বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রণক্ষেত্র রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪৪ ধারা জারি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাস পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

এর আগে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারিসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ আরও প্রায় ২০ জন আহত হন। তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একই স্থানে মঙ্গলবার দুই সংগঠনের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুপক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে থাকা একটি ব্যানার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব অভিযোগ করেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তা পণ্ড করার চেষ্টা করেন এবং তাদের ওপর হামলা চালান।

ছাত্রদলের নেতা মো. ইয়ামিন দাবি করেন, প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি-সংবলিত ব্যানার সরানোর দাবি জানালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান।

সংঘর্ষে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান।

রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি বলেন, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ামাত্র তারা ক্যাম্পাসে এসেছেন। এখন পরিবেশ শান্ত। দুই দলের সভাপতি-সম্পাদকদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বৈঠক করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আর্জেন্টিনা ম্যাচের নতুন সূচি

রণক্ষেত্র রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪৪ ধারা জারি

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪৯:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ার ছোড়াছুড়ির ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাস পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

এর আগে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারিসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষে পাঁচজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহতসহ আরও প্রায় ২০ জন আহত হন। তারা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

একই স্থানে মঙ্গলবার দুই সংগঠনের পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় ১৪৪ ধারা জারির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এর আগে সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার বিকালে শহীদ আবু সাঈদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবির। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুপক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রদর্শনীতে থাকা একটি ব্যানার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুর রাকিব অভিযোগ করেন, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি আয়োজন করা হলেও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তা পণ্ড করার চেষ্টা করেন এবং তাদের ওপর হামলা চালান।

ছাত্রদলের নেতা মো. ইয়ামিন দাবি করেন, প্রদর্শনীতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াত নেতাদের ছবি-সংবলিত ব্যানার সরানোর দাবি জানালে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান।

সংঘর্ষে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান।

রংপুর মেট্রোপলিটন তাজহাট থানার ওসি বলেন, ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরে মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ামাত্র তারা ক্যাম্পাসে এসেছেন। এখন পরিবেশ শান্ত। দুই দলের সভাপতি-সম্পাদকদের নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বৈঠক করছেন।