বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস

আজ ২০ মে, বিশ্ব মৌমাছি দিবস। মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণীর গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। পরিবেশ ও কৃষিতে মৌমাছির অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই ২০১৭ সালে জাতিসংঘ ২০ মে’কে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০১৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু হয়।

দিবসটি পালনের পেছনে রয়েছে আধুনিক মৌচাষের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত স্লোভেনীয় মৌচাষি অ্যান্টন জনসার জন্মদিনের স্মৃতি। তিনি ১৭৩৪ সালের ২০ মে জন্মগ্রহণ করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌমাছি শুধু মধু উৎপাদনেই নয়, কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে ফল, শস্য ও বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে মৌমাছির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ খাদ্যশস্য কোনো না কোনোভাবে পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল এবং এ কাজে মৌমাছির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশে সাধারণত ‘এপিস ইন্ডিকা’ প্রজাতির মৌমাছি বেশি দেখা যায়। এরা গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁটল ও আবদ্ধ স্থানে চাক তৈরি করে বসবাস করে। এদের উৎপাদিত মধু উৎকৃষ্ট মানের বলে পরিচিত।

একটি মৌচাকে সাধারণত তিন ধরনের মৌমাছি থাকে—রানি মৌমাছি, ড্রোন বা পুরুষ মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছি। কর্মী মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু ও পরাগ সংগ্রহ, চাক তৈরি এবং বাচ্চাদের পরিচর্যার কাজ করে থাকে।

মৌমাছির তৈরি মধু যেমন সুস্বাদু, তেমনি ঔষধিগুণেও সমৃদ্ধ। বিশেষ করে সুন্দরবনের মধু স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণাগুণের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এছাড়া মৌমাছির তৈরি প্রাকৃতিক মোম দিয়ে পরিবেশবান্ধব মোমবাতিসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়।

বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং বন উজাড়ের কারণে মৌমাছির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশবিদরা। তাই মৌমাছি ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব মৌমাছি দিবসে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আজ বিশ্ব মৌমাছি দিবস

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
আজ ২০ মে, বিশ্ব মৌমাছি দিবস। মৌমাছি ও অন্যান্য পরাগায়নকারী প্রাণীর গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। পরিবেশ ও কৃষিতে মৌমাছির অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই ২০১৭ সালে জাতিসংঘ ২০ মে’কে বিশ্ব মৌমাছি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর ২০১৮ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু হয়।

দিবসটি পালনের পেছনে রয়েছে আধুনিক মৌচাষের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত স্লোভেনীয় মৌচাষি অ্যান্টন জনসার জন্মদিনের স্মৃতি। তিনি ১৭৩৪ সালের ২০ মে জন্মগ্রহণ করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌমাছি শুধু মধু উৎপাদনেই নয়, কৃষি উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফুলের পরাগায়নের মাধ্যমে ফল, শস্য ও বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বাড়াতে মৌমাছির অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় ৭৫ শতাংশ খাদ্যশস্য কোনো না কোনোভাবে পরাগায়নের ওপর নির্ভরশীল এবং এ কাজে মৌমাছির ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশে সাধারণত ‘এপিস ইন্ডিকা’ প্রজাতির মৌমাছি বেশি দেখা যায়। এরা গাছের কোটর, দেয়ালের ফাঁটল ও আবদ্ধ স্থানে চাক তৈরি করে বসবাস করে। এদের উৎপাদিত মধু উৎকৃষ্ট মানের বলে পরিচিত।

একটি মৌচাকে সাধারণত তিন ধরনের মৌমাছি থাকে—রানি মৌমাছি, ড্রোন বা পুরুষ মৌমাছি এবং কর্মী মৌমাছি। কর্মী মৌমাছিরা ফুল থেকে মধু ও পরাগ সংগ্রহ, চাক তৈরি এবং বাচ্চাদের পরিচর্যার কাজ করে থাকে।

মৌমাছির তৈরি মধু যেমন সুস্বাদু, তেমনি ঔষধিগুণেও সমৃদ্ধ। বিশেষ করে সুন্দরবনের মধু স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণাগুণের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এছাড়া মৌমাছির তৈরি প্রাকৃতিক মোম দিয়ে পরিবেশবান্ধব মোমবাতিসহ বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়।

বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার প্রজাতির মৌমাছি রয়েছে। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার এবং বন উজাড়ের কারণে মৌমাছির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশবিদরা। তাই মৌমাছি ও তাদের আবাসস্থল রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বিশ্ব মৌমাছি দিবসে।