বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নষ্ট করতেই লাইব্রেরিতে শিবিরের হামলা: রাবি ছাত্রদল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে হামলা ঘিরে ছাত্রশিবির ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (রাকসু) সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী দাবি করেছেন, জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নষ্ট করতেই লাইব্রেরির মতো নিরাপদ স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। একই কর্মসূচিতে রাকসু ভবনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সেখানে পুলিশি অভিযান চালানোরও দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতারা।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও রাকসুর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লাইব্রেরিতে হামলার প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব বক্তব্য দেন তারা।

মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “লাইব্রেরির মতো একটি নিরাপদ স্থান, যেখানে জ্ঞানচর্চা হয়, সেই জ্ঞানচর্চার পরিবেশে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি শিবিরের নেতাকর্মীরা। শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের নাম দিয়ে মব সৃষ্টি করে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ওই শিক্ষার্থীদের হত্যা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করা।”

তিনি আরো বলেন, “১৯৭১ সালে আমাদের মা-বোনদের যারা ধর্ষণ করেছিল, যারা ধর্মের বিভাজনের নামে হিন্দু-মুসলিমদের হত্যা করেছিল, সেই রাজাকারদের আদর্শের অনুসারীরাই আবারো গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (ডাকসু) এক শিবিরপন্থি ছাত্রনেতাকে নিয়ে মন্তব্য করে রাহী বলেন, “আমরা দেখেছি, ডাকসুর এক তথাকথিত শিবিরপন্থি ছাত্রনেতা তৃতীয় লিঙ্গের এক হিজড়ার সঙ্গে ধরা পড়েছে। এছাড়া, সেই শিবিরের সন্ত্রাসীরা রাকসু ভবনে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়েছে।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা অতীতে দেখেছি, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর মতো সংবাদমাধ্যমের ওপর যেভাবে জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল, একইভাবে তারা আবারো হামলার ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই সাংবাদিক ভাইদের বলবো, আপনারা সচেতন ও সতর্ক থাকবেন। কোনো ধরনের হুমকি বা অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেবেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অপরাজনীতির বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আপনাদের পাশে থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমান সরকারে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বাকস্বাধীনতা ও কর্মপরিসর আরো শক্তিশালী হয়েছে। সেই শক্তিকে যদি কোনো শিবিরের জঙ্গিরা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাংবাদিকদের পাশে থেকে সেই অপচেষ্টার মোকাবিলা করবে।”

মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান হিমেল অভিযোগ করে বলেন, “রাকসু ভবনের ভিপি ও জিএসের চেম্বারে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়, বোমা বানানো হয়, অস্ত্রের ট্রেনিং করানো হয়, শিক্ষার্থীদের রগ কাটা হয়। মূলত এসব কার্যক্রমের জন্যই রাকসু ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো নেই। রাকসু ভবনে যদি পুলিশ রেইড দেয়, তাহলে অস্ত্রের কারখানা পাওয়া যাবে।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও রাকসু ভবনে তা না থাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”

এ সময় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রদল পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, যাকে জিএস পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল, তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছ থেকে বেলচা নিয়ে তা শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত ও আহত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিরও সমালোচনা করেন তিনি।

মিঠু আরো বলেন, “লাইব্রেরিতে ঢুকে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নষ্ট করতেই লাইব্রেরিতে শিবিরের হামলা: রাবি ছাত্রদল

প্রকাশিত সময় : ০৫:৫৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে হামলা ঘিরে ছাত্রশিবির ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (রাকসু) সংশ্লিষ্টদের দায়ী করে তীব্র সমালোচনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী দাবি করেছেন, জ্ঞানচর্চার পরিবেশ নষ্ট করতেই লাইব্রেরির মতো নিরাপদ স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। একই কর্মসূচিতে রাকসু ভবনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সেখানে পুলিশি অভিযান চালানোরও দাবি জানিয়েছেন ছাত্রদল নেতারা।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও রাকসুর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে লাইব্রেরিতে হামলার প্রতিবাদ এবং দোষীদের বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব বক্তব্য দেন তারা।

মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “লাইব্রেরির মতো একটি নিরাপদ স্থান, যেখানে জ্ঞানচর্চা হয়, সেই জ্ঞানচর্চার পরিবেশে হামলা চালিয়েছে জঙ্গি শিবিরের নেতাকর্মীরা। শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের নাম দিয়ে মব সৃষ্টি করে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে আহত করেছে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ওই শিক্ষার্থীদের হত্যা করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট করা।”

তিনি আরো বলেন, “১৯৭১ সালে আমাদের মা-বোনদের যারা ধর্ষণ করেছিল, যারা ধর্মের বিভাজনের নামে হিন্দু-মুসলিমদের হত্যা করেছিল, সেই রাজাকারদের আদর্শের অনুসারীরাই আবারো গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (ডাকসু) এক শিবিরপন্থি ছাত্রনেতাকে নিয়ে মন্তব্য করে রাহী বলেন, “আমরা দেখেছি, ডাকসুর এক তথাকথিত শিবিরপন্থি ছাত্রনেতা তৃতীয় লিঙ্গের এক হিজড়ার সঙ্গে ধরা পড়েছে। এছাড়া, সেই শিবিরের সন্ত্রাসীরা রাকসু ভবনে সাংবাদিকদের হুমকি দিয়েছে।”

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “যারা সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে, তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আমরা অতীতে দেখেছি, ডেইলি স্টার ও প্রথম আলোর মতো সংবাদমাধ্যমের ওপর যেভাবে জঙ্গিরা হামলা চালিয়েছিল, একইভাবে তারা আবারো হামলার ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই সাংবাদিক ভাইদের বলবো, আপনারা সচেতন ও সতর্ক থাকবেন। কোনো ধরনের হুমকি বা অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হলে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের আশ্রয় নেবেন এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অপরাজনীতির বিরুদ্ধেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আপনাদের পাশে থাকবে।”

তিনি আরো বলেন, “বর্তমান সরকারে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বাকস্বাধীনতা ও কর্মপরিসর আরো শক্তিশালী হয়েছে। সেই শক্তিকে যদি কোনো শিবিরের জঙ্গিরা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সাংবাদিকদের পাশে থেকে সেই অপচেষ্টার মোকাবিলা করবে।”

মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবির হাসান হিমেল অভিযোগ করে বলেন, “রাকসু ভবনের ভিপি ও জিএসের চেম্বারে সন্ত্রাসী কার্যক্রম হয়, বোমা বানানো হয়, অস্ত্রের ট্রেনিং করানো হয়, শিক্ষার্থীদের রগ কাটা হয়। মূলত এসব কার্যক্রমের জন্যই রাকসু ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো নেই। রাকসু ভবনে যদি পুলিশ রেইড দেয়, তাহলে অস্ত্রের কারখানা পাওয়া যাবে।”

তিনি আরো বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ভবনে সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও রাকসু ভবনে তা না থাকায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।”

এ সময় শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, “শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক আন্দোলনে ছাত্রদল পূর্ণ সমর্থন দিচ্ছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, যাকে জিএস পদে নির্বাচিত করা হয়েছিল, তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাছ থেকে বেলচা নিয়ে তা শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত ও আহত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিরও সমালোচনা করেন তিনি।

মিঠু আরো বলেন, “লাইব্রেরিতে ঢুকে যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”