বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামরিক বাহিনীকে জনমুখী করতে সরকার দায়বদ্ধ: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ই রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করে তুলবে। সরকারসামরিক বাহিনীকে জনমুখী করে তুলতে দায়বদ্ধ ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের প্রতিরক্ষা বিষয়ক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সম্মেলনের দিকনির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জনগণের সেবা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে। দেশের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসকদের নিরলস পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয়।

সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সুদৃঢ় সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। একটি আধুনিক, আত্মমর্যাদাশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন এবং কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় জরুরী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে, যখন সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনী মাসের পর মাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, ব্যাংক, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বজায় রেখে তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার একটি পেশাদার, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সশস্ত্র বাহিনীকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতমূলক, অনিয়ন্ত্রিত বা ব্যক্তিস্বার্থনির্ভর সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেবে না। জাতীয় স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমানের নির্দেশিত পথ অনুসরণে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান ।

ড. শামছুল ইসলাম জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, পেশাদার ও শক্তিশালী করার বিষয়টি জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডিসিদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিগত নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জেলা প্রশাসকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ‍উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সামরিক বাহিনীকে জনমুখী করতে সরকার দায়বদ্ধ: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রকাশিত সময় : ০৭:১৫:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা ও সমন্বয়ই রাষ্ট্রকে আরও শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করে তুলবে। সরকারসামরিক বাহিনীকে জনমুখী করে তুলতে দায়বদ্ধ ।

মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের প্রতিরক্ষা বিষয়ক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক সম্মেলন দেশের প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ সম্মেলনের দিকনির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে জনগণের সেবা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে। দেশের উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনকল্যাণ নিশ্চিতকরণে জেলা প্রশাসকদের নিরলস পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধ প্রশংসনীয়।

সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা একটি সুদৃঢ় সিভিল-মিলিটারি সম্পর্ক দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। একটি আধুনিক, আত্মমর্যাদাশীল ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় নিরাপত্তা, সুশাসন এবং কার্যকর প্রশাসনিক সমন্বয় জরুরী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই বেসামরিক প্রশাসনের সহায়তায় নিজেদের সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে, যখন সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠান প্রত্যাশিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছিল, তখন সশস্ত্র বাহিনী মাসের পর মাস দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করেছে। সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়, ব্যাংক, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতি বজায় রেখে তারা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জননিরাপত্তা সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার একটি পেশাদার, দক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সশস্ত্র বাহিনীকে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকার কোনো অবস্থাতেই পক্ষপাতমূলক, অনিয়ন্ত্রিত বা ব্যক্তিস্বার্থনির্ভর সিদ্ধান্তকে জাতীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেবে না। জাতীয় স্বার্থই হবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে যোগ্য উত্তরসূরী তারেক রহমানের নির্দেশিত পথ অনুসরণে একটি ঐক্যবদ্ধ, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানান ।

ড. শামছুল ইসলাম জানান, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও আধুনিক, পেশাদার ও শক্তিশালী করার বিষয়টি জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অবহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ডিসিদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বিগত নির্বাচনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জেলা প্রশাসকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান ও বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ‍উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ আশরাফ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।