রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ম্যাচটা ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল: তাসকিন

ইনিংসে শুরুতেই বল হাতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার কাজটা নিখুঁতভাবেই করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। তাঁর পেস তোপে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা প্রতিপক্ষ শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে ফিরে স্কোরবোর্ডে দাঁড় করায় ২৭২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য। 

তবে আবুধাবির যে পিচে উইকেটের কোনো বাড়তি সাহায্য ছিল না, সেই ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে জিম্বাবুয়ের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। গুটিয়ে যায় মাত্র ১৭২ রানে। সেখানেই বল হাতে সেরাটা ঢেলে দেওয়ার পরও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৯৯ রানের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলকে। ম্যাচ শেষে তাই নিজের ক্ষোভ ও আক্ষেপ ঢেকে রাখেননি এই স্পিডস্টার; সোজা ব্যাটারদের কাঠগড়ায় তুলে জানিয়েছেন, এই উইকেট ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব ছিল ব্যাটারদেরই।

আবুধাবিতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং ধস নিয়ে নিজের স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাদেশি পেসার তাসকিন বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকে যেরকম পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি; একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু পানিশড হচ্ছিলাম। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে ওরা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলেই ভালো খেলিনি।’

পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের বড় কোনো জুটি গড়ে তুলতে না পারাকেই হারের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তাসকিন। উদ্বোধনী জুটিতে আসা ৪৭ রানই ছিল ইনিংসের সর্বোচ্চ। ব্যাটারদের ক্রমাগত একই ভুল করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন আরও যোগ করেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল করা হয়। বোলিংয়ে তাও তো একটা ধারাবাহিকতা আছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু তারা পারে নাই।’

স্কিল বা সামর্থ্যের চেয়েও চাপের মুখে দ্রুত ভেঙে পড়া এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে না পারাকেই টাইগার ব্যাটারদের প্রধান দুর্বলতা বলে চিহ্নিত করেন এই পেসার। ব্যাটারদের মানসিকতার উন্নয়ন ঘটানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি। কারণ স্কিল কিন্তু সবার আছে। আপনারা যাঁরা ক্রিকেট খেলা দেখেন, প্রতিটি ব্যাটসম্যানই কিন্তু প্রমাণ করেছে তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে আমরা দল হিসেবে দেখবেন, চাপে পড়লে খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটাই আমাদের আসলে বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতে হবে। আমি শিওর, এটা নিয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি, কীভাবে দ্রুত ঠিক করা যায়।’

ব্যাট হাতে ব্যর্থতার টানা বৃত্তে বন্দি হলেও টুর্নামেন্টের আশা এখনই শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন না তাসকিন। সামনে থাকা শেষ ম্যাচটি জিতেই ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে চান তিনি। আত্মবিশ্বাসী গলায় তাসকিন জানান, ‘এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইব যে ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’

এই সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ আগামীকাল জিম্বাবুয়ে আর আফগানিস্তানের মধ্যে। আর গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ ফাইনালে ওঠার জটিল সমীকরণ মেলাতে আগামী বুধবার আফগানদের বিপক্ষে খেলবে হৃদয়-শান্তরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ম্যাচটা ব্যাটসম্যানদেরই জেতানো উচিত ছিল: তাসকিন

প্রকাশিত সময় : ০১:২৫:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইনিংসে শুরুতেই বল হাতে জিম্বাবুয়েকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার কাজটা নিখুঁতভাবেই করেছিলেন তাসকিন আহমেদ। তাঁর পেস তোপে মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা প্রতিপক্ষ শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে ফিরে স্কোরবোর্ডে দাঁড় করায় ২৭২ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য। 

তবে আবুধাবির যে পিচে উইকেটের কোনো বাড়তি সাহায্য ছিল না, সেই ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে জিম্বাবুয়ের ছুড়ে দেওয়া লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। গুটিয়ে যায় মাত্র ১৭২ রানে। সেখানেই বল হাতে সেরাটা ঢেলে দেওয়ার পরও ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৯৯ রানের বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় দলকে। ম্যাচ শেষে তাই নিজের ক্ষোভ ও আক্ষেপ ঢেকে রাখেননি এই স্পিডস্টার; সোজা ব্যাটারদের কাঠগড়ায় তুলে জানিয়েছেন, এই উইকেট ম্যাচ জেতানোর দায়িত্ব ছিল ব্যাটারদেরই।

আবুধাবিতে ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাটিং ধস নিয়ে নিজের স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বাংলাদেশি পেসার তাসকিন বলেন, ‘সত্যি বলতে, আজকে যেরকম পিচ ছিল, আমরাও তো বল করেছি; একটু এদিক-ওদিক হলেই কিন্তু পানিশড হচ্ছিলাম। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে অন্তত ২৭০ অবশ্যই তাড়া করার মতো ছিল। ওদের কন্ডিশনে ওরা অস্ট্রেলিয়াকেও কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে নিয়েছে। কিন্তু এই কন্ডিশনে আমাদের আসলে তাড়া করা উচিত ছিল। আমরা আসলেই ভালো খেলিনি।’

পুরো ইনিংসে বাংলাদেশের বড় কোনো জুটি গড়ে তুলতে না পারাকেই হারের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন তাসকিন। উদ্বোধনী জুটিতে আসা ৪৭ রানই ছিল ইনিংসের সর্বোচ্চ। ব্যাটারদের ক্রমাগত একই ভুল করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে তাসকিন আরও যোগ করেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত আমরা একটাও জুটি গড়তে পারিনি। একটা জুটি হলেই খেলাটা বের হয়ে যেত। আমাদের ব্যাটিংয়ে প্রায়ই ভুল করা হয়। বোলিংয়ে তাও তো একটা ধারাবাহিকতা আছে। আসলে ব্যাটসম্যানদের জেতানো উচিত ছিল, কিন্তু তারা পারে নাই।’

স্কিল বা সামর্থ্যের চেয়েও চাপের মুখে দ্রুত ভেঙে পড়া এবং ম্যাচের পরিস্থিতি বুঝতে না পারাকেই টাইগার ব্যাটারদের প্রধান দুর্বলতা বলে চিহ্নিত করেন এই পেসার। ব্যাটারদের মানসিকতার উন্নয়ন ঘটানোর তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝতে পারার ঘাটতিটা একটু বেশি। কারণ স্কিল কিন্তু সবার আছে। আপনারা যাঁরা ক্রিকেট খেলা দেখেন, প্রতিটি ব্যাটসম্যানই কিন্তু প্রমাণ করেছে তারা ভালো ব্যাট করতে পারে। মাঝে মাঝে আমরা দল হিসেবে দেখবেন, চাপে পড়লে খুব দ্রুত ভেঙে পড়ি। এই জিনিসটাই আমাদের আসলে বের হয়ে আসতে হবে। বড় দল হতে চাইলে যেকোনোভাবে বের হয়ে আসতে হবে। আমি শিওর, এটা নিয়ে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি, কীভাবে দ্রুত ঠিক করা যায়।’

ব্যাট হাতে ব্যর্থতার টানা বৃত্তে বন্দি হলেও টুর্নামেন্টের আশা এখনই শেষ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন না তাসকিন। সামনে থাকা শেষ ম্যাচটি জিতেই ফাইনালে খেলার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে চান তিনি। আত্মবিশ্বাসী গলায় তাসকিন জানান, ‘এখনো একটা ম্যাচ বাকি আছে। আমরা চাইব যে ভালোভাবে লড়াই করে ফিরে এসে যেন ফাইনাল খেলতে পারি।’

এই সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ আগামীকাল জিম্বাবুয়ে আর আফগানিস্তানের মধ্যে। আর গ্রুপপর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচ ফাইনালে ওঠার জটিল সমীকরণ মেলাতে আগামী বুধবার আফগানদের বিপক্ষে খেলবে হৃদয়-শান্তরা।