বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপজেলা যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

পটুয়াখালীতে বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং জোর করে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতে ইসলামি সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে মো. শহিদুল ইসলামকে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা মামলা আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যায়। পরে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাঁকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হলে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং গত ২৪ মার্চ সকালে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাঁকে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পর দিন জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সদর থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবেন। আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাননি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।রাইজিংবিডি.কম

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

উপজেলা যুব জামায়াত সভাপতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

প্রকাশিত সময় : ০৬:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পটুয়াখালীতে বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ এবং জোর করে গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে সদর উপজেলা যুব জামায়াতে ইসলামি সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি এবং পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদক।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে মো. শহিদুল ইসলামকে। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা মামলা আমলে নিয়ে সদর থানাকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রায় সাত বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যায়। পরে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এ সময় শহিদুল ইসলাম তাঁকে বিভিন্ন সময়ে কুপ্রস্তাব দেন। তিনি রাজি না হলে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং গত ২৪ মার্চ সকালে পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কে তাঁর বোনের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। পরে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে চাপ দেওয়া হলেও তিনি রাজি হননি। গত ১৮ মে ডাক্তার দেখানোর কথা বলে তাঁকে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওষুধ খাওয়ানো হয়। পর দিন জ্ঞান ফিরে তিনি জানতে পারেন, তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করা হয়েছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে শহরে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে করে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে সদর থানাকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান বলেন, যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। আদালত অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবেন। আদালতে দোষী প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাননি। কপি পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মামলার অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।রাইজিংবিডি.কম