বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মারিউপলে ২০০ মরদেহ উদ্ধার

মারিউপলের একটি বেসমেন্ট থেকে কমপক্ষে ২০০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কিছুদিন আগে রাশিয়া দাবি করেছিল, মারিউপল এখন তাদের দখলে। মঙ্গলবার সেখানে একটি বাড়ির বেসমেন্ট থেকে অন্তত ২০০টি দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে মেয়রের অফিস থেকে জানানো হয়েছে। মেয়রের পরামর্শদাতা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাড়িটি থেকে পচা গন্ধ বার হচ্ছিল। বেসমেন্টে পৌঁছে দেখা যায়, শয়ে শয়ে দেহ সেখানে পচতে শুরু করেছে। দেহগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই দেহগুলির অধিকাংশই বেসামরিক ব্যক্তিদের।

এর আগে বুচায় গণকবর পাওয়া গেছিল। মারিউপলের ঘটনাও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। উল্লেখ্য, মারিউপলের একটি স্টিল কারখানা থেকে শেষ লড়াই চালাচ্ছিল ইউক্রেনের সেনারা। গত সপ্তাহে আহত সেই সেনাদের উদ্ধার করে রাশিয়ার দখলে থাকা এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ওই সেনাদের রাশিয়া বন্দি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর ডয়েচে ভেলের।

মঙ্গলবার রাতে দৈনিক ভিডিওবার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দনবাস অঞ্চলের পরিস্থিতি ভয়াবহ। রাশিয়া সমস্ত শক্তি দিয়ে লাইমান, পপাসনা, সেভারোদনেৎস্ক অঞ্চলে লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া ওই অঞ্চলের সবকিছু সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে চাইছে। বিদেশি শক্তির কাছে ভারি অস্ত্র চেয়েছেন জেলেনস্কি। জানিয়েছেন, ভারি অস্ত্রের সাহায্যেই ওই অঞ্চলে রাশিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হবে। এমএলআর, ট্যাঙ্ক এবং জাহাজ ধ্বংসকারী অস্ত্র চেয়েছেন জেলেনস্কি।

এদিন জেলেনস্কি বলেছেন, “২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া আক্রমণ এবং দখল করে রাশিয়া প্রথম ভুল করেছিল। এবার খেরসন, মেলিটোপল তারা দখল করেছে। ক্রাইমিয়া-সহ এই সমস্ত অঞ্চল এবার তাদের ফেরত দিতে হবে। ওই সমস্ত অঞ্চলে রাশিয়া নিজেদের প্রভু বলে মনে করে, এবার তার অবসান হবে।”

ফ্রান্স ইউক্রেনের সেনার হাতে ফরাসি হাউইৎসার সিজার তুলে দিয়েছে। প্রপেলার লাগানো এই অস্ত্র ২০ কিলোমিটার দূরে শত্রুর কাঠামো ধ্বংস করতে পারে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, ফ্রান্সের দেওয়া ওই অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে গেছে। ওই অস্ত্রের সাহায্যে রাশিয়াকে বেশ কিছু জায়গায় বেগ দেওয়া গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সেনা প্রধানের বক্তব্য, ফরাসি হাউইৎসারের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, তাতে চাকা লাগানো আছে। ফলে খুব সহজে তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়। বস্তুত, ইউক্রেনের সেনা জায়গা বদলে বদলে ওই অস্ত্র ব্যবহার করায় লাভ বেশি হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর জন্য ফ্রান্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মারিউপলে ২০০ মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত সময় : ১১:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

মারিউপলের একটি বেসমেন্ট থেকে কমপক্ষে ২০০টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। কিছুদিন আগে রাশিয়া দাবি করেছিল, মারিউপল এখন তাদের দখলে। মঙ্গলবার সেখানে একটি বাড়ির বেসমেন্ট থেকে অন্তত ২০০টি দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে মেয়রের অফিস থেকে জানানো হয়েছে। মেয়রের পরামর্শদাতা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাড়িটি থেকে পচা গন্ধ বার হচ্ছিল। বেসমেন্টে পৌঁছে দেখা যায়, শয়ে শয়ে দেহ সেখানে পচতে শুরু করেছে। দেহগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ওই দেহগুলির অধিকাংশই বেসামরিক ব্যক্তিদের।

এর আগে বুচায় গণকবর পাওয়া গেছিল। মারিউপলের ঘটনাও নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। উল্লেখ্য, মারিউপলের একটি স্টিল কারখানা থেকে শেষ লড়াই চালাচ্ছিল ইউক্রেনের সেনারা। গত সপ্তাহে আহত সেই সেনাদের উদ্ধার করে রাশিয়ার দখলে থাকা এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ওই সেনাদের রাশিয়া বন্দি করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। খবর ডয়েচে ভেলের।

মঙ্গলবার রাতে দৈনিক ভিডিওবার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, দনবাস অঞ্চলের পরিস্থিতি ভয়াবহ। রাশিয়া সমস্ত শক্তি দিয়ে লাইমান, পপাসনা, সেভারোদনেৎস্ক অঞ্চলে লাগাতার আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। জেলেনস্কির অভিযোগ, রাশিয়া ওই অঞ্চলের সবকিছু সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিতে চাইছে। বিদেশি শক্তির কাছে ভারি অস্ত্র চেয়েছেন জেলেনস্কি। জানিয়েছেন, ভারি অস্ত্রের সাহায্যেই ওই অঞ্চলে রাশিয়ার সঙ্গে লড়াই করতে হবে। এমএলআর, ট্যাঙ্ক এবং জাহাজ ধ্বংসকারী অস্ত্র চেয়েছেন জেলেনস্কি।

এদিন জেলেনস্কি বলেছেন, “২০১৪ সালে ক্রাইমিয়া আক্রমণ এবং দখল করে রাশিয়া প্রথম ভুল করেছিল। এবার খেরসন, মেলিটোপল তারা দখল করেছে। ক্রাইমিয়া-সহ এই সমস্ত অঞ্চল এবার তাদের ফেরত দিতে হবে। ওই সমস্ত অঞ্চলে রাশিয়া নিজেদের প্রভু বলে মনে করে, এবার তার অবসান হবে।”

ফ্রান্স ইউক্রেনের সেনার হাতে ফরাসি হাউইৎসার সিজার তুলে দিয়েছে। প্রপেলার লাগানো এই অস্ত্র ২০ কিলোমিটার দূরে শত্রুর কাঠামো ধ্বংস করতে পারে। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রধান জানিয়েছেন, ফ্রান্সের দেওয়া ওই অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছে গেছে। ওই অস্ত্রের সাহায্যে রাশিয়াকে বেশ কিছু জায়গায় বেগ দেওয়া গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

সেনা প্রধানের বক্তব্য, ফরাসি হাউইৎসারের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, তাতে চাকা লাগানো আছে। ফলে খুব সহজে তা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া যায়। বস্তুত, ইউক্রেনের সেনা জায়গা বদলে বদলে ওই অস্ত্র ব্যবহার করায় লাভ বেশি হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এর জন্য ফ্রান্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।