মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বোচ্চ ঘাটতির বাজেট আজ

জাতীয় সংসদে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন হতে যাচ্ছে আজ। দেশের ৫০তম জাতীয় এ বাজেট হচ্ছে সর্বোচ্চ ঘাটতির। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থাপন করবেন।
 অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এবারের বাজেটের আকার হচ্ছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এতে ঘাটতির হার থাকছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। আর চলতি বছরের বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির হার ৬ শতাংশ। সে হিসাবে আগামী বছরের বাজেটের পরিমাণ বাড়ছে ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি বাড়ছে দশমিক ২ শতাংশ।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মতো রাখার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। লক্ষ্য পূরণে আগামী অর্থবছরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মহারা মানুষদের কর্মে ফিরে আনা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আগামী বাজেটে ব্যয়ের বিপরীতে মোট আয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে আয় বাড়ছে ১১ হাজার কোটি টাকা। মোট আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরেও এনবিআরকে একই পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া আছে। প্রথমবারের মতো এবারই এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা এক টাকাও বাড়ানো হচ্ছে না।
আগামী বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডবহির্ভূত কর থেকে আসবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। আয়কর ব্যতীত প্রাপ্তি ধরা হচ্ছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার পরিমাণ ধরা হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আবর্তক ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। বিদেশি ঋণের সুদ ব্যয় ধরা হচ্ছে ছয় হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট পূরণে যথারীতি দেশের ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হবে। এর বাইরে বিদেশি ঋণ নেওয়া হবে ঘাটতি পূরণে।
তথ্যানুযায়ী, অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নেবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেবে ৩২ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য খাত থেকে নেওয়া হবে পাঁচ হাজার এক কোটি টাকা। বাজেটে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়া লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।
বাজেটে সাধারণত ৫ শতাংশ হারে ঘাটতি থাকে। করোনা মহামারির কারণে এবারই প্রথম বাজেট ঘাটতি উঠেছিল ৬ শতাংশ। আজ উপস্থাপন করতে যাওয়া বাজেটে ঘাটতির হার উঠছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। মূলত রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া, রপ্তানি আয়ে স্থবিরতা অন্যদিকে করোনা মহামারির অভিঘাত রোধে টিকা কেনা ও করোনা রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের কারণে বাজেটের খরচের খাত বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজেট ঘাটতিতে।
ঘাটতি বাজেট অর্থনীতির জন্য ক্ষতির হিসাবে দেখা হলেও বাংলাদেশে জন্য আশীর্বাদ হিসাবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, দেশি-বিদেশি ঋণ নিলেও তা পূর্বের পরিমিত ঋণ থাকার কারণে ঋণ নেওয়া সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। ঘাটতি বাজেট হলো ব্যয় বেশি, আয় কম। আয় থকে ব্যয়ের পার্থক্যই হলো ঘাটতি। করোনা মোকাবিলা করার জন্য আগামী বছর এ হার কিছুটা বাড়ছে। তারপরও বাংলাদেশের জন্য এ ঘাটতি সমস্যা হবে না বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৪০ শতাংশ। এটা ঋণের বোঝার পর্যায়ে পড়ে না এবং পরিশোধের হারও সন্তোষজনক। আসন্ন বাজেটে ৬ শতাংশের ঘাটতি বাজেট হলেও মোট ঋণের হার দাঁড়াবে জিডিপির ৪৬ শতাংশ। দেশের চলমান রেমিট্যান্স প্রবাহ, কৃষির উৎপাদন অব্যাহত ও করোনার মহামারীর মধ্যেও রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ক্ষতি না হওয়ার কারণে বাজেটের ঘাটতি পূরণে ঋণ নেওয়া দোষের কিছু হবে না। তবে ঋণ নিয়ে তা সঠিক জায়গায় খরচ নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ নিয়ে যেন বিলাসিতা না করা হয়- সরকার কর্মকর্তাদের জন্য এয়ারকন্ডিশন গাড়ি না কেনা, সরকারি অফিসের শোভাবর্ধন না করা, বিদেশ সফর করা বা জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রপাতি আমদানি করে তা বিমানবন্দরে না পড়ে থাকা নিশ্চিত করতে হবে।’
বাজেটে ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো বেশ কিছু খাতে রাজস্ব কমানো হচ্ছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চলতি অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় আগামী বাজেটেও করপোরেট করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে ঢালাওভাবে সব খাতে নয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত শিল্পের কর কমানো হচ্ছে। অপরিবর্তিত থাকছে মার্চেন্ট ব্যাংক; সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি এবং তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত মোবাইল কোম্পানির কর হার।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি করপোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর সাড়ে ৩২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ করা হতে পারে। এর ফলে রাজস্ব আদায়ে টান পড়বে। এ কারণে রাজস্ব প্রাক্কলন বাড়ানো হচ্ছে না। তবে করোনা থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এ উদ্যোগ ফল দেবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর ফলে পরের বছরগুলোতে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাসে কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়তে পারে

সর্বোচ্চ ঘাটতির বাজেট আজ

প্রকাশিত সময় : ১২:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুন ২০২১
জাতীয় সংসদে আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন হতে যাচ্ছে আজ। দেশের ৫০তম জাতীয় এ বাজেট হচ্ছে সর্বোচ্চ ঘাটতির। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল উপস্থাপন করবেন।
 অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, এবারের বাজেটের আকার হচ্ছে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। এতে ঘাটতির হার থাকছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। আর চলতি বছরের বাজেটের আকার ছিল ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতির হার ৬ শতাংশ। সে হিসাবে আগামী বছরের বাজেটের পরিমাণ বাড়ছে ৩৫ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি বাড়ছে দশমিক ২ শতাংশ।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মতো রাখার লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। লক্ষ্য পূরণে আগামী অর্থবছরে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কর্মহারা মানুষদের কর্মে ফিরে আনা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রতি বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
আগামী বাজেটে ব্যয়ের বিপরীতে মোট আয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছর মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা আছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে আয় বাড়ছে ১১ হাজার কোটি টাকা। মোট আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরেও এনবিআরকে একই পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া আছে। প্রথমবারের মতো এবারই এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা এক টাকাও বাড়ানো হচ্ছে না।
আগামী বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডবহির্ভূত কর থেকে আসবে ১৬ হাজার কোটি টাকা। আয়কর ব্যতীত প্রাপ্তি ধরা হচ্ছে ৪৩ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে বৈদেশিক অনুদান পাওয়ার পরিমাণ ধরা হচ্ছে ৩ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরে বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আবর্তক ব্যয় ধরা হচ্ছে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ বাবদ ব্যয় ধরা হচ্ছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। বিদেশি ঋণের সুদ ব্যয় ধরা হচ্ছে ছয় হাজার ৫৮৯ কোটি টাকা। ঘাটতি বাজেট পূরণে যথারীতি দেশের ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া হবে। এর বাইরে বিদেশি ঋণ নেওয়া হবে ঘাটতি পূরণে।
তথ্যানুযায়ী, অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ নেওয়া হচ্ছে এক লাখ ১৩ হাজার ৪৫৩ কোটি টাকা। অভ্যন্তরীণ খাতের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার ঋণ নেবে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেবে ৩২ হাজার কোটি টাকা। অন্যান্য খাত থেকে নেওয়া হবে পাঁচ হাজার এক কোটি টাকা। বাজেটে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ নেওয়া লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৭ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা।
বাজেটে সাধারণত ৫ শতাংশ হারে ঘাটতি থাকে। করোনা মহামারির কারণে এবারই প্রথম বাজেট ঘাটতি উঠেছিল ৬ শতাংশ। আজ উপস্থাপন করতে যাওয়া বাজেটে ঘাটতির হার উঠছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। মূলত রাজস্ব আদায় কমে যাওয়া, রপ্তানি আয়ে স্থবিরতা অন্যদিকে করোনা মহামারির অভিঘাত রোধে টিকা কেনা ও করোনা রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের কারণে বাজেটের খরচের খাত বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে বাজেট ঘাটতিতে।
ঘাটতি বাজেট অর্থনীতির জন্য ক্ষতির হিসাবে দেখা হলেও বাংলাদেশে জন্য আশীর্বাদ হিসাবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, দেশি-বিদেশি ঋণ নিলেও তা পূর্বের পরিমিত ঋণ থাকার কারণে ঋণ নেওয়া সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। ঘাটতি বাজেট হলো ব্যয় বেশি, আয় কম। আয় থকে ব্যয়ের পার্থক্যই হলো ঘাটতি। করোনা মোকাবিলা করার জন্য আগামী বছর এ হার কিছুটা বাড়ছে। তারপরও বাংলাদেশের জন্য এ ঘাটতি সমস্যা হবে না বলে মনে করেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৪০ শতাংশ। এটা ঋণের বোঝার পর্যায়ে পড়ে না এবং পরিশোধের হারও সন্তোষজনক। আসন্ন বাজেটে ৬ শতাংশের ঘাটতি বাজেট হলেও মোট ঋণের হার দাঁড়াবে জিডিপির ৪৬ শতাংশ। দেশের চলমান রেমিট্যান্স প্রবাহ, কৃষির উৎপাদন অব্যাহত ও করোনার মহামারীর মধ্যেও রপ্তানি আয়ে বড় ধরনের ক্ষতি না হওয়ার কারণে বাজেটের ঘাটতি পূরণে ঋণ নেওয়া দোষের কিছু হবে না। তবে ঋণ নিয়ে তা সঠিক জায়গায় খরচ নিশ্চিত করতে হবে। ঋণ নিয়ে যেন বিলাসিতা না করা হয়- সরকার কর্মকর্তাদের জন্য এয়ারকন্ডিশন গাড়ি না কেনা, সরকারি অফিসের শোভাবর্ধন না করা, বিদেশ সফর করা বা জীবন রক্ষাকারী যন্ত্রপাতি আমদানি করে তা বিমানবন্দরে না পড়ে থাকা নিশ্চিত করতে হবে।’
বাজেটে ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো বেশ কিছু খাতে রাজস্ব কমানো হচ্ছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চলতি অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় আগামী বাজেটেও করপোরেট করে ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তবে ঢালাওভাবে সব খাতে নয়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত শিল্পের কর কমানো হচ্ছে। অপরিবর্তিত থাকছে মার্চেন্ট ব্যাংক; সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি এবং তালিকাভুক্ত ও তালিকাবহির্ভূত মোবাইল কোম্পানির কর হার।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি করপোরেট কর ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ এবং তালিকাবহির্ভূত কোম্পানির কর সাড়ে ৩২ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ করা হতে পারে। এর ফলে রাজস্ব আদায়ে টান পড়বে। এ কারণে রাজস্ব প্রাক্কলন বাড়ানো হচ্ছে না। তবে করোনা থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এ উদ্যোগ ফল দেবে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র। এর ফলে পরের বছরগুলোতে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।