বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী’ বলা সেই নারী উদ্যোক্তার জামিন

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ এবং বিএনপি সরকারের সমালোচনা করা নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের ষষ্ঠ আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলাম ৫০০ টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত সোমবার সাথী আক্তারের পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি। ওইদিন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আগের আদেশ অনুযায়ী, বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন মঞ্জুর করা হয়।

সাথী আক্তার (৩০) ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পারলার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।

গত রোববার দুপুর ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও করেন সাথী আক্তার। পাঁচ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও আট মিনিট আট সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’ ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও তিনি চারবার পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাননি বলে জানান তিনি।

ওসির ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য ওই নারীর বাক্‌স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। পুরো ভিডিও না দেখেই গুজবের কারণে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিডিও প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ কারণে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী’ বলা সেই নারী উদ্যোক্তার জামিন

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ময়মনসিংহের ভালুকায় নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একের পর এক চুরির অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ এবং বিএনপি সরকারের সমালোচনা করা নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার জামিন পেয়েছেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহের ষষ্ঠ আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলাম ৫০০ টাকা বন্ডে তার জামিন মঞ্জুর করেন।

ময়মনসিংহ আদালতের পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত সোমবার সাথী আক্তারের পক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি। ওইদিন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আগের আদেশ অনুযায়ী, বুধবার তাকে আদালতে হাজির করা হলে জামিন মঞ্জুর করা হয়।

সাথী আক্তার (৩০) ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পারলার’ নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।

গত রোববার দুপুর ২টার দিকে ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও করেন সাথী আক্তার। পাঁচ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও আট মিনিট আট সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

একপর্যায়ে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’ ভিডিও দুটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

এর আগে ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও তিনি চারবার পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাননি বলে জানান তিনি।

ওসির ভাষ্য, এ ধরনের বক্তব্য ওই নারীর বাক্‌স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। পুরো ভিডিও না দেখেই গুজবের কারণে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভিডিও প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী ওই নারীর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ কারণে তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছিল।