বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মোটরসাইকেল আমদানির বিধি-নিষেধ উঠল, গেজেট প্রকাশ

দেশের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে সরকার। এখন থেকে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ তৈরি বা সিবিইউ (সিবিএই) অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এসংক্রান্ত নতুন আমদানিনীতি আদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে ২০২১-২০২৪ সালের আমদানিনীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধি-নিষেধ ছিল। নতুন নীতিতে সেই সীমা বাড়িয়ে ৩৭৫ সিসি করা হয়েছে।

নতুন আমদানিনীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাঝারি ও উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেল সরাসরি বাংলাদেশে আনার সুযোগ বাড়বে। ফলে দেশের বাজারে নতুন মডেল ও ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়তে পারে।

বিশেষ করে ১৬৫ সিসির সীমার কারণে এতদিন যেসব আন্তর্জাতিক মডেল সরাসরি আমদানি করা সম্ভব ছিল না, নতুন নীতির ফলে সেগুলোর বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এর ফলে স্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন আমদানিনীতি আদেশে শুধু মোটরসাইকেল নয়, সামগ্রিক আমদানি প্রক্রিয়া সহজ ও সম্প্রসারণের জন্যও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নীতিতে ঋণপত্র বা এলসির পাশাপাশি কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা। এ ছাড়া ফ্রি ট্রেড জোন বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধানও রাখা হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্প খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমদানি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানির সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।

২০২১-২০২৪ সালের আমদানিনীতি আদেশেও এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ ছিল। তবে বিভিন্ন পণ্য ও খাতের ক্ষেত্রে এ সুবিধার ওপর নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।

নতুন আমদানিনীতি আদেশে এসব সুযোগ আরো বিস্তৃত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির অনুমতি দেশের বাইকের বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এতে ক্রেতাদের জন্য বাড়তে পারে পছন্দের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মোটরসাইকেল আমদানির বিধি-নিষেধ উঠল, গেজেট প্রকাশ

প্রকাশিত সময় : ০৯:২৩:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
দেশের মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে সরকার। এখন থেকে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ তৈরি বা সিবিইউ (সিবিএই) অবস্থায় সর্বোচ্চ ৩৭৫ সিসি ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানি করা যাবে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) এসংক্রান্ত নতুন আমদানিনীতি আদেশের গেজেট প্রকাশ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে ২০২১-২০২৪ সালের আমদানিনীতিতে সম্পূর্ণ তৈরি অবস্থায় ১৬৫ সিসির বেশি ইঞ্জিনক্ষমতার মোটরসাইকেল আমদানিতে বিধি-নিষেধ ছিল। নতুন নীতিতে সেই সীমা বাড়িয়ে ৩৭৫ সিসি করা হয়েছে।

নতুন আমদানিনীতি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাঝারি ও উচ্চক্ষমতার মোটরসাইকেল সরাসরি বাংলাদেশে আনার সুযোগ বাড়বে। ফলে দেশের বাজারে নতুন মডেল ও ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের সংখ্যা বাড়তে পারে।

বিশেষ করে ১৬৫ সিসির সীমার কারণে এতদিন যেসব আন্তর্জাতিক মডেল সরাসরি আমদানি করা সম্ভব ছিল না, নতুন নীতির ফলে সেগুলোর বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

তবে এর ফলে স্থানীয় মোটরসাইকেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো বেশি প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন আমদানিনীতি আদেশে শুধু মোটরসাইকেল নয়, সামগ্রিক আমদানি প্রক্রিয়া সহজ ও সম্প্রসারণের জন্যও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নতুন নীতিতে ঋণপত্র বা এলসির পাশাপাশি কোনো মূল্যসীমা ছাড়াই ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে পণ্য আমদানির সুযোগ পাবেন শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আমদানিকারকেরা। এ ছাড়া ফ্রি ট্রেড জোন বা মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল এবং সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউস প্রতিষ্ঠার বিধানও রাখা হয়েছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের শিল্প খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমদানি সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানির সুযোগও বাড়ানো হয়েছে।

২০২১-২০২৪ সালের আমদানিনীতি আদেশেও এলসি ছাড়া ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে আমদানির সুযোগ ছিল। তবে বিভিন্ন পণ্য ও খাতের ক্ষেত্রে এ সুবিধার ওপর নির্দিষ্ট সীমা ও শর্ত আরোপ করা হয়েছিল।

নতুন আমদানিনীতি আদেশে এসব সুযোগ আরো বিস্তৃত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রচলিত পদ্ধতির সঙ্গে দেশের আমদানি ব্যবস্থাকে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল আমদানির অনুমতি দেশের বাইকের বাজারে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এতে ক্রেতাদের জন্য বাড়তে পারে পছন্দের সুযোগ এবং আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর জন্যও বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।