বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল পুরুষ সঙ্গীর শাস্তির বিধান কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। একই সঙ্গে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যকার সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র অজুহাতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়েও জবাব তলব করা হয়েছে।

আইনজীবী ইসরাত হাসান এর আগে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিধানের আইনি দুর্বলতা ও অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় বিয়ের প্রলোভনে যৌন মিলনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এই অপরাধ সংঘটিত হবে—যেমন বিয়ের কথা বলে শারীরিক সম্পর্কের সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধ গণ্য হবে, নাকি পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে অপরাধ হবে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আইনে অনুপস্থিত।

তিনি আরও বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারী স্বেচ্ছায় সম্পর্কের জড়ালেও এই আইনে কেবল পুরুষ সঙ্গীটির সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত অবিবেচনামূলক। এ ধরনের আইনে একজন নারী সঙ্গীকে বিচারবুদ্ধিহীন বা পুতুল হিসেবে চিত্রিত করা হয়, অথচ এই ধরনের সম্পর্কে উভয় পক্ষেরই সমান অংশগ্রহণ (Contributory Participation) থাকে। রাষ্ট্র যদি এ ধরনের সম্পর্ক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তবে আইন করে সব ধরনের প্রেম ও প্রণয় নিষিদ্ধ করে উভয়কেই শাস্তির আওতায় আনা উচিত—যেহেতু শুধু একপক্ষকে এককভাবে শাস্তি দেওয়া মৌলিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আর্জেন্টিনা ম্যাচের নতুন সূচি

বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক শুধু পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রুল

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কেবল পুরুষ সঙ্গীর শাস্তির বিধান কেন অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। একই সঙ্গে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যকার সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র অজুহাতে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি কেন বাতিল করা হবে না, সে বিষয়েও জবাব তলব করা হয়েছে।

আইনজীবী ইসরাত হাসান এর আগে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই বিধানের আইনি দুর্বলতা ও অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২০ মার্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় বিয়ের প্রলোভনে যৌন মিলনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে এই অপরাধ সংঘটিত হবে—যেমন বিয়ের কথা বলে শারীরিক সম্পর্কের সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধ গণ্য হবে, নাকি পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে অপরাধ হবে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আইনে অনুপস্থিত।

তিনি আরও বলেন, প্রাপ্তবয়স্ক একজন নারী স্বেচ্ছায় সম্পর্কের জড়ালেও এই আইনে কেবল পুরুষ সঙ্গীটির সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যা অত্যন্ত অবিবেচনামূলক। এ ধরনের আইনে একজন নারী সঙ্গীকে বিচারবুদ্ধিহীন বা পুতুল হিসেবে চিত্রিত করা হয়, অথচ এই ধরনের সম্পর্কে উভয় পক্ষেরই সমান অংশগ্রহণ (Contributory Participation) থাকে। রাষ্ট্র যদি এ ধরনের সম্পর্ক পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তবে আইন করে সব ধরনের প্রেম ও প্রণয় নিষিদ্ধ করে উভয়কেই শাস্তির আওতায় আনা উচিত—যেহেতু শুধু একপক্ষকে এককভাবে শাস্তি দেওয়া মৌলিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।