শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওসমানীনগর দুর্ঘটনা: দুই চালকই পলাতক, চলছে পুলিশি অভিযান

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ৯ প্রাণহানির নেপথ্যে চালকদের অবহেলাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে হাইওয়ে পুলিশ জানাচ্ছে, ঘটনার সময় মহাসড়ক তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় দুই বাসই ছুটছিল বেপরোয়া গতিতে, আর দুই চালকের চোখেই ছিল ঘুমের আভাস।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাতটা দশ মিনিট নাগাদ ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সূত্রপাত। ঢাকার উদ্দেশে ছুটে চলা ইউনিক পরিবহন ও সিলেটের দিকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রাণ যায় ৯ জনের, আহত হন আরো অন্তত ২৪ জন। দুর্ঘটনার ঠিক পরপরই ঘটনাস্থল ছেড়ে সটকে পড়েন দুই বাসের চালক, তাদের ধরতে এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনার একটি ফুটেজ ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে, যা ধারণ হয়েছে ইউনিক পরিবহনের বাসের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ক্যামেরায় এমনটাই অনুমান পুলিশের। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকার দিকে স্বাভাবিক গতিতে চলছিল ইউনিক পরিবহনের বাসটি। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি নিজ লেনের একটি পিকআপকে টপকাতে গিয়ে চলে আসে সড়কের ডান পাশে, যে লেনেই এগিয়ে আসছিল ইউনিক পরিবহনের বাসটি। ফলাফল, সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ। আঘাতের তীব্রতায় সড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে ইউনিক পরিবহনের বাসটি, দুমড়েমুচড়ে যায় দুটি যানবাহনই।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সকালে সড়ক ফাঁকা থাকায় দুই বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল। একে অপরকে অতিক্রম করার প্রতিযোগিতার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, দুই চালক ‘ঘুমঘুম চোখে’ গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতিতে চলার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি আরো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চালকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ওসমানীনগর দুর্ঘটনা: দুই চালকই পলাতক, চলছে পুলিশি অভিযান

প্রকাশিত সময় : ১০:০৮:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের ভয়াবহ সংঘর্ষে ৯ প্রাণহানির নেপথ্যে চালকদের অবহেলাকেই মূল কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে হাইওয়ে পুলিশ জানাচ্ছে, ঘটনার সময় মহাসড়ক তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় দুই বাসই ছুটছিল বেপরোয়া গতিতে, আর দুই চালকের চোখেই ছিল ঘুমের আভাস।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল সাতটা দশ মিনিট নাগাদ ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার সূত্রপাত। ঢাকার উদ্দেশে ছুটে চলা ইউনিক পরিবহন ও সিলেটের দিকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রাণ যায় ৯ জনের, আহত হন আরো অন্তত ২৪ জন। দুর্ঘটনার ঠিক পরপরই ঘটনাস্থল ছেড়ে সটকে পড়েন দুই বাসের চালক, তাদের ধরতে এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

ঘটনার একটি ফুটেজ ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে, যা ধারণ হয়েছে ইউনিক পরিবহনের বাসের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ক্যামেরায় এমনটাই অনুমান পুলিশের। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, ঢাকার দিকে স্বাভাবিক গতিতে চলছিল ইউনিক পরিবহনের বাসটি। ঠিক তখনই বিপরীত দিক থেকে আসা বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি নিজ লেনের একটি পিকআপকে টপকাতে গিয়ে চলে আসে সড়কের ডান পাশে, যে লেনেই এগিয়ে আসছিল ইউনিক পরিবহনের বাসটি। ফলাফল, সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ। আঘাতের তীব্রতায় সড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে ইউনিক পরিবহনের বাসটি, দুমড়েমুচড়ে যায় দুটি যানবাহনই।

দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, সকালে সড়ক ফাঁকা থাকায় দুই বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল। একে অপরকে অতিক্রম করার প্রতিযোগিতার মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার কথা জানিয়ে তিনি আরো বলেন, দুই চালক ‘ঘুমঘুম চোখে’ গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলেও প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতিতে চলার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি আরো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। চালকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।