প্রকাশিত সময় :
০৬:২১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
১৫
দেশে গত এক মাসে সড়ক দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। এপ্রিল মাসজুড়ে সড়কপথে ৪৬৩টি দুর্ঘটনায় ৪০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। যার মধ্যে ৫৩ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছে। এছাড়া এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭০৯ জন।
আজ বুধবার (০৬ মে) নয়টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘রোড সেফটি ফাউন্ডেশন’।
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার সর্বোচ্চ
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বরাবরের মতোই সড়কে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। মাসজুড়ে ১৪২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১১৩ জন, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ২৮ শতাংশ। এছাড়া পথচারীদের প্রাণহানিও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে; সড়ক পারাপার বা হাঁটার সময় ১০২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বিভাগওয়ারী চিত্র ও সড়কের ধরন
পরিসংখ্যান বলছে, রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এ বিভাগে ১০৯টি দুর্ঘটনায় ১০২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগরীতেই ৩৬টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে সিলেট বিভাগে।
দুর্ঘটনার স্থান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৪২ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে এবং ৩৬ শতাংশের বেশি জাতীয় মহাসড়কে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে (৪১.৯০ শতাংশ) চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে এই প্রাণহানি ঘটেছে।
পেশাজীবীদের মৃত্যু ও অন্যান্য মাধ্যম
নিহতদের মধ্যে পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মাসে ৪৯ জন শিক্ষার্থী ছাড়াও চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক এবং ধানকাটা শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া রেলপথে ৩৪টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন এবং নৌ-দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিকার
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকদের বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাই এসব দুর্ঘটনার মূল কারণ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংস্থাটি ১২ দফা সুপারিশ পেশ করেছে। এর মধ্যে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন, বিআরটিএ-র কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা, মহাসড়কে পৃথক সার্ভিস রোড নির্মাণ এবং একটি সমন্বিত যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির মতে, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকারের জোরালো রাজনৈতিক সদিচ্ছা অপরিহার্য।