ভারতের উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষের দরজার সামনে হঠাৎ লুটিয়ে পড়ে মৃত্যু হয়েছে ২৮ বছর বয়সী এক নববধূর। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় তার স্বামী নীলেশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নারীর নাম মুসকান। আজ সোমবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে ঝাঁসির ঋষভ হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ৪৭ সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনজন হোটেলের করিডর দিয়ে একটি কক্ষের দিকে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে দুজন আগে কক্ষে প্রবেশ করেন। পরে মুসকান দরজার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ মেঝেতে পড়ে যান। এরপর তার স্বামী তাকে তুলে কক্ষের ভেতরে নিয়ে যান।
পরে হোটেলকর্মীদের সহায়তায় মুসকানকে অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে জেলা হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, মুসকান ও তার স্বামী আগের রাতে হোটেলটিতে অবস্থান করেছিলেন। সকালে হোটেল ছাড়ার প্রস্তুতির সময় এ ঘটনা ঘটে বলে তার স্বামী পুলিশকে জানিয়েছেন।
মুসকানের বাবার নাম রামজি লাল আহিরওয়ার। তার অভিযোগ, মুসকানকে তার স্বামী হত্যা করেছেন। বাবার দাবি, গত ২৩ অক্টোবর রাতে নীলেশ ঝাঁসিতে আসেন। পরের রদিন মুসকানকে তার এক খালার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে সঙ্গে নেন। কিন্তু তাকে ওই বাড়িতে না নিয়ে হোটেলে নেওয়া হয়।
মুসকানের পরিবারের আরও অভিযোগ, নীলেশের আগে বিয়ে হয়েছিল এবং বিষয়টি বিয়ের আগে গোপন রাখা হয়েছিল। বিয়ের পর এ নিয়ে মুসকানকে মানসিকভাবে হয়রানি করা হতো।
পুলিশের সিটি সুপারিনটেনডেন্ট প্রীতি সিং জানিয়েছেন, পরিবারের করা অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এর ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























