তান। তখন মনে হচ্ছিল আজই শেষ হতে পারে এই ম্যাচ। তবে সেটা হতে দেননি রিজওয়ান-সালমান জুটি।

এদিন বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত ছিলেন তাইজুল ইসলাম। চতুর্থ দিনে এসে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি সুবিধা পান স্পিনাররা। সেটাই কাজে লাগিয়েছেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দ্বিতীয় ইনিংসে ১১৩ রান দিয়ে তার শিকার ৪ উইকেট। এ ছাড়া নাহিদ রানা ২টি ও মেহেদি মিরাজ একটি উইকেট পেয়েছেন।